☪কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে
🌐

রমজানের শেষ দশক, লাইলাতুল কদর ও ইতিকাফ

রমজানের শেষ দশক পুরো মাসের সবচেয়ে মূল্যবান সময়। এর মধ্যেই রয়েছে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাত লাইলাতুল কদর। নবীজি ﷺ এই দশকে ইবাদতে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতেন এবং ইতিকাফ করতেন। সহিহ সূত্রে এই দশকের আমল তুলে ধরা হলো।

📑 সূচিপত্র

  1. সূরা আল-কদর
  2. শেষ দশকে নবীজির ﷺ পরিশ্রম
  3. লাইলাতুল কদর কখন খুঁজবেন
  4. লাইলাতুল কদরের দোয়া
  5. ইতিকাফ

সূরা আল-কদর

কুরআন

إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ ۝ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ ۝ تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ ۝ سَلَامٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ الْفَجْرِ

“নিশ্চয়ই আমি এটি (কুরআন) নাজিল করেছি কদরের রাতে। আপনি কি জানেন কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রাতে ফেরেশতারা ও রুহ (জিবরিল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে প্রতিটি বিষয় নিয়ে অবতরণ করেন। এ রাত শান্তিময়, ফজর উদয় পর্যন্ত।”

সূরা আল-কদর ৯৭:১–৫

শেষ দশকে নবীজির ﷺ পরিশ্রম

হাদিস

আয়েশা (রা.) বলেন, যখন (রমজানের) শেষ দশক শুরু হতো, তখন নবীজি ﷺ কোমর বেঁধে নিতেন (পূর্ণ প্রস্তুতি নিতেন), রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও জাগিয়ে দিতেন।

সহিহ বুখারি, হাদিস ২০২৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৭৪

হাদিস

আয়েশা (রা.) বলেন, নবীজি ﷺ শেষ দশকে ইবাদতে এমন পরিশ্রম করতেন, যা অন্য সময়ে করতেন না।

সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৭৫

লাইলাতুল কদর কখন খুঁজবেন

হাদিস

تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ

“তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ২০১৭ — আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত; অনুরূপ সহিহ মুসলিম ১১৬৯

নির্দিষ্ট কোনো একটি রাতকে নিশ্চিতভাবে লাইলাতুল কদর বলা যায় না। তাই শেষ দশকের সব রাত, বিশেষ করে বিজোড় রাতগুলো ইবাদতে কাটানো উচিত। যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় এ রাতে ইবাদত করে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয় (সহিহ বুখারি ১৯০১; সহিহ মুসলিম ৭৬০)।

লাইলাতুল কদরের দোয়া

দোয়া

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

“হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দিন।” আয়েশা (রা.) জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমি যদি লাইলাতুল কদর পাই, তবে কী বলব? নবীজি ﷺ তখন এ দোয়াটি শিখিয়ে দেন।

জামে তিরমিজি, হাদিস ৩৫১৩ (ইমাম তিরমিজি: হাসান সহিহ); সুনান ইবনু মাজাহ ৩৮৫০

ইতিকাফ

হাদিস

আয়েশা (রা.) বলেন, নবীজি ﷺ ইন্তেকাল পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। তাঁর পরে তাঁর স্ত্রীগণও ইতিকাফ করতেন।

সহিহ বুখারি, হাদিস ২০২৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৭২

কুরআন

وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ

“আর তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সঙ্গে মেলামেশা কোরো না।”

সূরা আল-বাকারা ২:১৮৭

ইতিকাফ মানে দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে আল্লাহর ঘরে ইবাদতে মগ্ন থাকা। ইতিকাফের শর্ত, সময় এবং নারীদের ইতিকাফের স্থান নিয়ে ফিকহি বিস্তারিত জানতে নির্ভরযোগ্য আলেমের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

শেষ দশকের পরিকল্পনা: প্রতি রাতে কিছুটা হলেও তাহাজ্জুদ পড়ুন, কুরআন তিলাওয়াত করুন, বেশি বেশি “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন…” দোয়াটি পড়ুন, প্রতি রাতে অল্প হলেও সদকা করুন, আর পরিবারকেও জাগিয়ে ইবাদতে শরিক করুন।

📚 তথ্যসূত্র

আল-কুরআন: ২:১৮৭, ৯৭:১–৫ • সহিহ বুখারি: ১৯০১, ২০১৭, ২০২৪, ২০২৬ • সহিহ মুসলিম: ৭৬০, ১১৬৯, ১১৭২, ১১৭৪, ১১৭৫ • তিরমিজি ৩৫১৩, ইবনু মাজাহ ৩৮৫০

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *