জান্নাত ও জাহান্নাম মানুষের চিরস্থায়ী ঠিকানা। কুরআন ও সহিহ হাদিসে এ দুটির এমন বিবরণ এসেছে, যা মুমিনের অন্তরে আশা ও ভয় দুটোই জাগিয়ে রাখে। এই প্রবন্ধে নির্ভরযোগ্য দলিল থেকে জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা তুলে ধরা হলো।
- জান্নাতের দিকে প্রতিযোগিতা
- জান্নাত ও জাহান্নামের পথ
- জাহান্নামের আগুনের তীব্রতা
- দুনিয়ার সুখ-দুঃখ এক মুহূর্তে বিস্মৃত
- আল্লাহর সন্তুষ্টি: সবচেয়ে বড় নিয়ামত
- আল্লাহর দর্শন
জান্নাতের দিকে প্রতিযোগিতা
وَسَارِعُوا إِلَىٰ مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ
“তোমরা দ্রুত অগ্রসর হও তোমাদের রবের ক্ষমা এবং সেই জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের সমান। এটি প্রস্তুত করা হয়েছে মুত্তাকিদের জন্য।”
সূরা আলে ইমরান ৩:১৩৩
জান্নাত ও জাহান্নামের পথ
حُفَّتِ الْجَنَّةُ بِالْمَكَارِهِ، وَحُفَّتِ النَّارُ بِالشَّهَوَاتِ
“জান্নাতকে ঘিরে রাখা হয়েছে কষ্টকর বিষয় দিয়ে, আর জাহান্নামকে ঘিরে রাখা হয়েছে প্রবৃত্তির কামনা-বাসনা দিয়ে।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৮২২ — আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত; অনুরূপ সহিহ বুখারি ৬৪৮৭ (আবু হুরায়রা রা. থেকে)
অর্থাৎ জান্নাতের পথে আছে নামাজের জন্য ঘুম ছাড়া, প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াই ও ধৈর্য। আর জাহান্নামের পথ সাজানো আছে হারাম আনন্দ ও লোভনীয় গুনাহ দিয়ে।
জাহান্নামের আগুনের তীব্রতা
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ
“হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের ও পরিবারকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর।”
সূরা আত-তাহরিম ৬৬:৬
“তোমাদের এই (দুনিয়ার) আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের এক ভাগ মাত্র।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩২৬৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৮৪৩ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
“কিয়ামতের দিন জাহান্নামবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা শাস্তি হবে সেই ব্যক্তির, যার দুই পায়ের তলায় দুটি জ্বলন্ত অঙ্গার রাখা হবে, আর তাতে তার মগজ ফুটতে থাকবে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৫৬২; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১৩ — নুমান ইবনু বাশির (রা.) থেকে বর্ণিত
দুনিয়ার সুখ-দুঃখ এক মুহূর্তে বিস্মৃত
“কিয়ামতের দিন জাহান্নামবাসীদের মধ্য থেকে দুনিয়ার সবচেয়ে বিলাসী ব্যক্তিকে এনে জাহান্নামে একবার ডুবিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে: হে আদম সন্তান, তুমি কি কখনো কোনো কল্যাণ দেখেছ? কখনো কোনো সুখ পেয়েছ? সে বলবে: না, আল্লাহর কসম, হে আমার রব। আর জান্নাতবাসীদের মধ্য থেকে দুনিয়ার সবচেয়ে কষ্টে থাকা ব্যক্তিকে এনে জান্নাতে একবার ডুবিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে: হে আদম সন্তান, তুমি কি কখনো কোনো কষ্ট দেখেছ? সে বলবে: না, আল্লাহর কসম, হে আমার রব। আমি কখনো কোনো কষ্ট দেখিনি।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৮০৭ — আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত
আল্লাহর সন্তুষ্টি: সবচেয়ে বড় নিয়ামত
আল্লাহ জান্নাতবাসীদের জিজ্ঞেস করবেন: তোমরা কি সন্তুষ্ট? তারা বলবে: কেন সন্তুষ্ট হব না, আপনি আমাদের যা দিয়েছেন তা তো আপনার সৃষ্টির আর কাউকে দেননি! আল্লাহ বলবেন: আমি কি তোমাদের এর চেয়েও উত্তম কিছু দেব না? তারা বলবে: এর চেয়ে উত্তম আর কী হতে পারে? আল্লাহ বলবেন: “আমি তোমাদের ওপর আমার সন্তুষ্টি স্থায়ী করে দিলাম। এরপর আর কখনো তোমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হব না।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৫৪৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৮২৯ — আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত
আল্লাহর দর্শন
“তোমরা অবশ্যই তোমাদের রবকে দেখতে পাবে, যেভাবে এই (পূর্ণিমার) চাঁদকে দেখছ। তাঁকে দেখতে তোমাদের কোনো ভিড় বা কষ্ট হবে না।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৫৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৬৩৩ — জারির ইবনু আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত
জান্নাতবাসীরা জান্নাতে প্রবেশের পর আল্লাহ পর্দা সরিয়ে দেবেন। তখন তাদের কাছে রবের দিকে তাকানোর চেয়ে প্রিয় আর কিছুই দেওয়া হয়নি বলে মনে হবে। এরপর নবীজি ﷺ তিলাওয়াত করলেন: “যারা সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান এবং আরও অতিরিক্ত” (সূরা ইউনুস ১০:২৬)।
সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৮১ — সুহাইব (রা.) থেকে বর্ণিত
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ৩:১৩৩, ১০:২৬, ৬৬:৬ • সহিহ বুখারি: ৫৫৪, ৩২৬৫, ৬৪৮৭, ৬৫৪৯, ৬৫৬২ • সহিহ মুসলিম: ১৮১, ২১৩, ৬৩৩, ২৮০৭, ২৮২২, ২৮২৯, ২৮৪৩
Leave a Reply