দ্বীনি নসিহায় প্রতিটি আলোচনা কুরআনুল কারিম ও সহিহ হাদিসের ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়। পাঠক যাতে প্রতিটি দলিল নিজে মিলিয়ে নিতে পারেন, সেজন্য আমরা নিচের নীতিমালা অনুসরণ করি।
১. কুরআনের আয়াতের রেফারেন্স
প্রতিটি আয়াতের সঙ্গে সূরার নাম এবং সূরা নম্বর:আয়াত নম্বর দেওয়া হয়। যেমন “সূরা আল-বাকারা ২:১৮৩” মানে দ্বিতীয় সূরার ১৮৩ নম্বর আয়াত। আয়াত নম্বর আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত কুফি গণনা অনুযায়ী, যা মদিনার বাদশাহ ফাহাদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্সের মুসহাফে ব্যবহৃত।
বাংলা অনুবাদ হলো অর্থের অনুবাদ (তরজমাতুল মাআনি)। এটি আল্লাহর কালামের হুবহু বিকল্প নয়।
২. হাদিসের রেফারেন্স
হাদিস নম্বর দেওয়া হয় আন্তর্জাতিকভাবে সর্বাধিক প্রচলিত নম্বর অনুযায়ী:
- সহিহ বুখারি: ফাতহুল বারি / মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির নম্বর (sunnah.com-এ যে নম্বর দেখা যায়)।
- সহিহ মুসলিম: মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির নম্বর।
- সুনান আবু দাউদ, জামে তিরমিজি, সুনান নাসাঈ, সুনান ইবনু মাজাহ: প্রচলিত আরবি সংস্করণের নম্বর, সঙ্গে হাদিসের মান (সহিহ / হাসান)।
৩. যে ধরনের হাদিস আমরা ব্যবহার করি
আমরা মূলত সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের হাদিস ব্যবহার করি। অন্য গ্রন্থ থেকে হাদিস নিলে সেটি কেবল তখনই নেওয়া হয়, যখন মুহাদ্দিসগণ সেটিকে সহিহ বা হাসান বলেছেন, এবং সঙ্গে তার মানও উল্লেখ করা হয়। দুর্বল (জঈফ) বা জাল (মাওজু) বর্ণনা আমরা দলিল হিসেবে ব্যবহার করি না।
৪. ফিকহি মতভেদ
যেসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে, সেখানে আমরা কোনো একটি মত চাপিয়ে দিই না। মূল দলিল তুলে ধরি এবং পাঠককে নিজের এলাকার বিজ্ঞ আলেমের সঙ্গে পরামর্শ করার অনুরোধ করি।
৫. সংশোধন
মানুষ হিসেবে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। কোনো আয়াত, হাদিস নম্বর বা অনুবাদে ভুল চোখে পড়লে দয়া করে লেখার নিচে মন্তব্য করে জানান। যাচাই করে দ্রুত সংশোধন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
৬. নিজে যাচাই করার নির্ভরযোগ্য উৎস
- কুরআন: quran.com
- হাদিস: sunnah.com
- হাদিসের বিস্তারিত মান: dorar.net (আরবি)