বিনয় (তাওয়াজু) মুমিনের সৌন্দর্য। যে আল্লাহর জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। আর অহংকার এমন রোগ, যার অণু পরিমাণও জান্নাতে প্রবেশের পথে বাধা। সমগ্র সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানুষ হয়েও নবীজি ﷺ ছিলেন সবচেয়ে বিনয়ী। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে বিনয়ের শিক্ষা তুলে ধরা হলো।
- লুকমান (আ.)-এর উপদেশ
- বিনয়ের আদেশ ওহির মাধ্যমে
- বিনয়ে মর্যাদা বৃদ্ধি
- অহংকারের সংজ্ঞা ও পরিণতি
- নবীজির ﷺ বিনয়ের দৃষ্টান্ত
- বিনয়ের অনুশীলন
লুকমান (আ.)-এর উপদেশ
وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا ۖ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ وَاغْضُضْ مِن صَوْتِكَ
“আর অহংকারবশত মানুষের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না, এবং পৃথিবীতে দম্ভভরে চলো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো দাম্ভিক, অহংকারীকে পছন্দ করেন না। আর তোমার চলাফেরায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করো এবং তোমার কণ্ঠস্বর নিচু রাখো।”
সূরা লুকমান ৩১:১৮–১৯
বিনয়ের আদেশ ওহির মাধ্যমে
إِنَّ اللَّهَ أَوْحَى إِلَيَّ أَنْ تَوَاضَعُوا حَتَّى لَا يَفْخَرَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ، وَلَا يَبْغِ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার কাছে ওহি পাঠিয়েছেন যে, তোমরা বিনয়ী হও, যাতে কেউ কারও ওপর গর্ব না করে এবং কেউ কারও ওপর জুলুম না করে।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৮৬৫ — ইয়াদ ইবনু হিমার (রা.) থেকে বর্ণিত
বিনয়ে মর্যাদা বৃদ্ধি
وَمَا تَوَاضَعَ أَحَدٌ لِلَّهِ إِلَّا رَفَعَهُ اللَّهُ
“যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৮৮ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
অহংকারের সংজ্ঞা ও পরিণতি
“যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার আছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” এক ব্যক্তি বলল, মানুষ তো চায় তার পোশাক সুন্দর হোক, জুতা সুন্দর হোক। নবীজি ﷺ বললেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য ভালোবাসেন। অহংকার হলো সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছ মনে করা।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯১ — আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত
এ হাদিস অহংকারের দুটি মূল লক্ষণ চিহ্নিত করেছে: ভুল ধরিয়ে দিলে সত্য মেনে না নেওয়া, এবং বংশ, সম্পদ, পদ বা জ্ঞানের কারণে অন্যকে ছোট মনে করা।
নবীজির ﷺ বিনয়ের দৃষ্টান্ত
“আমাকে যদি (ছাগলের) একটি হাতা বা খুরের দাওয়াতও দেওয়া হয়, আমি তা গ্রহণ করব। আর যদি আমাকে একটি হাতা বা খুর উপহার দেওয়া হয়, তবুও আমি তা গ্রহণ করব।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ২৫৬৮ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
- তিনি ঘরে পরিবারের কাজে সহযোগিতা করতেন (সহিহ বুখারি ৬৭৬)।
- তিনি শিশুদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সালাম দিতেন (সহিহ বুখারি ৬২৪৭; সহিহ মুসলিম ২১৬৮)।
- তিনি বলেছেন, তিনিও কয়েক কিরাতের বিনিময়ে মক্কাবাসীদের ছাগল চরাতেন (সহিহ বুখারি ২২৬২)।
- খাদেম আনাস (রা.)-কে দশ বছরে কখনো “উফ” পর্যন্ত বলেননি (সহিহ বুখারি ৬০৩৮)।
বিনয়ের অনুশীলন
وَعِبَادُ الرَّحْمَٰنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا
“আর রহমানের বান্দা তারা, যারা পৃথিবীতে বিনম্রভাবে চলাফেরা করে।”
সূরা আল-ফুরকান ২৫:৬৩
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ২৫:৬৩, ৩১:১৮–১৯ • সহিহ বুখারি: ৬৭৬, ২২৬২, ২৫৬৮, ৬০৩৮, ৬২৪৭ • সহিহ মুসলিম: ৯১, ২১৬৮, ২৫৮৮, ২৮৬৫
Leave a Reply