হজ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ। শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্যবান মুসলিমের ওপর জীবনে একবার হজ ফরজ। আর মাবরুর (কবুল) হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে হজ ও উমরার গুরুত্ব তুলে ধরা হলো।
- হজ ফরজ হওয়ার দলিল
- জীবনে একবার ফরজ
- হজ ও উমরার ফজিলত
- আরাফার দিনের মর্যাদা
- তালবিয়া
- হজের আদব
হজ ফরজ হওয়ার দলিল
وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا ۚ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ
“আর মানুষের মধ্যে যারা সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ওই ঘরের হজ করা তাদের ওপর অবশ্য কর্তব্য। আর যে অস্বীকার করবে, (সে জেনে রাখুক) আল্লাহ বিশ্বজগতের মুখাপেক্ষী নন।”
সূরা আলে ইমরান ৩:৯৭
ইবরাহিম (আ.)-কে আল্লাহ আদেশ দিয়েছিলেন মানুষের মাঝে হজের ঘোষণা দিতে। মানুষ পায়ে হেঁটে এবং দূর-দূরান্ত থেকে কৃশকায় উটে চড়ে আসবে (সূরা আল-হজ ২২:২৭)।
জীবনে একবার ফরজ
নবীজি ﷺ খুতবায় বললেন: “হে লোকসকল, আল্লাহ তোমাদের ওপর হজ ফরজ করেছেন, অতএব হজ করো।” এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, প্রতি বছর কি, হে আল্লাহর রাসুল? তিনি চুপ রইলেন। লোকটি তিনবার একই প্রশ্ন করল। তখন নবীজি ﷺ বললেন: “আমি যদি হ্যাঁ বলতাম, তবে তা (প্রতি বছর) ফরজ হয়ে যেত, আর তোমরা তা পালন করতে সক্ষম হতে না।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৩৩৭ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
হজ ও উমরার ফজিলত
مَنْ حَجَّ لِلَّهِ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ
“যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ করে, তাতে অশ্লীল কথা বলে না এবং পাপাচার করে না, সে এমনভাবে (নিষ্পাপ হয়ে) ফিরে আসে, যেন তার মা তাকে আজই জন্ম দিয়েছেন।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১৫২১; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৩৫০ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا، وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلَّا الْجَنَّةُ
“এক উমরা থেকে আরেক উমরা, এর মধ্যবর্তী (গুনাহের) জন্য কাফফারা। আর মাবরুর হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১৭৭৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৩৪৯ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
“রমজানে উমরা করা একটি হজের সমতুল্য।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১৭৮২; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১২৫৬ — ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত
আলেমগণ ব্যাখ্যা করেছেন, এখানে সওয়াবের দিক থেকে সমতুল্য বোঝানো হয়েছে। এটি ফরজ হজের বিকল্প নয়।
আরাফার দিনের মর্যাদা
“আরাফার দিনের চেয়ে বেশি আর কোনো দিন নেই, যেদিন আল্লাহ বান্দাদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৩৪৮ — আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত
তালবিয়া
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ
“আমি হাজির, হে আল্লাহ, আমি হাজির। আমি হাজির, আপনার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা, নিয়ামত ও রাজত্ব আপনারই। আপনার কোনো শরিক নেই।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১৫৪৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৮৪ — ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত
হজের আদব
فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ
“হজের মধ্যে কোনো অশ্লীলতা নেই, কোনো পাপাচার নেই এবং কোনো ঝগড়া-বিবাদ নেই।”
সূরা আল-বাকারা ২:১৯৭
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ২:১৯৭, ৩:৯৭, ২২:২৭ • সহিহ বুখারি: ১৫২১, ১৫৪৯, ১৭৭৩, ১৭৮২ • সহিহ মুসলিম: ১১৮৪, ১২৫৬, ১৩৩৭, ১৩৪৮, ১৩৪৯, ১৩৫০
Leave a Reply