নবীজির ﷺ চরিত্র ছিল জীবন্ত কুরআন। তিনি ছিলেন সবচেয়ে কোমল, সবচেয়ে ক্ষমাশীল, সবচেয়ে বিনয়ী, অথচ দুনিয়ার বিলাসিতা থেকে সবচেয়ে দূরে। যাঁরা কাছ থেকে তাঁকে দেখেছেন, সেই সাহাবিদের সহিহ বর্ণনার আলোকে নবীজির ﷺ চরিত্র ও দৈনন্দিন জীবনের কিছু চিত্র তুলে ধরা হলো।
- তাঁর চরিত্র ছিল কুরআন
- খাদেমের সাক্ষ্য: দশ বছরে একবারও “উফ” নয়
- কাউকে আঘাত করেননি
- সহজ পথ বেছে নেওয়া, নিজের জন্য প্রতিশোধ নয়
- হাসিমুখ
- সাদামাটা জীবন
- ঘরে পরিবারের সহযোগী
তাঁর চরিত্র ছিল কুরআন
كَانَ خُلُقُهُ الْقُرْآنَ
সাদ ইবনু হিশাম (রহ.) আয়েশা (রা.)-কে নবীজির ﷺ চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন: তুমি কি কুরআন পড়ো না? “তাঁর চরিত্র ছিল কুরআন।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৭৪৬
অর্থাৎ কুরআনে যেসব উত্তম গুণের আদেশ এসেছে, তিনি ছিলেন তার বাস্তব প্রতিচ্ছবি। আর যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে, তিনি তা থেকে ছিলেন সবচেয়ে দূরে। আল্লাহ নিজেই সাক্ষ্য দিয়েছেন: “নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত” (৬৮:৪)।
খাদেমের সাক্ষ্য: দশ বছরে একবারও “উফ” নয়
আনাস (রা.) বলেন, আমি দশ বছর নবীজির ﷺ খেদমত করেছি। আল্লাহর কসম, তিনি কখনো আমাকে “উফ” পর্যন্ত বলেননি। কোনো কাজ করে ফেললে কখনো বলেননি, কেন এটা করলে? আর কোনো কাজ না করলেও বলেননি, কেন এটা করলে না?
সহিহ বুখারি, হাদিস ৬০৩৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩০৯
কাউকে আঘাত করেননি
আয়েশা (রা.) বলেন, আল্লাহর পথে জিহাদ ছাড়া নবীজি ﷺ কখনো নিজ হাতে কাউকে আঘাত করেননি, না কোনো নারীকে, না কোনো খাদেমকে।
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩২৮
সহজ পথ বেছে নেওয়া, নিজের জন্য প্রতিশোধ নয়
আয়েশা (রা.) বলেন, নবীজিকে ﷺ যখনই দুটি বিষয়ের মধ্যে একটি বেছে নিতে বলা হতো, তিনি সহজটিই গ্রহণ করতেন, যদি তা গুনাহ না হতো। আর গুনাহ হলে তিনি তা থেকে সবচেয়ে দূরে থাকতেন। তিনি কখনো নিজের ব্যক্তিগত কারণে প্রতিশোধ নেননি। তবে আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করা হলে আল্লাহর জন্য ব্যবস্থা নিতেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৫৬০; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩২৭
হাসিমুখ
জারির ইবনু আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, আমি ইসলাম গ্রহণের পর থেকে নবীজি ﷺ কখনো আমাকে তাঁর কাছে আসতে বাধা দেননি। আর যখনই আমাকে দেখেছেন, মুচকি হেসেছেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩০৩৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৪৭৫
সাদামাটা জীবন
আয়েশা (রা.) বলেন, নবীজির ﷺ বিছানা ছিল চামড়ার, যার ভেতরে খেজুর গাছের ছাল ভরা ছিল।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৪৫৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২০৮২
আয়েশা (রা.) তাঁর ভাগ্নে উরওয়াকে বলেছিলেন: আমরা নতুন চাঁদ দেখতাম, তারপর আরেকটি নতুন চাঁদ, এভাবে দুই মাসে তিনটি নতুন চাঁদ দেখতাম, অথচ আল্লাহর রাসুলের ﷺ ঘরগুলোতে (রান্নার জন্য) আগুন জ্বলত না। উরওয়া জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে আপনারা কী খেয়ে থাকতেন? তিনি বললেন: দুটি কালো জিনিস, খেজুর ও পানি।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৪৫৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৯৭২
আয়েশা (রা.) বলেন, নবীজি ﷺ যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর বর্মটি এক ইহুদির কাছে ত্রিশ সা যবের বিনিময়ে বন্ধক রাখা ছিল।
সহিহ বুখারি, হাদিস ২৯১৬
পুরো আরব উপদ্বীপের নেতা হয়েও তিনি এভাবে জীবনযাপন করেছেন। এটি অভাবের কারণে নয়, বরং দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি এবং যা পেতেন তা দান করে দেওয়ার কারণে।
ঘরে পরিবারের সহযোগী
আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, নবীজি ﷺ ঘরে কী করতেন? তিনি বললেন: তিনি পরিবারের কাজে সহযোগিতা করতেন। আর নামাজের সময় হলে নামাজের জন্য বের হয়ে যেতেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৭৬
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ৬৮:৪ • সহিহ বুখারি: ৬৭৬, ২৯১৬, ৩০৩৫, ৩৫৬০, ৬০৩৮, ৬৪৫৬, ৬৪৫৯ • সহিহ মুসলিম: ৭৪৬, ২০৮২, ২৩০৯, ২৩২৭, ২৩২৮, ২৪৭৫, ২৯৭২
Leave a Reply