☪কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে
🌐

আশারায়ে মুবাশশারা: জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশ সাহাবি

“আশারায়ে মুবাশশারা” হলেন সেই দশজন সাহাবি, যাঁদের নাম উল্লেখ করে নবীজি ﷺ একই বৈঠকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। তাঁরা ছিলেন ইসলামের প্রথম যুগের অগ্রগামী মুমিন, যাঁরা জান-মাল দিয়ে দ্বীনের খেদমত করেছেন। সহিহ হাদিসের আলোকে তাঁদের পরিচয় ও বিশেষ মর্যাদা তুলে ধরা হলো।

📑 সূচিপত্র

  1. দশজনের নাম ও সুসংবাদ
  2. চার খলিফা
  3. তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ (রা.)
  4. যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রা.)
  5. আব্দুর রহমান ইবনু আওফ (রা.)
  6. সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস (রা.)
  7. সাঈদ ইবনু যায়েদ (রা.)
  8. আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রা.)

দশজনের নাম ও সুসংবাদ

হাদিস

নবীজি ﷺ বলেছেন: “আবু বকর জান্নাতি, উমর জান্নাতি, উসমান জান্নাতি, আলি জান্নাতি, তালহা জান্নাতি, যুবাইর জান্নাতি, আব্দুর রহমান ইবনু আওফ জান্নাতি, সাদ (ইবনু আবি ওয়াক্কাস) জান্নাতি, সাঈদ (ইবনু যায়েদ) জান্নাতি এবং আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ জান্নাতি।”

জামে তিরমিজি, হাদিস ৩৭৪৭ (শাইখ আলবানি: সহিহ) — আব্দুর রহমান ইবনু আওফ (রা.) থেকে বর্ণিত; অনুরূপ সুনান আবু দাউদ ৪৬৪৯ (সাঈদ ইবনু যায়েদ রা. থেকে)

উল্লেখ্য, এ দশজন ছাড়াও আরও অনেক সাহাবিকে নবীজি ﷺ বিভিন্ন সময়ে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন, যেমন খাদিজা (রা.) ও বিলাল (রা.)। তবে একই বৈঠকে একসঙ্গে নাম উল্লেখের কারণে এ দশজন “আশারায়ে মুবাশশারা” নামে পরিচিত।

চার খলিফা

আবু বকর, উমর, উসমান ও আলি (রা.)-এর জীবনী ও মর্যাদা নিয়ে এই বিভাগে আলাদা প্রবন্ধ রয়েছে। দেখুন সাহাবিদের জীবনী বিভাগ।

তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ (রা.)

হাদিস

কায়স ইবনু আবি হাযিম (রহ.) বলেন: আমি তালহা (রা.)-এর হাত অবশ দেখেছি। উহুদের দিন তিনি এ হাত দিয়ে নবীজিকে ﷺ (শত্রুর আঘাত থেকে) রক্ষা করেছিলেন।

সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৭২৪

যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রা.)

হাদিস

إِنَّ لِكُلِّ نَبِيٍّ حَوَارِيًّا، وَإِنَّ حَوَارِيَّ الزُّبَيْرُ

“প্রত্যেক নবীর একজন বিশেষ সাহায্যকারী (হাওয়ারি) থাকে, আর আমার হাওয়ারি হলো যুবাইর।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ২৮৪৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৪১৫ — জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত

আব্দুর রহমান ইবনু আওফ (রা.)

হিজরতের পর নবীজি ﷺ তাঁর সঙ্গে আনসারি সাহাবি সাদ ইবনুর রাবি (রা.)-এর ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেন। সাদ (রা.) নিজের সম্পদের অর্ধেক দিতে চাইলে তিনি দোয়া করে বললেন, আমাকে শুধু বাজারের পথ দেখিয়ে দাও। এরপর নিজের পরিশ্রমে ব্যবসা করে তিনি সচ্ছল হন (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৭৮০)। পরবর্তীতে তিনি ছিলেন সাহাবিদের মধ্যে বিশিষ্ট দানশীল ব্যক্তিদের একজন।

সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস (রা.)

হাদিস

আলি (রা.) বলেন, আমি নবীজিকে ﷺ সাদ (রা.) ছাড়া আর কারও জন্য নিজের বাবা-মাকে একসঙ্গে উৎসর্গ করার কথা বলতে শুনিনি। উহুদের দিন আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: “হে সাদ, তির ছোড়ো, আমার বাবা-মা তোমার জন্য উৎসর্গ হোক!”

সহিহ বুখারি, হাদিস ২৯০৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৪১১

সাঈদ ইবনু যায়েদ (রা.)

হাদিস

সাঈদ ইবনু যায়েদ (রা.) বলেন: আল্লাহর কসম, আমি নিজেকে দেখেছি, উমর (রা.) ইসলাম গ্রহণের আগে ইসলামের কারণে আমাকে ও তাঁর বোনকে (আমার স্ত্রীকে) বেঁধে রেখেছিলেন।

সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৮৬২ (সংক্ষেপিত)

অর্থাৎ তিনি ছিলেন একেবারে প্রথম দিকের মুসলিম, যিনি উমর (রা.)-এরও আগে ইসলাম গ্রহণ করে নির্যাতন সহ্য করেছেন।

আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রা.)

হাদিস

إِنَّ لِكُلِّ أُمَّةٍ أَمِينًا، وَإِنَّ أَمِينَنَا أَيَّتُهَا الْأُمَّةُ أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ

“প্রত্যেক উম্মতের একজন আমিন (পরম বিশ্বস্ত ব্যক্তি) থাকে। আর হে উম্মত, আমাদের আমিন হলো আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৭৪৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৪১৯ — আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত

শিক্ষা: এই দশজনের প্রত্যেকে কোনো না কোনো বিশেষ গুণে অনন্য: কেউ সত্যবাদিতায়, কেউ ন্যায়বিচারে, কেউ লজ্জাশীলতায়, কেউ বীরত্বে, কেউ আত্মত্যাগে, কেউ বিশ্বস্ততায়। জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েও তাঁরা আমলে শিথিল হননি, বরং আজীবন দ্বীনের খেদমত করে গেছেন। আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন।

📚 তথ্যসূত্র

সহিহ বুখারি: ২৮৪৬, ২৯০৫, ৩৭২৪, ৩৭৪৪, ৩৭৮০, ৩৮৬২ • সহিহ মুসলিম: ২৪১১, ২৪১৫, ২৪১৯ • তিরমিজি ৩৭৪৭ • আবু দাউদ ৪৬৪৯

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *