☪কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে
🌐

এতিম, বিধবা ও দুর্বলদের প্রতি দায়িত্ব

নবীজি ﷺ নিজে এতিম হয়ে জন্মেছিলেন। তাই এতিম, বিধবা, মিসকিন ও সমাজের দুর্বল মানুষদের প্রতি সদাচরণের ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহয় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের পাশে দাঁড়ানো জান্নাতে নবীজির ﷺ সান্নিধ্য লাভের মাধ্যম। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে এ দায়িত্বগুলো তুলে ধরা হলো।

📑 সূচিপত্র

  1. এতিমের প্রতি কঠোর হয়ো না
  2. যে এতিমকে ধাক্কা দেয়
  3. এতিমের সম্পদ গ্রাসের ভয়াবহতা
  4. এতিমের অভিভাবক জান্নাতে নবীজির ﷺ সঙ্গী
  5. বিধবা ও মিসকিনের সেবা জিহাদের সমতুল্য
  6. দুর্বলদের কারণেই সাহায্য ও রিজিক
  7. শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য

এতিমের প্রতি কঠোর হয়ো না

কুরআন

فَأَمَّا الْيَتِيمَ فَلَا تَقْهَرْ ۝ وَأَمَّا السَّائِلَ فَلَا تَنْهَرْ

“সুতরাং আপনি এতিমের প্রতি কঠোর হবেন না, আর সাহায্যপ্রার্থীকে ধমক দেবেন না।”

সূরা আদ-দুহা ৯৩:৯–১০

এর আগের আয়াতে আল্লাহ নবীজিকে ﷺ স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন: “তিনি কি আপনাকে এতিম অবস্থায় পাননি, অতঃপর আশ্রয় দেননি?” (৯৩:৬)।

যে এতিমকে ধাক্কা দেয়

কুরআন

أَرَأَيْتَ الَّذِي يُكَذِّبُ بِالدِّينِ ۝ فَذَٰلِكَ الَّذِي يَدُعُّ الْيَتِيمَ ۝ وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ الْمِسْكِينِ

“আপনি কি দেখেছেন তাকে, যে প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করে? সে-ই তো এতিমকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয়, এবং মিসকিনকে খাবার দিতে উৎসাহ দেয় না।”

সূরা আল-মাউন ১০৭:১–৩

এতিমের সম্পদ গ্রাসের ভয়াবহতা

কুরআন

إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَىٰ ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا ۖ وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا

“নিশ্চয়ই যারা অন্যায়ভাবে এতিমের সম্পদ গ্রাস করে, তারা নিজেদের পেটে আগুন ভরছে। আর অচিরেই তারা জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে।”

সূরা আন-নিসা ৪:১০

হাদিস

“তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক বিষয় থেকে বেঁচে থাকো।” সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, সেগুলো কী? তিনি বললেন: “আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা, জাদু, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা, সুদ খাওয়া, এতিমের সম্পদ গ্রাস করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পালিয়ে যাওয়া, এবং সতী-সাধ্বী সরলমনা মুমিন নারীদের অপবাদ দেওয়া।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ২৭৬৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৯ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত

এতিমের অভিভাবক জান্নাতে নবীজির ﷺ সঙ্গী

হাদিস

“আমি এবং এতিমের দায়িত্ব গ্রহণকারী জান্নাতে এভাবে থাকব।” এ কথা বলে তিনি শাহাদাত আঙুল ও মধ্যমা আঙুল দিয়ে ইশারা করলেন এবং দুটির মাঝে সামান্য ফাঁক রাখলেন।

সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৩০৪ — সাহল ইবনু সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত

বিধবা ও মিসকিনের সেবা জিহাদের সমতুল্য

হাদিস

السَّاعِي عَلَى الْأَرْمَلَةِ وَالْمِسْكِينِ كَالْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ

“বিধবা ও মিসকিনের জন্য প্রচেষ্টাকারী আল্লাহর পথে জিহাদকারীর মতো।” বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় তিনি আরও বলেছেন: “এবং সেই ব্যক্তির মতো, যে ক্লান্ত না হয়ে রাতভর নামাজ পড়ে এবং বিরতিহীন রোজা রাখে।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ৬০০৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৯৮২ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত

দুর্বলদের কারণেই সাহায্য ও রিজিক

হাদিস

هَلْ تُنْصَرُونَ وَتُرْزَقُونَ إِلَّا بِضُعَفَائِكُمْ

সাদ (রা.) মনে করতেন, অন্যদের ওপর তাঁর বিশেষ মর্যাদা আছে। নবীজি ﷺ বললেন: “তোমাদের মধ্যকার দুর্বলদের কারণেই কি তোমাদের সাহায্য করা হয় না এবং রিজিক দেওয়া হয় না?”

সহিহ বুখারি, হাদিস ২৮৯৬ — মুসআব ইবনু সাদ (রহ.) থেকে বর্ণিত

শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য

কুরআন

وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَىٰ حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا ۝ إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنكُمْ جَزَاءً وَلَا شُكُورًا

“আর তারা খাবারের প্রতি নিজেদের আকর্ষণ থাকা সত্ত্বেও মিসকিন, এতিম ও বন্দিকে খাবার দেয়। (তারা বলে:) আমরা তো শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তোমাদের খাওয়াই। আমরা তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা চাই না।”

সূরা আল-ইনসান ৭৬:৮–৯

যা করতে পারি: আত্মীয় বা প্রতিবেশীর মধ্যে কোনো এতিম থাকলে তার পড়াশোনা ও প্রয়োজনের খোঁজ নিন। নির্ভরযোগ্য এতিমখানায় নিয়মিত সাহায্য করুন। বিধবা আত্মীয়দের পাশে দাঁড়ান। আর কখনো এতিমের প্রতি রূঢ় আচরণ করবেন না, বরং তার মাথায় স্নেহের হাত রাখুন।

📚 তথ্যসূত্র

আল-কুরআন: ৪:১০, ৭৬:৮–৯, ৯৩:৬, ৯৩:৯–১০, ১০৭:১–৩ • সহিহ বুখারি: ২৭৬৬, ২৮৯৬, ৫৩০৪, ৬০০৬ • সহিহ মুসলিম: ৮৯, ২৯৮২

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *