☪কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে
🌐

সম্পদ: পরীক্ষা ও আমানত

সম্পদ আল্লাহর দেওয়া আমানত, আর একই সঙ্গে বড় এক পরীক্ষা। নবীজি ﷺ বলেছেন, প্রত্যেক উম্মতের একটি ফিতনা আছে, আর এ উম্মতের ফিতনা হলো সম্পদ। সম্পদ কোথা থেকে এলো আর কোথায় গেল, কিয়ামতের দিন সে হিসাব দিতে হবে। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে সম্পদের প্রকৃত রূপ ও ধনীদের দায়িত্ব তুলে ধরা হলো।

📑 সূচিপত্র

  1. সম্পদ ও সন্তান পরীক্ষা
  2. এ উম্মতের ফিতনা
  3. তোমরা প্রতিনিধি মাত্র
  4. প্রকৃতপক্ষে তোমার সম্পদ কোনটি
  5. বেশি সম্পদশালীরাই কম সওয়াবের অধিকারী, তবে…
  6. দিনারের দাস
  7. যে ধনী ঈর্ষার যোগ্য

সম্পদ ও সন্তান পরীক্ষা

কুরআন

إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ ۚ وَاللَّهُ عِندَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ

“তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তো পরীক্ষা মাত্র। আর আল্লাহর কাছে রয়েছে মহা প্রতিদান।”

সূরা আত-তাগাবুন ৬৪:১৫

এ উম্মতের ফিতনা

হাদিস

إِنَّ لِكُلِّ أُمَّةٍ فِتْنَةً، وَفِتْنَةُ أُمَّتِي الْمَالُ

“প্রত্যেক উম্মতের জন্য একটি ফিতনা (পরীক্ষা) আছে, আর আমার উম্মতের ফিতনা হলো সম্পদ।”

জামে তিরমিজি, হাদিস ২৩৩৬ (হাসান সহিহ) — কাব ইবনু ইয়াদ (রা.) থেকে বর্ণিত

তোমরা প্রতিনিধি মাত্র

কুরআন

آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَأَنفِقُوا مِمَّا جَعَلَكُم مُّسْتَخْلَفِينَ فِيهِ

“তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনো, আর তিনি তোমাদের যে সম্পদের প্রতিনিধি বানিয়েছেন, তা থেকে খরচ করো।”

সূরা আল-হাদিদ ৫৭:৭

অর্থাৎ সম্পদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ, আমরা তাঁর নিযুক্ত তত্ত্বাবধায়ক। আগে অন্যরা এর মালিক ছিল, পরে অন্যরা হবে।

প্রকৃতপক্ষে তোমার সম্পদ কোনটি

হাদিস

নবীজি ﷺ সূরা আত-তাকাসুর তিলাওয়াত করে বললেন: “আদম সন্তান বলে, আমার সম্পদ, আমার সম্পদ! হে আদম সন্তান, তোমার সম্পদ তো শুধু সেটুকুই, যা তুমি খেয়ে শেষ করেছ, পরে পুরোনো করে ফেলেছ, অথবা সদকা করে আগে পাঠিয়ে দিয়েছ।”

সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৯৫৮ — আব্দুল্লাহ ইবনুশ শিখখির (রা.) থেকে বর্ণিত

বেশি সম্পদশালীরাই কম সওয়াবের অধিকারী, তবে…

হাদিস

“নিশ্চয়ই যারা বেশি সম্পদশালী, কিয়ামতের দিন তারাই (সওয়াবের দিক থেকে) কম পাবে। তবে তারা নয়, যারা সম্পদ এভাবে, এভাবে ও এভাবে (ডানে, বামে, সামনে ও পেছনে) খরচ করে। আর এমন লোক খুবই কম।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৪৪৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৪ — আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত (সংক্ষেপিত)

দিনারের দাস

হাদিস

تَعِسَ عَبْدُ الدِّينَارِ وَعَبْدُ الدِّرْهَمِ

“দিনারের দাস ও দিরহামের দাস ধ্বংস হোক। তাকে দেওয়া হলে সে সন্তুষ্ট হয়, আর না দেওয়া হলে অসন্তুষ্ট হয়।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ২৮৮৭ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত (সংক্ষেপিত)

অর্থাৎ সম্পদ যখন জীবনের লক্ষ্য হয়ে যায় এবং মানুষের সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি সম্পদের ওপর নির্ভর করে, তখন সে আসলে সম্পদের দাস হয়ে যায়।

যে ধনী ঈর্ষার যোগ্য

হাদিস

“কেবল দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রেই ঈর্ষা (গিবতা) করা যায়: এমন ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন এবং তাকে সত্যের পথে তা খরচ করার তাওফিক দিয়েছেন; আর এমন ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ হিকমত (জ্ঞান) দিয়েছেন, আর সে তা দিয়ে ফয়সালা করে এবং অন্যকে শেখায়।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ৭৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮১৬ — আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত

সম্পদশালীর দায়িত্ব: হালাল পথে উপার্জন করুন, সময়মতো যাকাত দিন, পরিবার ও আত্মীয়দের হক আদায় করুন, নিয়মিত সদকা করুন, আর সম্পদের কারণে অহংকার করবেন না। মনে রাখুন, কিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসা করা হবে: সম্পদ কোথা থেকে উপার্জন করেছ এবং কোথায় খরচ করেছ (জামে তিরমিজি ২৪১৭)।

📚 তথ্যসূত্র

আল-কুরআন: ৫৭:৭, ৬৪:১৫ • সহিহ বুখারি: ৭৩, ২৮৮৭, ৬৪৪৪ • সহিহ মুসলিম: ৯৪, ৮১৬, ২৯৫৮ • তিরমিজি: ২৩৩৬, ২৪১৭

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *