☪কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে
🌐

নাপাকি পরিষ্কারের সুন্নাহ পদ্ধতি

নামাজের জন্য শরীর, পোশাক ও নামাজের স্থান নাপাকি (নাজাসাত) থেকে পবিত্র থাকা জরুরি। নবীজি ﷺ বিভিন্ন ধরনের নাপাকি পরিষ্কারের সহজ ও ব্যবহারিক পদ্ধতি শিখিয়েছেন। সহিহ হাদিসের আলোকে নাপাকি পরিষ্কারের মৌলিক সুন্নাহগুলো তুলে ধরা হলো।

📑 সূচিপত্র

  1. পোশাক পবিত্র রাখার নির্দেশ
  2. মাটিতে পেশাব: পানি ঢেলে দেওয়া
  3. পোশাকে রক্ত লাগলে
  4. কুকুর পাত্রে মুখ দিলে
  5. জুতায় নাপাকি লাগলে
  6. পেশাবের ছিটা থেকে সতর্কতা
  7. মজি বের হলে

পোশাক পবিত্র রাখার নির্দেশ

কুরআন

وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ

“আর আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন।”

সূরা আল-মুদ্দাসসির ৭৪:৪

মাটিতে পেশাব: পানি ঢেলে দেওয়া

হাদিস

এক বেদুইন মসজিদে পেশাব করতে শুরু করলে সাহাবিরা তাকে থামাতে উদ্যত হলেন। নবীজি ﷺ বললেন: “তাকে ছেড়ে দাও, আর তার পেশাবের ওপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও। কেননা তোমাদের পাঠানো হয়েছে সহজ করার জন্য, কঠিন করার জন্য নয়।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ২২০ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, মাটিতে তরল নাপাকি পড়লে তার ওপর পর্যাপ্ত পানি ঢেলে দিলে স্থানটি পবিত্র হয়ে যায়।

পোশাকে রক্ত লাগলে

হাদিস

এক নারী জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের কারও পোশাকে মাসিকের রক্ত লাগলে কী করবে? নবীজি ﷺ বললেন: “সে তা ঘষে তুলে ফেলবে, তারপর পানি দিয়ে রগড়াবে, তারপর ধুয়ে ফেলবে। এরপর সেই পোশাকে নামাজ পড়বে।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ২২৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৯১ — আসমা বিনতে আবি বকর (রা.) থেকে বর্ণিত

অর্থাৎ নাপাকি দূর করার জন্য পুরো পোশাক নয়, শুধু আক্রান্ত অংশ ভালোভাবে ধুয়ে নিলেই যথেষ্ট।

কুকুর পাত্রে মুখ দিলে

হাদিস

“তোমাদের কারও পাত্রে কুকুর মুখ দিলে তা পবিত্র করার নিয়ম হলো, পাত্রটি সাতবার ধোয়া, যার প্রথমবার মাটি দিয়ে।”

সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৭৯ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত; সাতবার ধোয়ার কথা সহিহ বুখারি ১৭২-এও এসেছে

জুতায় নাপাকি লাগলে

হাদিস

“তোমাদের কেউ যখন জুতা দিয়ে নাপাকি মাড়িয়ে ফেলে, তখন মাটিই তার জন্য পবিত্রকারী।”

সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৩৮৫ (শাইখ আলবানি: সহিহ) — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত

অর্থাৎ জুতার নিচে শুকনো বা সাধারণ ময়লা লাগলে মাটিতে ভালোভাবে ঘষে নিলেই তা পবিত্র হয়ে যায়।

পেশাবের ছিটা থেকে সতর্কতা

হাদিস

নবীজি ﷺ দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন, এদের দুজনকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। একজন পেশাব থেকে সতর্ক থাকত না, আর অন্যজন চোগলখুরি করত।

সহিহ বুখারি, হাদিস ২১৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৯২ — ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত (সংক্ষেপিত)

মজি বের হলে

হাদিস

আলি (রা.) বলেন, আমার প্রায়ই মজি (কামরস) বের হতো। আমি মিকদাদ (রা.)-কে নবীজিকে ﷺ জিজ্ঞেস করতে বললাম। নবীজি ﷺ বললেন: “এতে অজু করতে হবে” (আর লজ্জাস্থান ধুয়ে নিতে হবে)।

সহিহ বুখারি, হাদিস ২৬৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩০৩ (সংক্ষেপিত)

অর্থাৎ মজিতে গোসল ফরজ হয় না, শুধু আক্রান্ত স্থান ধুয়ে অজু করলেই যথেষ্ট।

মূলনীতি ও সতর্কতা: ইসলামে পবিত্রতার বিধান সহজতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। নাপাকি নিশ্চিতভাবে না জানলে শুধু সন্দেহে কাপড় নাপাক হয় না, আর অতিরিক্ত সন্দেহ ও ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। শিশুর পেশাব, কোন জিনিস নাপাক আর কোনটি নয়, এসব খুঁটিনাটি বিষয়ে মাজহাবগুলোর মধ্যে কিছু মতভেদ আছে। এ বিষয়ে আপনার অনুসৃত মাজহাব বা নির্ভরযোগ্য আলেমের মত অনুসরণ করুন।

📚 তথ্যসূত্র

আল-কুরআন: ৭৪:৪ • সহিহ বুখারি: ১৭২, ২১৬, ২২০, ২২৭, ২৬৯ • সহিহ মুসলিম: ২৭৯, ২৯১, ২৯২, ৩০৩ • আবু দাউদ ৩৮৫

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *