☪কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে
🌐

লজ্জাশীলতা ও ওয়াদা রক্ষা: ঈমানের দুই সৌন্দর্য

লজ্জাশীলতা (হায়া) মুমিনকে অশোভন কথা ও কাজ থেকে বিরত রাখে, আর ওয়াদা রক্ষা মানুষের প্রতি বিশ্বস্ততার প্রমাণ। দুটিই ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং নবীজির ﷺ চরিত্রের উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে এ দুটি গুণ তুলে ধরা হলো।

📑 সূচিপত্র

  1. লজ্জাশীলতা ঈমানের অংশ
  2. লজ্জা শুধুই কল্যাণ আনে
  3. নবুওয়াতের প্রাচীন বাণী
  4. নবীজির ﷺ লজ্জাশীলতা
  5. ওয়াদা পূরণের নির্দেশ
  6. ওয়াদা ভঙ্গ মুনাফিকির আলামত
  7. বিশ্বাসঘাতকতার পরিণতি

লজ্জাশীলতা ঈমানের অংশ

হাদিস

নবীজি ﷺ এক আনসারির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যিনি তাঁর ভাইকে বেশি লজ্জাশীলতার জন্য তিরস্কার করছিলেন। নবীজি ﷺ বললেন: “তাকে ছেড়ে দাও, কেননা লজ্জাশীলতা ঈমানের অংশ।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ২৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩৬ — ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত

লজ্জা শুধুই কল্যাণ আনে

হাদিস

الْحَيَاءُ لَا يَأْتِي إِلَّا بِخَيْرٍ

“লজ্জাশীলতা কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনে না।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ৬১১৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩৭ — ইমরান ইবনু হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত

আলেমগণ বলেছেন, প্রকৃত লজ্জা হলো আল্লাহর সামনে গুনাহ করতে লজ্জা পাওয়া এবং মানুষের সামনে অশোভন আচরণ করতে লজ্জা পাওয়া। সত্য কথা বলা, দ্বীনের প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা বা ভালো কাজ করতে লজ্জা পাওয়া প্রশংসনীয় লজ্জা নয়।

নবুওয়াতের প্রাচীন বাণী

হাদিস

إِنَّ مِمَّا أَدْرَكَ النَّاسُ مِنْ كَلَامِ النُّبُوَّةِ الْأُولَى: إِذَا لَمْ تَسْتَحْيِ فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ

“পূর্ববর্তী নবুওয়াতের বাণী থেকে মানুষ যা পেয়েছে, তার একটি হলো: যদি তোমার লজ্জা না থাকে, তবে যা ইচ্ছা তা-ই করো।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৪৮৩ — আবু মাসউদ আল-বাদরি (রা.) থেকে বর্ণিত

এর অর্থ হলো, লজ্জা হারিয়ে গেলে মানুষকে আর কোনো কিছুই মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারে না।

নবীজির ﷺ লজ্জাশীলতা

হাদিস

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, নবীজি ﷺ পর্দানশীন কুমারী মেয়ের চেয়েও বেশি লজ্জাশীল ছিলেন। তিনি কোনো কিছু অপছন্দ করলে আমরা তাঁর চেহারা দেখেই তা বুঝতে পারতাম।

সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৫৬২; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩২০

ওয়াদা পূরণের নির্দেশ

কুরআন

وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ ۖ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُولًا

“আর তোমরা প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করো। নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।”

সূরা আল-ইসরা ১৭:৩৪

কুরআন

وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ

“আর (সফল মুমিন তারা,) যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে।”

সূরা আল-মুমিনুন ২৩:৮

ওয়াদা ভঙ্গ মুনাফিকির আলামত

হাদিস

“চারটি স্বভাব যার মধ্যে থাকে, সে খাঁটি মুনাফিক। আর যার মধ্যে এর একটি থাকে, তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকির একটি স্বভাব থেকে যায়: তার কাছে আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে, কথা বললে মিথ্যা বলে, প্রতিশ্রুতি দিলে ভঙ্গ করে, আর ঝগড়া করলে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৫৮ — আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত

বিশ্বাসঘাতকতার পরিণতি

হাদিস

“কিয়ামতের দিন প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি পতাকা উত্তোলন করা হবে, আর বলা হবে: এটি অমুক ব্যক্তির বিশ্বাসঘাতকতা।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ৬১৭৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৭৩৫ — ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত

অনুশীলন: যে ওয়াদা রাখতে পারবেন না, তা দেবেন না। কোনো কারণে রাখতে না পারলে আগেভাগে জানিয়ে দিন ও ক্ষমা চান। সময়মতো উপস্থিত হওয়া, ধার সময়মতো ফেরত দেওয়া এবং কথা দিয়ে কথা রাখা, এগুলো দৈনন্দিন জীবনে ওয়াদা রক্ষার উদাহরণ।

📚 তথ্যসূত্র

আল-কুরআন: ১৭:৩৪, ২৩:৮ • সহিহ বুখারি: ২৪, ৩৪, ৩৪৮৩, ৩৫৬২, ৬১১৭, ৬১৭৭ • সহিহ মুসলিম: ৩৬, ৩৭, ৫৮, ১৭৩৫, ২৩২০

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *