জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে দ্বিধা, আর দুশ্চিন্তা ও বিপদে অস্থিরতা, এসব মানুষের স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা। নবীজি ﷺ এসব মুহূর্তের জন্য উম্মতকে বিশেষ দোয়া শিখিয়ে গেছেন। সহিহ সূত্রে বর্ণিত ইস্তিখারার দোয়া এবং দুশ্চিন্তা ও বিপদের দোয়াগুলো আরবি ও বাংলা অর্থসহ তুলে ধরা হলো।
- ইস্তিখারা: সিদ্ধান্তে আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া
- ইস্তিখারার দোয়া
- বিপদ ও কষ্টের দোয়া
- দুশ্চিন্তা, অক্ষমতা ও ঋণ থেকে আশ্রয়
- “হাসবুনাল্লাহ”: নবীদের ভরসার বাক্য
- ইউনুস (আ.)-এর দোয়া
ইস্তিখারা: সিদ্ধান্তে আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া
জাবির (রা.) বলেন, নবীজি ﷺ আমাদের সব বিষয়ে ইস্তিখারা শেখাতেন, যেভাবে কুরআনের সূরা শেখাতেন। তিনি বলতেন: “তোমাদের কেউ যখন কোনো কাজের ইচ্ছা করে, তখন ফরজ ছাড়া দুই রাকাত নামাজ পড়বে, তারপর এই দোয়া পড়বে” (সহিহ বুখারি, হাদিস ১১৬২)।
ইস্তিখারার দোয়া
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ، وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي بِهِ
“হে আল্লাহ, আমি আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে আপনার কাছে কল্যাণ চাই, আপনার শক্তির মাধ্যমে আপনার কাছে শক্তি চাই, এবং আপনার মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করি। কেননা আপনি ক্ষমতা রাখেন, আমি রাখি না। আপনি জানেন, আমি জানি না। আর আপনি অদৃশ্যের সর্বজ্ঞ। হে আল্লাহ, আপনি যদি জানেন যে এই কাজটি (এখানে কাজের নাম উল্লেখ করবে) আমার দ্বীন, জীবিকা ও পরিণামের জন্য কল্যাণকর, তবে তা আমার জন্য নির্ধারণ করুন, সহজ করে দিন, তারপর তাতে বরকত দিন। আর যদি জানেন যে এই কাজটি আমার দ্বীন, জীবিকা ও পরিণামের জন্য অকল্যাণকর, তবে তা আমার থেকে সরিয়ে দিন এবং আমাকেও তা থেকে সরিয়ে রাখুন। আর যেখানেই কল্যাণ থাকুক, তা আমার জন্য নির্ধারণ করুন, তারপর তাতে আমাকে সন্তুষ্ট রাখুন।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১১৬২ — জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। (একটি বর্ণনায় “দ্বীন, জীবিকা ও পরিণামের” স্থলে “আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের” এসেছে।)
লক্ষণীয়: ইস্তিখারার পর স্বপ্ন দেখা জরুরি নয়। দোয়ার পর আল্লাহর ওপর ভরসা করে কাজ এগিয়ে নিন। যদি কাজটি সহজ হয়ে যায় তো ভালো, আর বাধা এলে বুঝবেন আল্লাহ অন্য কল্যাণ রেখেছেন। পাশাপাশি বিজ্ঞ মানুষের পরামর্শও নিন।
বিপদ ও কষ্টের দোয়া
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ
“আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি মহান, সহনশীল। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি মহান আরশের রব। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি আসমানসমূহের রব, জমিনের রব এবং সম্মানিত আরশের রব।” নবীজি ﷺ বিপদ ও কষ্টের সময় এ দোয়া পড়তেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৩৪৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৭৩০ — ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত
দুশ্চিন্তা, অক্ষমতা ও ঋণ থেকে আশ্রয়
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ، وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ
“হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে, ঋণের বোঝা থেকে এবং মানুষের প্রভাব-আধিপত্য থেকে।” আনাস (রা.) বলেন, নবীজি ﷺ প্রায়ই এ দোয়া পড়তেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৩৬৯ — আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত
“হাসবুনাল্লাহ”: নবীদের ভরসার বাক্য
حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
“আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।”
সূরা আলে ইমরান ৩:১৭৩ • ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন, ইবরাহিম (আ.)-কে যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তখন তিনি এ কথা বলেছিলেন। আর মুহাম্মাদ ﷺ ও সাহাবিরাও শত্রুর হুমকির মুখে এ কথা বলেছিলেন — সহিহ বুখারি ৪৫৬৩
ইউনুস (আ.)-এর দোয়া
لَّا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
“আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।”
সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৮৭ • কোনো মুসলিম কোনো বিষয়ে এ দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন — জামে তিরমিজি ৩৫০৫ (সহিহ)
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ৩:১৭৩, ২১:৮৭ • সহিহ বুখারি: ১১৬২, ৪৫৬৩, ৬৩৪৬, ৬৩৬৯ • সহিহ মুসলিম: ২৭৩০ • তিরমিজি ৩৫০৫
Leave a Reply