আবু বকর আস-সিদ্দিক (রা.) ছিলেন নবীজির ﷺ সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু, প্রথম খলিফা এবং পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের একজন। হিজরতের সঙ্গী, সব সম্পদ উৎসর্গকারী, আর নবীজির ﷺ ইন্তেকালের পর উম্মতকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখা নেতা। সহিহ হাদিসের আলোকে তাঁর জীবন ও মর্যাদা তুলে ধরা হলো।
- “সে সত্য বলেছে”
- নবীজির ﷺ সবচেয়ে প্রিয় মানুষ
- গুহার সঙ্গী
- সব সম্পদ আল্লাহর পথে
- এক দিনে চারটি নেক আমল
- নবীজির ﷺ ইন্তেকালের দিন দৃঢ়তা
“সে সত্য বলেছে”
নবীজি ﷺ বলেছেন: “আল্লাহ আমাকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছেন। তখন তোমরা বলেছিলে, তুমি মিথ্যা বলছ। আর আবু বকর বলেছিল, তিনি সত্য বলেছেন। সে তার জান ও মাল দিয়ে আমাকে সহযোগিতা করেছে। তোমরা কি আমার জন্য আমার সঙ্গীকে (কষ্ট দেওয়া) ছাড়বে না?”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬৬১ — আবুদ দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত
নবীজির ﷺ সব কথা নির্দ্বিধায় সত্য বলে মেনে নেওয়ার কারণেই তিনি “সিদ্দিক” (পরম সত্যবাদী) উপাধিতে ভূষিত হন।
নবীজির ﷺ সবচেয়ে প্রিয় মানুষ
আমর ইবনুল আস (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, মানুষের মধ্যে আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয় কে? তিনি বললেন: “আয়েশা।” জিজ্ঞেস করলেন, পুরুষদের মধ্যে? তিনি বললেন: “তার বাবা (আবু বকর)।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬৬২; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩৮৪
“আমি যদি আমার রব ছাড়া কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু (খলিল) হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবে আবু বকরকেই গ্রহণ করতাম। তবে (তার সঙ্গে) ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসা রয়েছে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬৫৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩৮২ — আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত
গুহার সঙ্গী
ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا
“তিনি ছিলেন দুজনের দ্বিতীয়জন, যখন তাঁরা দুজন গুহায় ছিলেন, আর তিনি তাঁর সঙ্গীকে বলছিলেন: দুঃখ কোরো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।”
সূরা আত-তাওবা ৯:৪০
কুরআনে আল্লাহ তাঁকে নবীজির ﷺ “সাহিব” (সঙ্গী) বলে উল্লেখ করেছেন। হিজরতের পুরো পরিকল্পনায় তিনি ও তাঁর পরিবার, অর্থাৎ পুত্র আব্দুল্লাহ ও কন্যা আসমা (রা.), গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন (সহিহ বুখারি ৩৯০৫)।
সব সম্পদ আল্লাহর পথে
নবীজি ﷺ দানের আহ্বান জানালে আবু বকর (রা.) তাঁর কাছে যা ছিল সব নিয়ে এলেন। নবীজি ﷺ জিজ্ঞেস করলেন: “পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?” তিনি বললেন: “তাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে রেখে এসেছি।”
সুনান আবু দাউদ, হাদিস ১৬৭৮; জামে তিরমিজি, হাদিস ৩৬৭৫ (হাসান) — উমর (রা.) থেকে বর্ণিত
এক দিনে চারটি নেক আমল
নবীজি ﷺ জিজ্ঞেস করলেন: “আজ তোমাদের মধ্যে কে রোজা রেখেছে?” আবু বকর (রা.) বললেন: আমি। “আজ কে জানাজায় অংশ নিয়েছে?” আবু বকর বললেন: আমি। “আজ কে মিসকিনকে খাবার দিয়েছে?” আবু বকর বললেন: আমি। “আজ কে অসুস্থকে দেখতে গেছে?” আবু বকর বললেন: আমি। তখন নবীজি ﷺ বললেন: “এই আমলগুলো যার মধ্যে একত্র হয়, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০২৮ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
নবীজির ﷺ ইন্তেকালের দিন দৃঢ়তা
নবীজির ﷺ ইন্তেকালের সংবাদে সাহাবিরা দিশাহারা হয়ে পড়লেন। আবু বকর (রা.) এসে নবীজির ﷺ চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে চুমু খেলেন। তারপর বের হয়ে আল্লাহর প্রশংসা করে বললেন: “শোনো! যে মুহাম্মাদের ﷺ ইবাদত করত, (সে জেনে রাখুক) মুহাম্মাদ ﷺ ইন্তেকাল করেছেন। আর যে আল্লাহর ইবাদত করত, (সে জেনে রাখুক) আল্লাহ চিরঞ্জীব, তিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না।” এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: “মুহাম্মাদ একজন রাসুল মাত্র, তাঁর আগেও বহু রাসুল গত হয়েছেন…” (৩:১৪৪)।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬৬৮ — আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত (সংক্ষেপিত)
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ৩:১৪৪, ৯:৪০ • সহিহ বুখারি: ৩৬৫৪, ৩৬৬১, ৩৬৬২, ৩৬৬৮, ৩৯০৫ • সহিহ মুসলিম: ১০২৮, ২৩৮২, ২৩৮৪ • আবু দাউদ ১৬৭৮ • তিরমিজি ৩৬৭৫
Leave a Reply