☪কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে
🌐

আসমানি কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান

আল্লাহ যুগে যুগে নবী-রাসুলদের মাধ্যমে মানবজাতির হিদায়াতের জন্য কিতাব নাজিল করেছেন। সব আসমানি কিতাবের প্রতি ঈমান আনা ঈমানের তৃতীয় রুকন। আর সর্বশেষ কিতাব আল-কুরআন পূর্ববর্তী সব কিতাবের সত্যায়নকারী ও সংরক্ষক। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে আসমানি কিতাবসমূহের প্রতি ঈমানের পরিচয় তুলে ধরা হলো।

📑 সূচিপত্র

  1. সব কিতাবের প্রতি ঈমান
  2. কুরআনে উল্লিখিত কিতাবসমূহ
  3. কুরআন: সত্যায়নকারী ও সংরক্ষক
  4. কুরআনের অনন্য সংরক্ষণ
  5. কুরআনের চ্যালেঞ্জ
  6. পূর্ববর্তী কিতাবের বর্ণনার ব্যাপারে নীতি

সব কিতাবের প্রতি ঈমান

কুরআন

قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنزِلَ إِلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَىٰ وَعِيسَىٰ وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِن رَّبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ

“তোমরা বলো: আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি, আমাদের প্রতি যা নাজিল হয়েছে তার প্রতি, ইবরাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরদের প্রতি যা নাজিল হয়েছে তার প্রতি, আর মুসা, ঈসা ও অন্য নবীদের তাঁদের রবের পক্ষ থেকে যা দেওয়া হয়েছে তার প্রতি। আমরা তাঁদের কারও মধ্যে পার্থক্য করি না, আর আমরা তাঁরই অনুগত।”

সূরা আল-বাকারা ২:১৩৬

কুরআনে উল্লিখিত কিতাবসমূহ

  • তাওরাত: মুসা (আ.)-এর ওপর নাজিলকৃত (৩:৩; ৫:৪৪)।
  • যাবুর: দাউদ (আ.)-কে প্রদত্ত, “আর আমি দাউদকে যাবুর দিয়েছি” (৪:১৬৩)।
  • ইনজিল: ঈসা (আ.)-এর ওপর নাজিলকৃত (৩:৩; ৫:৪৬)।
  • সুহুফে ইবরাহিম ও মুসা: “নিশ্চয়ই এটি আছে পূর্ববর্তী সহিফাসমূহে, ইবরাহিম ও মুসার সহিফায়” (৮৭:১৮–১৯)।
  • আল-কুরআন: সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর ওপর নাজিলকৃত সর্বশেষ কিতাব।

এর বাইরেও আল্লাহ অন্য নবীদের কিতাব দিয়েছেন। যেগুলোর নাম কুরআনে এসেছে সেগুলোর প্রতি নির্দিষ্টভাবে, আর বাকিগুলোর প্রতি সামগ্রিকভাবে ঈমান আনা জরুরি।

কুরআন: সত্যায়নকারী ও সংরক্ষক

কুরআন

وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ

“আর আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাজিল করেছি, যা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর ওপর তত্ত্বাবধায়ক (সংরক্ষক)।”

সূরা আল-মায়িদা ৫:৪৮

কুরআনের অনন্য সংরক্ষণ

কুরআন

إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ

“নিশ্চয়ই আমিই এই যিকির (কুরআন) নাজিল করেছি, আর আমিই এর সংরক্ষক।”

সূরা আল-হিজর ১৫:৯

পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর সংরক্ষণের দায়িত্ব মানুষের ওপর ছিল (৫:৪৪), কিন্তু কুরআনের সংরক্ষণের দায়িত্ব আল্লাহ নিজে নিয়েছেন। তাই চৌদ্দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে কুরআন অবিকৃত রয়েছে, আর পৃথিবীর লাখো মানুষ তা মুখস্থ ধারণ করে আছেন।

কুরআনের চ্যালেঞ্জ

কুরআন

أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ ۚ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا

“তারা কি কুরআন নিয়ে চিন্তা করে না? এটি যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক অসংগতি খুঁজে পেত।”

সূরা আন-নিসা ৪:৮২

আল্লাহ সন্দেহকারীদের চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন, তারা যেন কুরআনের মতো একটি সূরা হলেও রচনা করে আনে (সূরা আল-বাকারা ২:২৩)।

পূর্ববর্তী কিতাবের বর্ণনার ব্যাপারে নীতি

হাদিস

আহলে কিতাবরা হিব্রু ভাষায় তাওরাত পড়ত এবং মুসলিমদের জন্য আরবিতে ব্যাখ্যা করত। নবীজি ﷺ বললেন: “তোমরা আহলে কিতাবদের (এসব বর্ণনা) সত্যও বোলো না, মিথ্যাও বোলো না। বরং বলো: আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং আমাদের প্রতি যা নাজিল হয়েছে তার প্রতি…”

সহিহ বুখারি, হাদিস ৪৪৮৫ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত

অর্থাৎ আমরা পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর মূল অবতরণের প্রতি ঈমান রাখি। আর বর্তমানে প্রচলিত বর্ণনার যা কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে মেলে তা সত্য, যা বিরোধী তা প্রত্যাখ্যাত, আর যার ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহ নীরব, সে ব্যাপারে আমরা নীরব থাকি।

আমাদের দায়িত্ব: সব আসমানি কিতাবের প্রতি সম্মান রাখা, আর সর্বশেষ কিতাব আল-কুরআনকে জীবনের পথনির্দেশ হিসেবে গ্রহণ করা: তিলাওয়াত, অনুধাবন ও আমলের মাধ্যমে।

📚 তথ্যসূত্র

আল-কুরআন: ২:২৩, ২:১৩৬, ৩:৩, ৪:৮২, ৪:১৬৩, ৫:৪৪, ৫:৪৬, ৫:৪৮, ১৫:৯, ৮৭:১৮–১৯ • সহিহ বুখারি: ৪৪৮৫

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *