তাকদিরের প্রতি ঈমান ঈমানের ছয় রুকনের একটি। ভালো-মন্দ সবকিছুই আল্লাহর জ্ঞান, লিখন ও ইচ্ছার অধীন। তাকদিরে বিশ্বাস মুমিনকে বিপদে ধৈর্যশীল আর সুখে কৃতজ্ঞ রাখে। তবে এটি আমল ছেড়ে দেওয়ার অজুহাত নয়। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে তাকদিরের সঠিক ধারণা তুলে ধরা হলো।
- সবকিছু নির্ধারিত পরিমাপে
- আসমান-জমিন সৃষ্টির আগেই লিখিত
- তাকদির আমল ছাড়ার অজুহাত নয়
- “যদি” বলার নিষেধাজ্ঞা
- পুরো উম্মত মিলেও ক্ষতি করতে পারবে না
- মুমিনের সব অবস্থাই কল্যাণকর
সবকিছু নির্ধারিত পরিমাপে
إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ
“নিশ্চয়ই আমি প্রতিটি জিনিস সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে।”
সূরা আল-কামার ৫৪:৪৯
مَا أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۗ وَمَن يُؤْمِن بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ
“আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো বিপদ আসে না। আর যে আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে, তিনি তার অন্তরকে সঠিক পথ দেখান।”
সূরা আত-তাগাবুন ৬৪:১১
পৃথিবীতে বা তোমাদের নিজেদের ওপর যে বিপদ আসে, তা সৃষ্টির আগেই একটি কিতাবে লেখা আছে। আল্লাহ এ কথা জানিয়েছেন, যাতে তোমরা হারানো জিনিসের জন্য হতাশ না হও এবং পাওয়া জিনিস নিয়ে অহংকার না করো (সূরা আল-হাদিদ ৫৭:২২–২৩)।
আসমান-জমিন সৃষ্টির আগেই লিখিত
“আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে সৃষ্টিজগতের তাকদির লিখে রেখেছেন।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬৫৩ — আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত
তাকদির আমল ছাড়ার অজুহাত নয়
নবীজি ﷺ বললেন: “তোমাদের প্রত্যেকের ঠিকানা জান্নাতে নাকি জাহান্নামে, তা লেখা হয়ে গেছে।” সাহাবিরা বললেন, তাহলে কি আমরা আমল ছেড়ে লেখার ওপর ভরসা করব? তিনি বললেন: “তোমরা আমল করতে থাকো। যাকে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে কাজ সহজ করে দেওয়া হয়।” এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: “অতএব, যে দান করে, তাকওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তম বিষয়কে সত্য বলে মেনে নেয়, আমি তার জন্য সহজ পথ সহজ করে দেব” (৯২:৫–৭)।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৪৯৪৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬৪৭ — আলি (রা.) থেকে বর্ণিত
“যদি” বলার নিষেধাজ্ঞা
“শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম ও আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়, যদিও উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ আছে। যা তোমার উপকারে আসে, তার প্রতি আগ্রহী হও, আল্লাহর সাহায্য চাও এবং অক্ষম হয়ে বসে থেকো না। যদি তোমার ওপর কোনো বিপদ আসে, তবে বোলো না: ‘যদি আমি এমন করতাম, তাহলে এমন হতো।’ বরং বলো:
قَدَرُ اللَّهِ، وَمَا شَاءَ فَعَلَ
‘এটি আল্লাহর নির্ধারণ, তিনি যা চেয়েছেন তা-ই করেছেন।’ কেননা ‘যদি’ শব্দটি শয়তানের কাজের দরজা খুলে দেয়।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬৬৪ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
পুরো উম্মত মিলেও ক্ষতি করতে পারবে না
“…যখন চাইবে, আল্লাহর কাছে চাইবে। যখন সাহায্য প্রার্থনা করবে, আল্লাহর কাছে করবে। জেনে রাখো, পুরো উম্মত যদি তোমার কোনো উপকার করার জন্য একত্র হয়, তবে আল্লাহ তোমার জন্য যা লিখে রেখেছেন তার বাইরে কোনো উপকার করতে পারবে না। আর তারা যদি তোমার কোনো ক্ষতি করার জন্য একত্র হয়, তবে আল্লাহ তোমার জন্য যা লিখে রেখেছেন তার বাইরে কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কলম তুলে নেওয়া হয়েছে এবং লেখার পাতাগুলো শুকিয়ে গেছে।”
জামে তিরমিজি, হাদিস ২৫১৬ (ইমাম তিরমিজি: হাসান সহিহ) — ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত
মুমিনের সব অবস্থাই কল্যাণকর
“মুমিনের ব্যাপারটি বড়ই আশ্চর্যজনক! তার সব বিষয়ই কল্যাণকর। আর এটি মুমিন ছাড়া আর কারও জন্য নয়। সুখের কিছু হলে সে শোকর করে, তাতে তার কল্যাণ হয়। আর দুঃখের কিছু হলে সে সবর করে, তাতেও তার কল্যাণ হয়।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৯৯৯ — সুহাইব (রা.) থেকে বর্ণিত
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ৫৪:৪৯, ৫৭:২২–২৩, ৬৪:১১, ৯২:৫–৭ • সহিহ বুখারি: ৪৯৪৯ • সহিহ মুসলিম: ২৬৪৭, ২৬৫৩, ২৬৬৪, ২৯৯৯ • তিরমিজি ২৫১৬
Leave a Reply