রাতের নামাজ (কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ) নেককারদের বৈশিষ্ট্য। ফরজ নামাজের পর এটিই সর্বোত্তম নামাজ। রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ বান্দাদের ডাকেন: কে আছ চাওয়ার, আমি দেব। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে তাহাজ্জুদের ফজিলত ও পদ্ধতি তুলে ধরা হলো।
- কুরআনে তাহাজ্জুদের নির্দেশ
- নেককারদের বৈশিষ্ট্য
- ফরজের পর শ্রেষ্ঠ নামাজ
- রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহর আহ্বান
- নবীজির ﷺ রাতের নামাজ
- বিতর নামাজ
কুরআনে তাহাজ্জুদের নির্দেশ
وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَّكَ عَسَىٰ أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُودًا
“আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়ুন, এটি আপনার জন্য অতিরিক্ত (ইবাদত)। আশা করা যায়, আপনার রব আপনাকে প্রশংসিত স্থানে প্রতিষ্ঠিত করবেন।”
সূরা আল-ইসরা ১৭:৭৯
নেককারদের বৈশিষ্ট্য
كَانُوا قَلِيلًا مِّنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
“তারা রাতের সামান্য অংশই ঘুমিয়ে কাটাত, আর শেষ রাতে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত।”
সূরা আয-যারিয়াত ৫১:১৭–১৮
আল্লাহ মুমিনদের পরিচয় দিয়েছেন এভাবে: তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে আলাদা থাকে, তারা ভয় ও আশা নিয়ে তাদের রবকে ডাকে। কেউ জানে না তাদের জন্য চোখজুড়ানো কী প্রতিদান লুকিয়ে রাখা হয়েছে (সূরা আস-সাজদা ৩২:১৬–১৭)।
ফরজের পর শ্রেষ্ঠ নামাজ
أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ شَهْرُ اللَّهِ الْمُحَرَّمُ، وَأَفْضَلُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ صَلَاةُ اللَّيْلِ
“রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৬৩ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহর আহ্বান
“আমাদের বরকতময় মহান রব প্রতি রাতে, যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বাকি থাকে, তখন দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন: কে আছ যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আছ যে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দেব? কে আছ যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব?”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১১৪৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৭৫৮ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
নবীজির ﷺ রাতের নামাজ
নবীজি ﷺ রাতে এত দীর্ঘ সময় নামাজে দাঁড়িয়ে থাকতেন যে তাঁর পা ফুলে যেত। আয়েশা (রা.) বললেন, আল্লাহ তো আপনার আগের ও পরের সব গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন, তবু কেন এত কষ্ট করেন? তিনি বললেন: “আমি কি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৪৮৩৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৮২০ — আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত
আয়েশা (রা.) বলেন, নবীজি ﷺ রমজানে ও রমজানের বাইরে (রাতের নামাজ) এগারো রাকাতের বেশি পড়তেন না। তিনি চার রাকাত পড়তেন, সেগুলোর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস কোরো না। তারপর আরও চার রাকাত পড়তেন, সেগুলোর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কেও জিজ্ঞেস কোরো না। তারপর তিন রাকাত পড়তেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস ১১৪৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৭৩৮
صَلَاةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى
“রাতের নামাজ দুই রাকাত দুই রাকাত করে। আর যখন তোমাদের কেউ ফজর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে, তখন সে এক রাকাত পড়বে, যা তার আদায়কৃত নামাজকে বিজোড় (বিতর) করে দেবে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৯৯০; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৭৪৯ — ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত
বিতর নামাজ
“যে আশঙ্কা করে যে শেষ রাতে উঠতে পারবে না, সে যেন রাতের প্রথম ভাগেই বিতর পড়ে নেয়। আর যে শেষ রাতে উঠার আশা রাখে, সে যেন শেষ রাতে বিতর পড়ে। কেননা শেষ রাতের নামাজে (ফেরেশতারা) উপস্থিত থাকেন, আর সেটিই উত্তম।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৭৫৫ — জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত
ফিকহি নোট: বিতরের রাকাত সংখ্যা ও পদ্ধতি নিয়ে মাজহাবগুলোর মধ্যে ভিন্নতা আছে। হানাফি মাজহাবে বিতর তিন রাকাত, এক সালামে পড়তে হয়। অন্যান্য মাজহাবে এক, তিন বা তার বেশি রাকাত পড়ার সুযোগ রয়েছে।
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ১৭:৭৯, ৩২:১৬–১৭, ৫১:১৭–১৮ • সহিহ বুখারি: ৯৯০, ১১৪৫, ১১৪৭, ৪৮৩৭ • সহিহ মুসলিম: ৭৩৮, ৭৪৯, ৭৫৫, ৭৫৮, ১১৬৩, ২৮২০
Leave a Reply