☪কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে
🌐

নবী-রাসুলদের প্রতি ঈমান

মানবজাতির হিদায়াতের জন্য আল্লাহ প্রতিটি জাতির কাছে রাসুল পাঠিয়েছেন। নুহ (আ.) থেকে শুরু করে সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ ﷺ পর্যন্ত সবাই একই দাওয়াত দিয়েছেন: এক আল্লাহর ইবাদত করো। সব নবী-রাসুলের প্রতি ঈমান আনা ঈমানের চতুর্থ রুকন। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে বিষয়টি তুলে ধরা হলো।

📑 সূচিপত্র

  1. প্রত্যেক জাতির কাছে রাসুল
  2. সব নবীর একই দাওয়াত
  3. তাঁদের মধ্যে পার্থক্য না করা
  4. সবার নাম আমাদের জানানো হয়নি
  5. নবীগণ পরস্পর ভাই
  6. দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসুলগণ
  7. সর্বশেষ নবীর বিশেষ মর্যাদা

প্রত্যেক জাতির কাছে রাসুল

কুরআন

وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ

“আর আমি প্রত্যেক জাতির কাছে রাসুল পাঠিয়েছি (এই বার্তা দিয়ে) যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুত (মিথ্যা উপাস্য) থেকে দূরে থাকো।”

সূরা আন-নাহল ১৬:৩৬

সব নবীর একই দাওয়াত

কুরআন

وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ

“আপনার আগে আমি যে রাসুলই পাঠিয়েছি, তাঁর প্রতি এই ওহি পাঠিয়েছি যে, আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।”

সূরা আল-আম্বিয়া ২১:২৫

তাঁদের মধ্যে পার্থক্য না করা

কুরআন

كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ

“তারা সবাই ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসুলদের প্রতি। (তারা বলে:) আমরা তাঁর রাসুলদের কারও মধ্যে পার্থক্য করি না।”

সূরা আল-বাকারা ২:২৮৫

অর্থাৎ কিছু নবীকে মেনে আর কিছুকে অস্বীকার করে ঈমান হয় না। সব নবী-রাসুলকে আল্লাহর প্রেরিত সত্য বার্তাবাহক হিসেবে বিশ্বাস করতে হবে।

সবার নাম আমাদের জানানো হয়নি

কুরআন

وَرُسُلًا قَدْ قَصَصْنَاهُمْ عَلَيْكَ مِن قَبْلُ وَرُسُلًا لَّمْ نَقْصُصْهُمْ عَلَيْكَ

“আর এমন অনেক রাসুল আছেন, যাঁদের কথা আমি আগে আপনাকে বলেছি, আর এমন অনেক রাসুল আছেন, যাঁদের কথা আপনাকে বলিনি।”

সূরা আন-নিসা ৪:১৬৪

কুরআনে পঁচিশজন নবী-রাসুলের নাম এসেছে। তাঁদের কয়েকজন হলেন আদম, নুহ, ইবরাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব, ইউসুফ, মুসা, হারুন, দাউদ, সুলাইমান, ইউনুস, যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা ও মুহাম্মাদ (তাঁদের সবার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)। যাঁদের নাম এসেছে তাঁদের প্রতি নির্দিষ্টভাবে, আর বাকিদের প্রতি সামগ্রিকভাবে ঈমান আনা জরুরি।

নবীগণ পরস্পর ভাই

হাদিস

“আমি দুনিয়া ও আখিরাতে ঈসা ইবনু মারইয়ামের সবচেয়ে নিকটতম। নবীগণ পরস্পর বৈমাত্রেয় ভাইয়ের মতো। তাঁদের মা ভিন্ন, কিন্তু তাঁদের দ্বীন এক।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৪৪৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩৬৫ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত

অর্থাৎ সব নবীর আকিদা ও মূল দ্বীন (তাওহিদ) এক, তবে শরিয়তের খুঁটিনাটি বিধান যুগভেদে ভিন্ন ছিল।

দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসুলগণ

কুরআন

فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُولُو الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ

“অতএব, আপনি ধৈর্য ধরুন, যেমন ধৈর্য ধরেছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসুলগণ।”

সূরা আল-আহকাফ ৪৬:৩৫

অনেক মুফাসসিরের মতে, “উলুল আযম” রাসুল পাঁচজন: নুহ, ইবরাহিম, মুসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ (আলাইহিমুস সালাম)। সূরা আল-আহযাব ৩৩:৭-এ এই পাঁচজনের নাম একসঙ্গে আল্লাহর বিশেষ অঙ্গীকারের প্রসঙ্গে এসেছে।

সর্বশেষ নবীর বিশেষ মর্যাদা

হাদিস

“আমাকে ছয়টি বিষয়ে অন্য নবীদের ওপর বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে: আমাকে ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাণী দেওয়া হয়েছে; (শত্রুর অন্তরে) ভীতির মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে; আমার জন্য গনিমত হালাল করা হয়েছে; আমার জন্য পুরো জমিনকে পবিত্র ও মসজিদ বানানো হয়েছে; আমাকে সমগ্র সৃষ্টির জন্য প্রেরণ করা হয়েছে; এবং আমার মাধ্যমে নবীদের ধারা সমাপ্ত করা হয়েছে।”

সহিহ মুসলিম, হাদিস ৫২৩ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত

ঈমানের দাবি: সব নবী-রাসুলকে সম্মান করা, তাঁদের কাহিনি থেকে শিক্ষা নেওয়া, আর সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর শরিয়ত অনুসরণ করা। কুরআনে বর্ণিত নবীদের কাহিনি পড়ুন; প্রতিটি কাহিনিতে ধৈর্য, তাওয়াক্কুল ও দাওয়াতের অমূল্য শিক্ষা রয়েছে।

📚 তথ্যসূত্র

আল-কুরআন: ২:২৮৫, ৪:১৬৪, ১৬:৩৬, ২১:২৫, ৩৩:৭, ৪৬:৩৫ • সহিহ বুখারি: ৩৪৪৩ • সহিহ মুসলিম: ৫২৩, ২৩৬৫

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *