উম্মুল মুমিনিন খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.) ছিলেন নবীজির ﷺ প্রথম স্ত্রী এবং সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী। নবুওয়াতের কঠিনতম মুহূর্তে তিনিই প্রথম সান্ত্বনা দিয়েছেন, সম্পদ দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। আল্লাহ নিজে জিবরিলের মাধ্যমে তাঁকে সালাম পাঠিয়েছেন। সহিহ হাদিসের আলোকে তাঁর মর্যাদা তুলে ধরা হলো।
- প্রথম ওহির দিন প্রথম সান্ত্বনা
- পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নারীদের একজন
- আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাম
- জান্নাতে মুক্তার প্রাসাদ
- মৃত্যুর পরও নবীজির ﷺ ভালোবাসা
প্রথম ওহির দিন প্রথম সান্ত্বনা
হেরা গুহায় প্রথম ওহি নাজিলের পর নবীজি ﷺ কম্পিত হৃদয়ে ঘরে ফিরে খাদিজা (রা.)-কে বললেন, আমি নিজের ব্যাপারে আশঙ্কা করছি। খাদিজা (রা.) বললেন: “কখনো নয়, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আপনাকে কখনো অপমানিত করবেন না। আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন, অসহায়ের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বকে উপার্জন করে দেন, মেহমানের আপ্যায়ন করেন এবং ন্যায়ের পথে আসা বিপদে মানুষকে সাহায্য করেন।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩ — আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত (সংক্ষেপিত)
এরপর তিনিই নবীজিকে ﷺ নিজের চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবনু নাওফালের কাছে নিয়ে যান। বিপদের মুহূর্তে বিচক্ষণতা, সান্ত্বনা ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ, তিনটিই তাঁর মধ্যে ছিল।
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নারীদের একজন
خَيْرُ نِسَائِهَا مَرْيَمُ ابْنَةُ عِمْرَانَ، وَخَيْرُ نِسَائِهَا خَدِيجَةُ
“(তাঁর যুগের) নারীদের মধ্যে সর্বোত্তম ছিলেন মারইয়াম বিনতে ইমরান, আর (এ উম্মতের) নারীদের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন খাদিজা।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৪৩২; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৪৩০ — আলি (রা.) থেকে বর্ণিত
আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাম
জিবরিল (আ.) নবীজির ﷺ কাছে এসে বললেন: “হে আল্লাহর রাসুল, এই যে খাদিজা আসছেন, তাঁর সঙ্গে একটি পাত্রে তরকারি, খাবার বা পানীয় আছে। তিনি আপনার কাছে এলে তাঁকে তাঁর রবের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাবেন।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৮২০; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৪৩২ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
জান্নাতে মুক্তার প্রাসাদ
একই হাদিসে জিবরিল (আ.) আরও বলেন: “এবং তাঁকে জান্নাতে মুক্তার তৈরি এমন একটি ঘরের সুসংবাদ দিন, যেখানে কোনো হইচই নেই, কোনো ক্লান্তিও নেই” (সহিহ বুখারি ৩৮২০; সহিহ মুসলিম ২৪৩২)।
আলেমগণ বলেছেন, এই পুরস্কারের সঙ্গে তাঁর জীবনের সুন্দর মিল রয়েছে। তিনি কখনো নবীজির ﷺ সঙ্গে উচ্চস্বরে বিতর্ক করেননি এবং তাঁকে কষ্ট দেননি, বরং দাওয়াতের সব কষ্ট নিজে বহন করেছেন। তাই তাঁর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে হইচই ও ক্লান্তিমুক্ত ঘর।
মৃত্যুর পরও নবীজির ﷺ ভালোবাসা
আয়েশা (রা.) বলেন, নবীজির ﷺ স্ত্রীদের মধ্যে খাদিজা (রা.)-এর প্রতি আমার যতটা ঈর্ষা হতো, আর কারও প্রতি ততটা হতো না, অথচ আমি তাঁকে কখনো দেখিনি। কারণ নবীজি ﷺ প্রায়ই তাঁর কথা স্মরণ করতেন। কখনো ছাগল জবাই করে তার গোশত টুকরো টুকরো করে খাদিজা (রা.)-এর বান্ধবীদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন। আমি কখনো বলে ফেলতাম, পৃথিবীতে যেন খাদিজা ছাড়া আর কোনো নারী নেই! তখন তিনি বলতেন: “সে এমন ছিল, সে এমন ছিল, আর তার গর্ভেই আমার সন্তান হয়েছে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৮১৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৪৩৫ (সংক্ষেপিত)
সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় নবীজি ﷺ আরও বলেছেন: “আমাকে তাঁর ভালোবাসা দান করা হয়েছে” (সহিহ মুসলিম ২৪৩৫)।
📚 তথ্যসূত্র
সহিহ বুখারি: ৩, ৩৪৩২, ৩৮১৮, ৩৮২০ • সহিহ মুসলিম: ২৪৩০, ২৪৩২, ২৪৩৫
Leave a Reply