দান শুধু টাকার পরিমাণের বিষয় নয়, এর পেছনের নিয়ত ও আদবই এর মূল্য নির্ধারণ করে। খোঁটা দিলে বা কষ্ট দিলে সদকা নষ্ট হয়ে যায়। আর সঠিক জায়গায় দিলে সওয়াব বহুগুণ বেড়ে যায়। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে দানের আদব ও উত্তম খাতগুলো তুলে ধরা হলো।
- প্রিয় জিনিস থেকে দান
- খোঁটা ও কষ্ট দিয়ে দান নষ্ট করবেন না
- গোপন দানের মর্যাদা
- কাদের দিয়ে শুরু করবেন
- উত্তম দানের সময়
- ছোট দানও তুচ্ছ নয়
প্রিয় জিনিস থেকে দান
لَن تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّىٰ تُنفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ
“তোমরা কখনো প্রকৃত কল্যাণ লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমাদের প্রিয় জিনিস থেকে ব্যয় করো।”
সূরা আলে ইমরান ৩:৯২
খোঁটা ও কষ্ট দিয়ে দান নষ্ট করবেন না
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُبْطِلُوا صَدَقَاتِكُم بِالْمَنِّ وَالْأَذَىٰ
“হে মুমিনগণ, খোঁটা দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে তোমরা তোমাদের দানকে নষ্ট কোরো না।”
সূরা আল-বাকারা ২:২৬৪
আগের আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, যে দানের পর কষ্ট দেওয়া হয়, তার চেয়ে ভালো কথা বলা এবং ক্ষমা করে দেওয়া উত্তম (সূরা আল-বাকারা ২:২৬৩)।
গোপন দানের মর্যাদা
إِن تُبْدُوا الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ ۖ وَإِن تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا الْفُقَرَاءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ
“তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান করো, তবে তা ভালো। আর যদি গোপনে করো এবং অভাবীদের দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম।”
সূরা আল-বাকারা ২:২৭১
কাদের দিয়ে শুরু করবেন
“ওপরের হাত (দাতার হাত) নিচের হাতের (গ্রহীতার হাতের) চেয়ে উত্তম। আর যাদের ভরণপোষণ তোমার দায়িত্বে, তাদের দিয়ে শুরু করো। সর্বোত্তম সদকা হলো যা প্রয়োজন মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থেকে দেওয়া হয়।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১৪২৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৩৪ — হাকিম ইবনু হিযাম (রা.) থেকে বর্ণিত
“একটি দিনার তুমি আল্লাহর পথে খরচ করলে, একটি দিনার দাসমুক্তিতে খরচ করলে, একটি দিনার মিসকিনকে দান করলে, আর একটি দিনার নিজের পরিবারের জন্য খরচ করলে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সওয়াব সেটিতে, যা তুমি পরিবারের জন্য খরচ করেছ।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৯৫ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদের (রা.) স্ত্রী যায়নাব (রা.) জানতে চাইলেন, স্বামী ও তত্ত্বাবধানে থাকা এতিমদের দান করা যাবে কি না। নবীজি ﷺ বললেন: “তাদের জন্য দুটি সওয়াব রয়েছে: আত্মীয়তার সওয়াব এবং সদকার সওয়াব।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১৪৬৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০০০
উত্তম দানের সময়
এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, কোন সদকার সওয়াব সবচেয়ে বেশি? নবীজি ﷺ বললেন: “সুস্থ অবস্থায়, যখন তোমার মনে সম্পদের লোভ আছে, তুমি দারিদ্র্যের ভয় করো এবং ধনী হওয়ার আশা রাখো, তখন দান করা। দান করতে দেরি কোরো না, যতক্ষণ না প্রাণ কণ্ঠনালিতে পৌঁছে যায় আর তখন তুমি বলো, অমুককে এত, অমুককে এত।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১৪১৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৩২ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
“প্রতিদিন সকালে দুজন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাঁদের একজন বলেন: হে আল্লাহ, দানকারীকে তার বিনিময় দিন। আর অন্যজন বলেন: হে আল্লাহ, কৃপণের সম্পদ ধ্বংস করে দিন।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১৪৪২; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০১০ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
ছোট দানও তুচ্ছ নয়
اتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ
“তোমরা জাহান্নাম থেকে বাঁচো, অর্ধেক খেজুর দান করে হলেও।” মুসলিমের বর্ণনায় আরও আছে: “যে তা-ও পায় না, সে যেন একটি উত্তম কথার মাধ্যমে (জাহান্নাম থেকে বাঁচে)।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১৪১৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০১৬ — আদি ইবনু হাতিম (রা.) থেকে বর্ণিত
كُلُّ مَعْرُوفٍ صَدَقَةٌ
“প্রতিটি ভালো কাজই সদকা।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৬০২১ (জাবির রা. থেকে); সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০০৫ (হুযাইফা রা. থেকে)
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ২:২৬৩–২৬৪, ২:২৭১, ৩:৯২ • সহিহ বুখারি: ১৪১৭, ১৪১৯, ১৪২৭, ১৪৪২, ১৪৬৬, ৬০২১ • সহিহ মুসলিম: ৯৯৫, ১০০০, ১০০৫, ১০১০, ১০১৬, ১০৩২, ১০৩৪
Leave a Reply