☪কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে
🌐

সাপ্তাহিক ও মাসিক নফল রোজা

রমজানের পর সারা বছরজুড়ে নিয়মিত নফল রোজার অভ্যাস নবীজির ﷺ সুন্নাত। সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার, আর প্রতি মাসে তিন দিনের রোজা, এই সহজ আমলের মাধ্যমে সারা বছর রোজার সওয়াব পাওয়া যায়। সহিহ হাদিসের আলোকে সাপ্তাহিক ও মাসিক নফল রোজার ফজিলত তুলে ধরা হলো।

📑 সূচিপত্র

  1. সোমবার: নবীজির ﷺ জন্ম ও ওহির দিন
  2. সোমবার ও বৃহস্পতিবার: আমল পেশের দিন
  3. প্রতি মাসে তিন দিন: সারা বছরের সমান
  4. আইয়ামে বিজ: চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ
  5. নবীজির ﷺ নমনীয়তা
  6. শুধু জুমার দিন আলাদা করে নয়

সোমবার: নবীজির ﷺ জন্ম ও ওহির দিন

হাদিস

সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে নবীজি ﷺ বললেন: “এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি, আর এই দিনেই আমার ওপর (কুরআন) নাজিল হয়েছে।”

সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৬২ — আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত

সোমবার ও বৃহস্পতিবার: আমল পেশের দিন

হাদিস

تُعْرَضُ الْأَعْمَالُ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ، فَأُحِبُّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ

“সোমবার ও বৃহস্পতিবার (আল্লাহর কাছে) আমলসমূহ পেশ করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি, রোজা অবস্থায় আমার আমল পেশ করা হোক।”

জামে তিরমিজি, হাদিস ৭৪৭ (শাইখ আলবানি: সহিহ) — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত

প্রতি মাসে তিন দিন: সারা বছরের সমান

হাদিস

নবীজি ﷺ আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা.)-কে বলেছিলেন: “প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখো, কেননা প্রতিটি নেকি দশগুণ। ফলে এটি সারা বছর রোজা রাখার সমান হয়ে যায়।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯৭৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৫৯ (সংক্ষেপিত)

হিসাবটি সহজ: মাসে তিন দিন × দশগুণ সওয়াব = ত্রিশ দিন। এভাবে প্রতি মাসেই পুরো মাসের রোজার সওয়াব পাওয়া যায়।

হাদিস

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমার বন্ধু (নবীজি ﷺ) আমাকে তিনটি বিষয়ের ওসিয়ত করেছেন, যা আমি মৃত্যু পর্যন্ত ছাড়ব না: প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা, চাশতের দুই রাকাত নামাজ, এবং বিতর পড়ে ঘুমানো।

সহিহ বুখারি, হাদিস ১১৭৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৭২১

আইয়ামে বিজ: চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ

হাদিস

“হে আবু যর, তুমি যদি মাসে তিন দিন রোজা রাখতে চাও, তবে (চান্দ্র মাসের) তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখে রোজা রাখো।”

জামে তিরমিজি, হাদিস ৭৬১ (ইমাম তিরমিজি: হাসান) — আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত

এ তিন দিনকে “আইয়ামুল বিজ” (উজ্জ্বল দিনগুলো) বলা হয়, কারণ এ রাতগুলোতে চাঁদ পূর্ণ আলোকিত থাকে।

নবীজির ﷺ নমনীয়তা

হাদিস

মুআযা আল-আদাবিয়্যা (রহ.) আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, নবীজি ﷺ কি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখতেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। জিজ্ঞেস করলেন, মাসের কোন দিনগুলোতে? তিনি বললেন: মাসের কোন দিন রাখবেন, এ ব্যাপারে তিনি বিশেষ পরোয়া করতেন না।

সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৬০

অর্থাৎ আইয়ামে বিজ উত্তম, তবে মাসের যেকোনো তিন দিন রাখলেও এ সুন্নাত আদায় হয়ে যায়।

শুধু জুমার দিন আলাদা করে নয়

হাদিস

“তোমাদের কেউ যেন শুধু জুমার দিন রোজা না রাখে। তবে তার আগের দিন বা পরের দিনও রাখলে (সমস্যা নেই)।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯৮৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৪৪ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত

সহজ পরিকল্পনা: প্রথমে প্রতি মাসে তিন দিন (সম্ভব হলে ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) রোজা শুরু করুন। অভ্যাস হয়ে গেলে সপ্তাহে সোমবার বা বৃহস্পতিবার যোগ করুন। আগে রমজানের কাজা রোজা থাকলে তা আদায়কে অগ্রাধিকার দিন। আর নারীরা স্বামী উপস্থিত থাকলে তাঁর অনুমতি নিয়ে নফল রোজা রাখবেন (সহিহ বুখারি ৫১৯২)।

📚 তথ্যসূত্র

সহিহ বুখারি: ১১৭৮, ১৯৭৯, ১৯৮৫, ৫১৯২ • সহিহ মুসলিম: ৭২১, ১১৪৪, ১১৫৯, ১১৬০, ১১৬২ • তিরমিজি: ৭৪৭, ৭৬১

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *