হায়েজ (মাসিক) ও নিফাস (সন্তান প্রসবের পরের রক্তস্রাব) নারীর স্বাভাবিক শারীরিক অবস্থা, যা আল্লাহ আদম-কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। ইসলাম এ সময় নারীর প্রতি সহজতা ও সম্মানের নির্দেশ দিয়েছে। সহিহ হাদিসের আলোকে এ বিষয়ের মৌলিক ও সর্বসম্মত বিধানগুলো তুলে ধরা হলো।
- আল্লাহর নির্ধারিত স্বাভাবিক বিষয়
- নামাজ ও রোজার বিধান
- কাজা: রোজা হবে, নামাজ নয়
- দাম্পত্য সম্পর্ক
- নবীজির ﷺ কোমল আচরণ
- হজ-উমরায় করণীয়
- ইস্তিহাজা (অসুস্থতাজনিত রক্তস্রাব)
আল্লাহর নির্ধারিত স্বাভাবিক বিষয়
হজের সফরে আয়েশা (রা.)-এর মাসিক শুরু হলে তিনি কাঁদছিলেন। নবীজি ﷺ বললেন: “এটি এমন একটি বিষয়, যা আল্লাহ আদমের কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং একজন হাজি যা যা করে, তুমিও তা-ই করো, শুধু (পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত) বাইতুল্লাহর তাওয়াফ কোরো না।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ২৯৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১২১১
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, এ অবস্থার জন্য কোনো নারীর লজ্জিত বা হীনম্মন্য হওয়ার কিছু নেই।
নামাজ ও রোজার বিধান
নবীজি ﷺ নারীদের উদ্দেশ্যে বললেন: “এমন কি নয় যে, যখন নারীর মাসিক হয়, তখন সে নামাজ পড়ে না এবং রোজাও রাখে না?”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩০৪ — আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত
অর্থাৎ হায়েজ ও নিফাস অবস্থায় নামাজ ও রোজা আদায় করা যায় না। এ ব্যাপারে আলেমদের ঐকমত্য রয়েছে।
কাজা: রোজা হবে, নামাজ নয়
মুআযা (রহ.) আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, মাসিকগ্রস্ত নারী রোজার কাজা করে, কিন্তু নামাজের কাজা করে না কেন? আয়েশা (রা.) বললেন: “আমাদের এমন হতো। তখন আমাদের রোজার কাজা আদায়ের আদেশ দেওয়া হতো, কিন্তু নামাজের কাজা আদায়ের আদেশ দেওয়া হতো না।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩৩৫; অনুরূপ সহিহ বুখারি ৩২১
এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ সহজতা, কারণ প্রতি মাসে কয়েক দিনের নামাজ কাজা করা কষ্টসাধ্য হতো।
দাম্পত্য সম্পর্ক
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ ۖ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ ۖ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطْهُرْنَ
“তারা আপনাকে মাসিক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, এটি কষ্টদায়ক অবস্থা। সুতরাং মাসিক অবস্থায় তোমরা স্ত্রীদের থেকে (সহবাস থেকে) দূরে থাকো, এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের কাছে যেয়ো না।”
সূরা আল-বাকারা ২:২২২
ইহুদিরা মাসিকের সময় স্ত্রীদের সঙ্গে একসঙ্গে খেত না এবং একঘরে থাকত না। এ বিষয়ে আয়াত নাজিল হলে নবীজি ﷺ বললেন: “সহবাস ছাড়া সবকিছুই করতে পারো।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩০২ — আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত
নবীজির ﷺ কোমল আচরণ
আয়েশা (রা.) বলেন, আমার মাসিক অবস্থায় নবীজি ﷺ আমার কোলে মাথা রেখে কুরআন তিলাওয়াত করতেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস ২৯৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩০১
নবীজি ﷺ আয়েশা (রা.)-কে মসজিদ থেকে একটি জায়নামাজ এনে দিতে বললেন। আয়েশা (রা.) বললেন, আমি তো মাসিক অবস্থায় আছি। নবীজি ﷺ বললেন: “তোমার মাসিক তো তোমার হাতে নয়।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৯৮
হজ-উমরায় করণীয়
ওপরের হাদিস অনুযায়ী, এ অবস্থায় নারীরা হজের সব কাজ করতে পারবেন, যেমন আরাফায় অবস্থান, মুজদালিফা, মিনা, যিকির ও দোয়া। শুধু পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাওয়াফ করবেন না (সহিহ বুখারি ২৯৪)।
ইস্তিহাজা (অসুস্থতাজনিত রক্তস্রাব)
ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশ (রা.) নবীজিকে ﷺ জানালেন, তাঁর রক্তস্রাব বন্ধ হয় না। নবীজি ﷺ বললেন: “এটি একটি শিরার রক্ত, মাসিক নয়। যখন তোমার মাসিকের (নির্দিষ্ট) সময় আসবে, নামাজ ছেড়ে দেবে। আর যখন তা শেষ হয়ে যাবে, রক্ত ধুয়ে (গোসল করে) নামাজ পড়বে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ২২৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩৩৩ — আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ২:২২২ • সহিহ বুখারি: ২২৮, ২৯৪, ২৯৭, ৩০৪, ৩২১ • সহিহ মুসলিম: ২৯৮, ৩০১, ৩০২, ৩৩৩, ৩৩৫, ১২১১
Leave a Reply