পবিত্রতা ছাড়া নামাজ কবুল হয় না। আর নবীজি ﷺ পবিত্রতাকে ঈমানের অর্ধেক বলেছেন। অজুর প্রতিটি ফোঁটার সঙ্গে গুনাহ ঝরে যায়। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে তাহারাতের গুরুত্ব ও অজুর ফজিলত তুলে ধরা হলো।
- অজুর বিধান: কুরআনের নির্দেশ
- পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক
- পবিত্রতা ছাড়া নামাজ কবুল হয় না
- অজুর মাধ্যমে গুনাহ মাফ
- অজুর পরের দোয়া
- গোসল ও তায়াম্মুম
অজুর বিধান: কুরআনের নির্দেশ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ
“হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াতে চাও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করো, মাথা মাসেহ করো এবং টাখনু পর্যন্ত পা ধৌত করো।”
সূরা আল-মায়িদা ৫:৬
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।”
সূরা আল-বাকারা ২:২২২
পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক
الطُّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ
“পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২৩ — আবু মালিক আল-আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত
পবিত্রতা ছাড়া নামাজ কবুল হয় না
لَا تُقْبَلُ صَلَاةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ
“পবিত্রতা ছাড়া কোনো নামাজ কবুল করা হয় না।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২৪ — ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত
“যার অজু ভেঙে গেছে, সে অজু না করা পর্যন্ত আল্লাহ তার নামাজ কবুল করেন না।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১৩৫ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
অজুর মাধ্যমে গুনাহ মাফ
“যখন কোনো মুসলিম বা মুমিন বান্দা অজু করে এবং মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন পানির সঙ্গে (বা পানির শেষ ফোঁটার সঙ্গে) তার চোখ দিয়ে করা সব গুনাহ বেরিয়ে যায়। যখন সে দুই হাত ধৌত করে, তখন হাত দিয়ে করা সব গুনাহ বেরিয়ে যায়। যখন সে দুই পা ধৌত করে, তখন পা দিয়ে হেঁটে করা সব গুনাহ বেরিয়ে যায়। এভাবে সে গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে বের হয়।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৪৪ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
উসমান (রা.) নবীজির ﷺ মতো অজু করে দেখালেন। তারপর বললেন, নবীজি ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমার এই অজুর মতো অজু করে, তারপর একাগ্রচিত্তে (অন্য চিন্তা না করে) দুই রাকাত নামাজ পড়ে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১৫৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২৬
“কিয়ামতের দিন আমার উম্মতকে ‘গুররান মুহাজ্জালিন’ (অজুর চিহ্নের কারণে উজ্জ্বল মুখমণ্ডল ও হাত-পা বিশিষ্ট) হিসেবে ডাকা হবে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১৩৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৪৬ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
অজুর পরের দোয়া
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসুল।” নবীজি ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি পরিপূর্ণভাবে অজু করে এই দোয়া পড়ে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হয়। সে যেটি দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করবে।
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩৪ — উমর (রা.) থেকে উকবা ইবনু আমির (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত
গোসল ও তায়াম্মুম
একই আয়াতে (সূরা আল-মায়িদা ৫:৬) আল্লাহ বলেছেন, তোমরা যদি জুনুবি (অপবিত্র) অবস্থায় থাকো, তবে বিশেষভাবে পবিত্রতা অর্জন করো (গোসল করো)। আর যদি অসুস্থ থাকো, সফরে থাকো বা পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো। আয়াতের শেষে আল্লাহ জানিয়েছেন, তিনি তোমাদের কষ্টে ফেলতে চান না, বরং তোমাদের পবিত্র করতে এবং তোমাদের ওপর তাঁর নিয়ামত পূর্ণ করতে চান। অনুরূপ বিধান এসেছে সূরা আন-নিসা ৪:৪৩-এ।
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ২:২২২, ৪:৪৩, ৫:৬ • সহিহ বুখারি: ১৩৫, ১৩৬, ১৫৯ • সহিহ মুসলিম: ২২৩, ২২৪, ২২৬, ২৩৪, ২৪৪, ২৪৬
Leave a Reply