পৃথিবীর সব মসজিদই আল্লাহর ঘর। তবে তিনটি মসজিদকে আল্লাহ বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন: মক্কার মসজিদুল হারাম, মদিনার মসজিদে নববি এবং জেরুজালেমের মসজিদুল আকসা। কেবল এই তিনটির উদ্দেশ্যেই বিশেষভাবে সফর করা যায়। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে এগুলোর মর্যাদা তুলে ধরা হলো।
- তিন মসজিদের উদ্দেশ্যে সফর
- কাবা: মানুষের জন্য প্রথম ঘর
- মসজিদুল হারামে নামাজের সওয়াব
- মসজিদে নববি ও রিয়াজুল জান্নাহ
- মসজিদুল আকসা
- জমজমের পানি
তিন মসজিদের উদ্দেশ্যে সফর
لَا تُشَدُّ الرِّحَالُ إِلَّا إِلَى ثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ: الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ، وَمَسْجِدِ الرَّسُولِ ﷺ، وَمَسْجِدِ الْأَقْصَى
“তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও (বিশেষ সওয়াবের আশায়) সফরের প্রস্তুতি নেওয়া যাবে না: মসজিদুল হারাম, রাসুলের ﷺ মসজিদ এবং মসজিদুল আকসা।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১১৮৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৩৯৭ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
কাবা: মানুষের জন্য প্রথম ঘর
إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِّلْعَالَمِينَ
“নিশ্চয়ই মানুষের (ইবাদতের) জন্য সর্বপ্রথম যে ঘর স্থাপন করা হয়েছে, তা মক্কায় অবস্থিত। এটি বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর জন্য হিদায়াত।”
সূরা আলে ইমরান ৩:৯৬
আবু যর (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন মসজিদ নির্মিত হয়েছে? নবীজি ﷺ বললেন: “মসজিদুল হারাম।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এরপর কোনটি? নবীজি ﷺ বললেন: “মসজিদুল আকসা।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, দুটির মধ্যে ব্যবধান কত? নবীজি ﷺ বললেন: “চল্লিশ বছর।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৩৬৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৫২০
মসজিদুল হারামে নামাজের সওয়াব
“আমার এই মসজিদে এক রাকাত নামাজ মসজিদুল হারাম ছাড়া অন্য মসজিদের এক হাজার নামাজের চেয়ে উত্তম। আর মসজিদুল হারামে এক রাকাত নামাজ অন্যান্য মসজিদের এক লক্ষ নামাজের চেয়ে উত্তম।”
সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস ১৪০৬ (শাইখ আলবানি: সহিহ) — জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত
মসজিদে নববি ও রিয়াজুল জান্নাহ
“আমার এই মসজিদে এক নামাজ মসজিদুল হারাম ছাড়া অন্য মসজিদের এক হাজার নামাজের চেয়ে উত্তম।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১১৯০; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৩৯৪ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
مَا بَيْنَ بَيْتِي وَمِنْبَرِي رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ
“আমার ঘর ও আমার মিম্বারের মধ্যবর্তী স্থানটি জান্নাতের বাগানগুলোর একটি বাগান।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১১৯৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৩৯১ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
মসজিদুল আকসা
سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَىٰ بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ
“পবিত্র ও মহিমাময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতের বেলা ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি।”
সূরা আল-ইসরা ১৭:১
মসজিদুল আকসা ছিল মুসলিমদের প্রথম কিবলা। নবীজি ﷺ ও সাহাবিরা হিজরতের পর ষোলো বা সতেরো মাস বাইতুল মাকদিসের দিকে ফিরে নামাজ পড়েছেন। এরপর কাবার দিকে কিবলা পরিবর্তিত হয় (সহিহ বুখারি, হাদিস ৪০; সূরা আল-বাকারা ২:১৪৪)।
জমজমের পানি
إِنَّهَا مُبَارَكَةٌ، إِنَّهَا طَعَامُ طُعْمٍ
জমজম সম্পর্কে নবীজি ﷺ বলেছেন: “নিশ্চয়ই এটি বরকতময়, এটি পেট ভরানো খাদ্য।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৪৭৩ — আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত। মক্কায় অবস্থানকালে আবু যর (রা.) প্রায় এক মাস শুধু জমজম পান করে কাটিয়েছিলেন।
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ২:১৪৪, ৩:৯৬, ১৭:১ • সহিহ বুখারি: ৪০, ১১৮৯, ১১৯০, ১১৯৬, ৩৩৬৬ • সহিহ মুসলিম: ৫২০, ১৩৯১, ১৩৯৪, ১৩৯৭, ২৪৭৩ • ইবনু মাজাহ ১৪০৬
Leave a Reply