বান্দার জন্য সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য হলো আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করা। কুরআনে আল্লাহ নিজেই জানিয়েছেন তিনি কাদের ভালোবাসেন, আর সহিহ হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহ যখন কাউকে ভালোবাসেন, তখন আসমান-জমিনে তার জন্য গ্রহণযোগ্যতা ছড়িয়ে দেন। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের উপায় তুলে ধরা হলো।
- রাসুলের অনুসরণ: ভালোবাসার প্রমাণ
- আল্লাহ যাদের ভালোবাসেন
- ফরজ ও নফলের মাধ্যমে নৈকট্য
- আল্লাহ যখন কাউকে ভালোবাসেন
- ঈমানের স্বাদ
- আল্লাহর জন্য পরস্পরকে ভালোবাসা
রাসুলের অনুসরণ: ভালোবাসার প্রমাণ
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
সূরা আলে ইমরান ৩:৩১
অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার দাবি শুধু মুখের কথা নয়, এর প্রমাণ হলো নবীজির ﷺ সুন্নাহর অনুসরণ।
আল্লাহ যাদের ভালোবাসেন
কুরআনে আল্লাহ নিজেই জানিয়েছেন, তিনি কাদের ভালোবাসেন:
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।” (২:১৯৫)
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।” (২:২২২)
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন।” (৯:৪)
وَاللَّهُ يُحِبُّ الصَّابِرِينَ
“আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন।” (৩:১৪৬)
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর ওপর ভরসাকারীদের ভালোবাসেন।” (৩:১৫৯)
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচারকারীদের ভালোবাসেন।” (৪৯:৯)
আল-কুরআন: ২:১৯৫, ২:২২২, ৯:৪, ৩:১৪৬, ৩:১৫৯, ৪৯:৯
ফরজ ও নফলের মাধ্যমে নৈকট্য
আল্লাহ বলেন: “আমার বান্দা আমার নৈকট্য লাভ করে সবচেয়ে বেশি সেই আমলের মাধ্যমে, যা আমি তার ওপর ফরজ করেছি। আর আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নিকটবর্তী হতে থাকে, অবশেষে আমি তাকে ভালোবাসি… সে আমার কাছে কিছু চাইলে আমি অবশ্যই তাকে দিই, আর আশ্রয় চাইলে অবশ্যই আশ্রয় দিই।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৫০২ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত (সংক্ষেপিত)
আল্লাহ যখন কাউকে ভালোবাসেন
“আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরিলকে ডেকে বলেন: আমি অমুককে ভালোবাসি, তুমিও তাকে ভালোবাসো। তখন জিবরিল তাকে ভালোবাসেন। এরপর জিবরিল আসমানবাসীদের মধ্যে ঘোষণা দেন: আল্লাহ অমুককে ভালোবাসেন, তোমরাও তাকে ভালোবাসো। তখন আসমানবাসীরা তাকে ভালোবাসে। এরপর জমিনে তার জন্য গ্রহণযোগ্যতা দান করা হয়।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩২০৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬৩৭ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
ঈমানের স্বাদ
“তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকে, সে ঈমানের স্বাদ পায়: আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তার কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে বেশি প্রিয় হওয়া; কাউকে কেবল আল্লাহর জন্যই ভালোবাসা; এবং আল্লাহ তাকে কুফর থেকে উদ্ধার করার পর আবার কুফরে ফিরে যাওয়াকে এমন অপছন্দ করা, যেমন সে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৪৩ — আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত
আল্লাহর জন্য পরস্পরকে ভালোবাসা
“কিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন: আমার মহত্ত্বের কারণে যারা পরস্পরকে ভালোবাসত, তারা কোথায়? আজ আমি তাদের আমার ছায়ায় আশ্রয় দেব, যেদিন আমার ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া নেই।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৬৬ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
এক ব্যক্তি অন্য গ্রামে তার এক ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেল। আল্লাহ তার পথে একজন ফেরেশতা পাঠালেন। ফেরেশতা জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় যাচ্ছ? সে বলল, এই গ্রামে আমার এক ভাইয়ের কাছে। ফেরেশতা জিজ্ঞেস করলেন, তার কাছে কি তোমার কোনো স্বার্থ আছে? সে বলল: না, আমি শুধু আল্লাহর জন্য তাকে ভালোবাসি। ফেরেশতা বললেন: “আমি তোমার কাছে আল্লাহর দূত। তুমি যেমন তাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসো, আল্লাহও তেমনি তোমাকে ভালোবাসেন।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৬৭ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত (সংক্ষেপিত)
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ২:১৯৫, ২:২২২, ৩:৩১, ৩:১৪৬, ৩:১৫৯, ৯:৪, ৪৯:৯ • সহিহ বুখারি: ১৬, ৩২০৯, ৬৫০২ • সহিহ মুসলিম: ৪৩, ২৫৬৬, ২৫৬৭, ২৬৩৭
Leave a Reply