☪কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে
🌐

জ্ঞান অনুযায়ী আমল: ইলমের আসল উদ্দেশ্য

ইলম অর্জনের আসল উদ্দেশ্য আমল। যে জ্ঞান আমলে রূপ নেয় না, তা কিয়ামতের দিন মানুষের বিপক্ষে দলিল হয়ে দাঁড়াতে পারে। কুরআন ও সহিহ হাদিসে জ্ঞান অনুযায়ী আমল না করার ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। বিষয়টি তুলে ধরা হলো।

📑 সূচিপত্র

  1. অন্যকে বলো, নিজেকে ভুলে যাও?
  2. বই বহনকারী গাধার দৃষ্টান্ত
  3. যা বলো তা করো না কেন?
  4. জাহান্নামে উপদেশদাতার করুণ পরিণতি
  5. জ্ঞান অনুযায়ী আমলের প্রশ্ন
  6. উপকারী জ্ঞানের লক্ষণ

অন্যকে বলো, নিজেকে ভুলে যাও?

কুরআন

أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنسَوْنَ أَنفُسَكُمْ وَأَنتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ

“তোমরা কি মানুষকে সৎকাজের আদেশ দাও আর নিজেদের ভুলে যাও, অথচ তোমরা কিতাব তিলাওয়াত করো? তবু কি তোমরা বোঝো না?”

সূরা আল-বাকারা ২:৪৪

বই বহনকারী গাধার দৃষ্টান্ত

কুরআন

مَثَلُ الَّذِينَ حُمِّلُوا التَّوْرَاةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا

“যাদের তাওরাতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, অথচ তারা তা বহন (অনুসরণ) করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত সেই গাধার মতো, যে বইয়ের বোঝা বহন করে।”

সূরা আল-জুমুআ ৬২:৫

আলেমগণ বলেছেন, এ দৃষ্টান্ত শুধু পূর্ববর্তী জাতির জন্য নয়। যে মুসলিম কুরআন পড়ে ও জ্ঞান অর্জন করে, কিন্তু আমল করে না, তার জন্যও এতে সতর্কবাণী রয়েছে।

যা বলো তা করো না কেন?

কুরআন

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ ۝ كَبُرَ مَقْتًا عِندَ اللَّهِ أَن تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ

“হে মুমিনগণ, তোমরা এমন কথা কেন বলো, যা নিজেরা করো না? আল্লাহর কাছে এটি অত্যন্ত অপছন্দনীয় যে, তোমরা এমন কথা বলো যা নিজেরা করো না।”

সূরা আস-সাফ ৬১:২–৩

জাহান্নামে উপদেশদাতার করুণ পরিণতি

হাদিস

“কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে এনে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তার নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে পড়বে, আর সে তা নিয়ে এমনভাবে ঘুরতে থাকবে, যেভাবে গাধা চাকির চারপাশে ঘোরে। জাহান্নামবাসীরা তার কাছে জড়ো হয়ে বলবে: হে অমুক, তোমার কী হলো? তুমি কি আমাদের সৎকাজের আদেশ দিতে না এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করতে না? সে বলবে: আমি তোমাদের সৎকাজের আদেশ দিতাম, কিন্তু নিজে তা করতাম না। আর তোমাদের অসৎকাজ থেকে নিষেধ করতাম, কিন্তু নিজেই তা করতাম।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ৩২৬৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৯৮৯ — উসামা ইবনু যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত

এ হাদিস দাওয়াত বন্ধ করার কথা বলে না, বরং দাওয়াতের সঙ্গে নিজের আমল ঠিক রাখার তাগিদ দেয়। নিজের ত্রুটি থাকলেও ভালো কথা বলা ছাড়া যাবে না, তবে নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

জ্ঞান অনুযায়ী আমলের প্রশ্ন

হাদিস

“কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার পা ততক্ষণ সরবে না, যতক্ষণ না তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে: তার জীবন সে কীসে শেষ করেছে, তার জ্ঞান অনুযায়ী সে কী আমল করেছে, তার সম্পদ কোথা থেকে উপার্জন করেছে ও কোথায় খরচ করেছে, এবং তার শরীর কীসে ক্ষয় করেছে।”

জামে তিরমিজি, হাদিস ২৪১৭ (হাসান সহিহ) — আবু বারযা আল-আসলামি (রা.) থেকে বর্ণিত

উপকারী জ্ঞানের লক্ষণ

কুরআন

إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ

“আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই তাঁকে (প্রকৃতভাবে) ভয় করে।”

সূরা ফাতির ৩৫:২৮

প্রকৃত জ্ঞান অন্তরে আল্লাহভীতি জন্মায়, আর আল্লাহভীতি আমলে রূপ নেয়। নবীজি ﷺ এমন জ্ঞান থেকে আশ্রয় চাইতেন, যা উপকারে আসে না (সহিহ মুসলিম ২৭২২)।

ব্যবহারিক পরামর্শ: প্রতিটি নতুন হাদিস বা আয়াত শেখার পর নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: “এটি আমি আজ কীভাবে আমলে আনতে পারি?” যে প্রবন্ধটি পড়লেন, তার “আমল” অংশ থেকে অন্তত একটি বিষয় আজই শুরু করুন। অল্প জ্ঞান নিয়ে আমল করা, অনেক জ্ঞান নিয়ে আমল না করার চেয়ে উত্তম।

📚 তথ্যসূত্র

আল-কুরআন: ২:৪৪, ৩৫:২৮, ৬১:২–৩, ৬২:৫ • সহিহ বুখারি: ৩২৬৭ • সহিহ মুসলিম: ২৭২২, ২৯৮৯ • তিরমিজি ২৪১৭

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *