উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। ন্যায়বিচার, দৃঢ়তা ও আল্লাহভীতির জন্য তিনি ইতিহাসে অনন্য। তাঁর ইসলাম গ্রহণে মুসলিমরা শক্তি পেয়েছিল, আর নবীজি ﷺ তাঁকে জ্ঞান ও দ্বীনের বিশেষ মর্যাদার সুসংবাদ দিয়েছেন। সহিহ হাদিসের আলোকে তাঁর মর্যাদা তুলে ধরা হলো।
- তাঁর ইসলাম গ্রহণে মুসলিমদের শক্তি
- শয়তানও তাঁর পথ এড়িয়ে চলে
- ইলহামপ্রাপ্ত ব্যক্তি
- জ্ঞানের বিশেষ অংশ
- জান্নাতে উমর (রা.)-এর প্রাসাদ
- যাঁর মতের সমর্থনে কুরআন নাজিল হয়েছে
তাঁর ইসলাম গ্রহণে মুসলিমদের শক্তি
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) বলেন: “উমর ইসলাম গ্রহণের পর থেকে আমরা সব সময় শক্তিশালী ও মর্যাদাবান ছিলাম।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬৮৪
শয়তানও তাঁর পথ এড়িয়ে চলে
নবীজি ﷺ উমর (রা.)-কে বলেছিলেন: “হে ইবনুল খাত্তাব, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! শয়তান যখনই তোমাকে কোনো পথে চলতে দেখে, তখনই সে তোমার পথ ছেড়ে অন্য পথ ধরে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬৮৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩৯৬ — সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত
ইলহামপ্রাপ্ত ব্যক্তি
“তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যে কিছু ‘মুহাদ্দাস’ (ইলহামপ্রাপ্ত ব্যক্তি) ছিলেন। আমার উম্মতের মধ্যে যদি কেউ থাকে, তবে সে উমর।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬৮৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩৯৮ — আবু হুরায়রা ও আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত
আলেমগণ ব্যাখ্যা করেছেন, “মুহাদ্দাস” মানে এমন ব্যক্তি, যাঁর অন্তরে আল্লাহ সঠিক চিন্তা ঢেলে দেন, ফলে তাঁর মতামত প্রায়ই সঠিক হয়। এটি নবুওয়াত নয়।
জ্ঞানের বিশেষ অংশ
“আমি ঘুমন্ত অবস্থায় (স্বপ্নে) দেখলাম, আমার কাছে এক পেয়ালা দুধ আনা হলো। আমি তা পান করলাম, এমনকি দেখলাম তৃপ্তির চিহ্ন আমার নখ দিয়ে বের হচ্ছে। তারপর অবশিষ্টাংশ উমর ইবনুল খাত্তাবকে দিলাম।” সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি এর কী ব্যাখ্যা করেন? তিনি বললেন: “জ্ঞান।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬৮১; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩৯১ — ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত
জান্নাতে উমর (রা.)-এর প্রাসাদ
“আমি জান্নাতে প্রবেশ করে একটি প্রাসাদ দেখলাম। জিজ্ঞেস করলাম, এটি কার? বলা হলো, উমর ইবনুল খাত্তাবের। আমি এতে প্রবেশ করতে চাইলাম, কিন্তু তোমার আত্মমর্যাদাবোধের কথা মনে পড়ল।” তখন উমর (রা.) কেঁদে বললেন: “হে আল্লাহর রাসুল, আপনার ব্যাপারেও কি আমি আত্মমর্যাদাবোধ করব?”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬৭৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩৯৪ — জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত (সংক্ষেপিত)
যাঁর মতের সমর্থনে কুরআন নাজিল হয়েছে
উমর (রা.) বলেছেন, তিনটি বিষয়ে আমার মত আমার রবের সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলে গেছে। এর একটি হলো, আমি বলেছিলাম: হে আল্লাহর রাসুল, যদি আমরা মাকামে ইবরাহিমকে নামাজের স্থান বানাতাম! তখন আয়াত নাজিল হলো: “আর তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে নামাজের স্থান বানাও” (২:১২৫; সহিহ বুখারি, হাদিস ৪০২)।
وَاتَّخِذُوا مِن مَّقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى
“আর তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে নামাজের স্থান বানাও।”
সূরা আল-বাকারা ২:১২৫
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ২:১২৫ • সহিহ বুখারি: ৪০২, ৩৬৭৯, ৩৬৮১, ৩৬৮৩, ৩৬৮৪, ৩৬৮৯ • সহিহ মুসলিম: ২৩৯১, ২৩৯৪, ২৩৯৬, ২৩৯৮
Leave a Reply