ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পরের কয়েক মিনিট অত্যন্ত বরকতময়। নবীজি ﷺ এ সময় নির্দিষ্ট কিছু যিকির ও দোয়া পড়তেন এবং সাহাবিদের শিখিয়েছেন। এগুলোর মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয়, মর্যাদা বাড়ে এবং দিনভর আল্লাহর স্মরণ জাগ্রত থাকে। সহিহ সূত্রে বর্ণিত নামাজ-পরবর্তী যিকিরগুলো ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো।
- তিনবার ইস্তিগফার ও “আন্তাস সালাম”
- আল্লাহর একত্ব ও সার্বভৌমত্বের ঘোষণা
- তাসবিহ, তাহমিদ ও তাকবির
- দরিদ্র সাহাবিদের প্রশ্ন
- শোকর ও সুন্দর ইবাদতের দোয়া
- মুআওবিযাত
তিনবার ইস্তিগফার ও “আন্তাস সালাম”
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
“আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই” (তিনবার)। “হে আল্লাহ, আপনিই শান্তি, আর আপনার কাছ থেকেই শান্তি। আপনি বরকতময়, হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৫৯১ — সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত
নামাজের মতো ইবাদতের পরও ইস্তিগফার করা শেখায়, আমাদের ইবাদতে ত্রুটি থেকে যায়, আর বিনয়ের সঙ্গে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়াই বান্দার কাজ।
আল্লাহর একত্ব ও সার্বভৌমত্বের ঘোষণা
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ
“আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসাও তাঁরই, আর তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ, আপনি যা দেন তা কেউ আটকাতে পারে না, আর আপনি যা আটকে রাখেন তা কেউ দিতে পারে না। আর আপনার (শাস্তির) মোকাবিলায় কোনো ধনীর ধন-সম্পদ কাজে আসে না।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৮৪৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৫৯৩ — মুগিরা ইবনু শুবা (রা.) থেকে বর্ণিত
তাসবিহ, তাহমিদ ও তাকবির
“যে ব্যক্তি প্রতিটি নামাজের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৩ বার আল্লাহু আকবার বলে, এতে মোট নিরানব্বই হয়, আর একশ পূর্ণ করার জন্য বলে:
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
তার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হয়, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমান হয়।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৫৯৭ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
দরিদ্র সাহাবিদের প্রশ্ন
দরিদ্র সাহাবিরা নবীজির ﷺ কাছে এসে বললেন, ধনীরা উচ্চ মর্যাদা ও স্থায়ী নিয়ামত নিয়ে এগিয়ে গেছেন। তাঁরা আমাদের মতো নামাজ পড়েন, রোজা রাখেন, আবার সম্পদ দিয়ে হজ, উমরা, জিহাদ ও দান করেন। নবীজি ﷺ বললেন: “আমি কি তোমাদের এমন একটি আমল শেখাব না, যা করলে তোমরা তোমাদের অগ্রগামীদের ধরে ফেলবে, আর তোমাদের পরে কেউ তোমাদের ছাড়িয়ে যেতে পারবে না, যদি না সে-ও একই আমল করে? প্রতিটি নামাজের পর তেত্রিশবার করে তাসবিহ, তাহমিদ ও তাকবির পড়ো।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৮৪৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৫৯৫ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত (সংক্ষেপিত)
শোকর ও সুন্দর ইবাদতের দোয়া
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
“হে আল্লাহ, আপনার যিকির, আপনার শোকর এবং সুন্দরভাবে আপনার ইবাদত করার জন্য আমাকে সাহায্য করুন।” নবীজি ﷺ মুআজ (রা.)-কে প্রতিটি নামাজের পর এ দোয়া পড়ার ওসিয়ত করেছিলেন।
সুনান আবু দাউদ, হাদিস ১৫২২ (সহিহ) — মুআজ ইবনু জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত
মুআওবিযাত
উকবা ইবনু আমির (রা.) বলেন, নবীজি ﷺ আমাকে প্রতিটি নামাজের পর মুআওবিযাত (আশ্রয় প্রার্থনার সূরাগুলো: সূরা আল-ফালাক ও আন-নাস; অনেক আলেমের মতে সূরা আল-ইখলাসও এর অন্তর্ভুক্ত) পড়ার আদেশ দিয়েছেন।
সুনান আবু দাউদ, হাদিস ১৫২৩; জামে তিরমিজি, হাদিস ২৯০৩ (সহিহ)
📚 তথ্যসূত্র
সহিহ বুখারি: ৮৪৩, ৮৪৪ • সহিহ মুসলিম: ৫৯১, ৫৯৩, ৫৯৫, ৫৯৭ • আবু দাউদ: ১৫২২, ১৫২৩ • তিরমিজি ২৯০৩
Leave a Reply