সফরে কষ্ট ও ব্যস্ততা থাকে, তাই আল্লাহ মুসাফিরের জন্য নামাজ সংক্ষিপ্ত (কসর) করার অনুমতি দিয়েছেন। নবীজি ﷺ একে বলেছেন আল্লাহর পক্ষ থেকে “সদকা”, যা গ্রহণ করা উচিত। সহিহ হাদিসের আলোকে সফরের নামাজের মৌলিক বিধান তুলে ধরা হলো।
- কসরের অনুমতি: কুরআনের আয়াত
- আল্লাহর দেওয়া সদকা
- নামাজের মূল রূপ
- নবীজি ﷺ ও খলিফাদের আমল
- দুই নামাজ একসঙ্গে আদায়
- বাহনে নফল নামাজ
- অসুস্থ ও মুসাফিরের পূর্ণ সওয়াব
কসরের অনুমতি: কুরআনের আয়াত
وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ
“আর যখন তোমরা জমিনে সফর করো, তখন নামাজ সংক্ষিপ্ত করলে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই…”
সূরা আন-নিসা ৪:১০১
আল্লাহর দেওয়া সদকা
ইয়ালা ইবনু উমাইয়া (রহ.) উমর (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, আয়াতে তো ভয়ের অবস্থার কথা বলা হয়েছে, এখন তো মানুষ নিরাপদ। উমর (রা.) বললেন, আমিও এতে বিস্মিত হয়েছিলাম এবং নবীজিকে ﷺ জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন: “এটি একটি সদকা, যা আল্লাহ তোমাদের দান করেছেন। সুতরাং তাঁর সদকা গ্রহণ করো।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৬৮৬
নামাজের মূল রূপ
আয়েশা (রা.) বলেন: “নামাজ প্রথমে দুই রাকাত দুই রাকাত করে ফরজ করা হয়েছিল। পরে সফরের নামাজ সেভাবেই রাখা হয়, আর মুকিম অবস্থার নামাজ বাড়ানো হয়।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৫০; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৬৮৫
অর্থাৎ সফরে চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ নামাজ (জোহর, আসর, ইশা) দুই রাকাত পড়তে হয়। ফজর ও মাগরিব অপরিবর্তিত থাকে।
নবীজি ﷺ ও খলিফাদের আমল
ইবনু উমর (রা.) বলেন, আমি নবীজির ﷺ সঙ্গে সফর করেছি, তিনি সফরে দুই রাকাতের বেশি পড়েননি। আবু বকর, উমর ও উসমান (রা.)-ও এমনই করেছেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস ১১০২ (সংক্ষেপিত)
আনাস (রা.) বলেন, আমরা নবীজির ﷺ সঙ্গে মদিনা থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলাম। তিনি মদিনায় ফেরা পর্যন্ত দুই রাকাত দুই রাকাত করে নামাজ পড়েছেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনারা মক্কায় কতদিন ছিলেন? তিনি বললেন: দশ দিন।
সহিহ বুখারি, হাদিস ১০৮১; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৬৯৩
দুই নামাজ একসঙ্গে আদায়
ইবনু উমর (রা.) বলেন, সফরে তাড়া থাকলে নবীজি ﷺ মাগরিব ও ইশা একসঙ্গে আদায় করতেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস ১১০৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৭০৩ (সংক্ষেপিত)
বাহনে নফল নামাজ
জাবির (রা.) বলেন, নবীজি ﷺ সফরে বাহনের ওপর নফল নামাজ পড়তেন, বাহন যেদিকেই মুখ করুক। কিন্তু ফরজ নামাজ পড়ার ইচ্ছা করলে নেমে কিবলামুখী হতেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৪০০; অনুরূপ সহিহ মুসলিম ৭০০ (সংক্ষেপিত)
অসুস্থ ও মুসাফিরের পূর্ণ সওয়াব
“বান্দা যখন অসুস্থ হয় বা সফরে থাকে, তখন সুস্থ ও মুকিম অবস্থায় সে যে আমল করত, তার সমপরিমাণ সওয়াব তার জন্য লেখা হয়।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ২৯৯৬ — আবু মুসা আল-আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ৪:১০১ • সহিহ বুখারি: ৩৫০, ৪০০, ১০৮১, ১১০২, ১১০৬, ২৯৯৬ • সহিহ মুসলিম: ৬৮৫, ৬৮৬, ৬৯৩, ৭০০, ৭০৩
Leave a Reply