আল্লাহ মানুষের চেহারা ও সম্পদের দিকে তাকান না, তিনি তাকান অন্তর ও আমলের দিকে। অহংকার, হিংসা ও লোক দেখানো মনোভাবের মতো অন্তরের রোগ নেক আমলকেও নষ্ট করে দিতে পারে। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে আত্মশুদ্ধি (তাযকিয়াতুন নাফস) ও অন্তরের রোগের চিকিৎসা তুলে ধরা হলো।
- আত্মশুদ্ধিতেই সফলতা
- আল্লাহ অন্তরের দিকে তাকান
- নিয়তের বিশুদ্ধতা ও রিয়া
- অহংকার
- হিংসা ও বিদ্বেষ
- অন্তরের দৃঢ়তার দোয়া
আত্মশুদ্ধিতেই সফলতা
قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّاهَا وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّاهَا
“সে-ই সফল হয়েছে, যে নিজেকে (নফসকে) পরিশুদ্ধ করেছে। আর সে-ই ব্যর্থ হয়েছে, যে নিজেকে কলুষিত করেছে।”
সূরা আশ-শামস ৯১:৯–১০
يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ
“যেদিন সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া, যে আল্লাহর কাছে বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে আসবে।”
সূরা আশ-শুআরা ২৬:৮৮–৮৯
আল্লাহ অন্তরের দিকে তাকান
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের চেহারা ও সম্পদের দিকে তাকান না, বরং তিনি তাকান তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৬৪ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
অন্য হাদিসে এসেছে, শরীরে একটি গোশতের টুকরা আছে। তা ঠিক থাকলে পুরো শরীর ঠিক থাকে, আর তা নষ্ট হলে পুরো শরীর নষ্ট হয়ে যায়। সেটি হলো অন্তর (সহিহ বুখারি ৫২; সহিহ মুসলিম ১৫৯৯)।
নিয়তের বিশুদ্ধতা ও রিয়া
إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى
“সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে, যা সে নিয়ত করেছে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৯০৭ — উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত
কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম তিন ব্যক্তির বিচার করা হবে। প্রথমজন এমন ব্যক্তি, যে বীরত্ব দেখানোর জন্য লড়াই করে নিহত হয়েছে। দ্বিতীয়জন এমন ব্যক্তি, যে মানুষ তাকে আলেম বা কারি বলবে সেজন্য জ্ঞান অর্জন করেছে ও কুরআন পড়েছে। তৃতীয়জন এমন ব্যক্তি, যে মানুষ তাকে দানশীল বলবে সেজন্য দান করেছে। তাদের প্রত্যেককে বলা হবে, তোমাকে তো (দুনিয়াতেই) তা বলা হয়েছে। এরপর তাদের উপুড় করে টেনে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৯০৫ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত (সংক্ষেপিত)
অহংকার
“যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার আছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” এক ব্যক্তি বলল, মানুষ তো চায় তার পোশাক সুন্দর হোক, জুতা সুন্দর হোক। নবীজি ﷺ বললেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। অহংকার হলো সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছ মনে করা।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯১ — আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত
وَمَا تَوَاضَعَ أَحَدٌ لِلَّهِ إِلَّا رَفَعَهُ اللَّهُ
“যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৮৮ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
হিংসা ও বিদ্বেষ
لَا تَبَاغَضُوا، وَلَا تَحَاسَدُوا، وَلَا تَدَابَرُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا
“তোমরা পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ কোরো না, হিংসা কোরো না, একে অপরের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। বরং আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে যাও। কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা বৈধ নয়।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৬০৬৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৫৯ — আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত
অন্তরের দৃঢ়তার দোয়া
اللَّهُمَّ مُصَرِّفَ الْقُلُوبِ صَرِّفْ قُلُوبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ
“হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী আল্লাহ, আমাদের অন্তরগুলোকে আপনার আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে দিন।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬৫৪ — আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ২৬:৮৮–৮৯, ৯১:৯–১০ • সহিহ বুখারি: ১, ৫২, ৬০৬৫ • সহিহ মুসলিম: ৯১, ১৫৯৯, ১৯০৫, ১৯০৭, ২৫৫৯, ২৫৬৪, ২৫৮৮, ২৬৫৪
Leave a Reply