রমজানের ফরজ রোজার বাইরেও নবীজি ﷺ বছরের বিভিন্ন সময়ে নফল রোজা রাখতেন এবং উম্মতকে উৎসাহ দিতেন। এগুলোর মধ্যে আছে আরাফা, আশুরা, শাওয়ালের ছয় রোজা, সোমবার-বৃহস্পতিবার এবং প্রতি মাসে তিনটি রোজা। সহিহ হাদিসের আলোকে নফল রোজার ফজিলত ও নিষিদ্ধ দিনগুলো তুলে ধরা হলো।
- আল্লাহর পথে একদিনের রোজা
- আরাফার রোজা
- আশুরার রোজা
- শাওয়ালের ছয় রোজা
- সোমবার ও প্রতি মাসে তিন দিন
- যেসব দিনে রোজা রাখা নিষেধ
আল্লাহর পথে একদিনের রোজা
“যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য) একদিন রোজা রাখে, আল্লাহ তার চেহারাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে দেন।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ২৮৪০; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৫৩ — আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত
আরাফার রোজা (৯ যিলহজ)
নবীজিকে ﷺ আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন: “এটি বিগত এক বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৬২ — আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত
আলেমগণ বলেছেন, এই রোজা হাজিদের জন্য নয়, যারা হজে নেই তাদের জন্য। আর এর মাধ্যমে মূলত সগিরা গুনাহ মাফ হয়।
আশুরার রোজা (১০ মুহাররম)
আশুরার রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে নবীজি ﷺ বললেন: “এটি বিগত এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৬২ — আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত
নবীজি ﷺ বলেছিলেন: “আমি যদি আগামী বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকি, তবে অবশ্যই নবম তারিখেও রোজা রাখব।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৩৪ — ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত
তাই ৯ ও ১০ মুহাররম দুই দিন রোজা রাখা উত্তম।
শাওয়ালের ছয় রোজা
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ
“যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, তারপর শাওয়াল মাসে আরও ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছর রোজা রাখল।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৬৪ — আবু আইয়ুব আল-আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত
সোমবার ও প্রতি মাসে তিন দিন
সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে নবীজি ﷺ বললেন: “এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি, আর এই দিনেই আমার ওপর (কুরআন) নাজিল হয়েছে।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৬২ — আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমার বন্ধু (নবীজি ﷺ) আমাকে তিনটি বিষয়ের ওসিয়ত করেছেন: প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা, চাশতের দুই রাকাত নামাজ পড়া, এবং ঘুমানোর আগে বিতর পড়া।
সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯৮১; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৭২১
“আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় রোজা হলো দাউদ (আ.)-এর রোজা। তিনি একদিন রোজা রাখতেন, আরেকদিন রাখতেন না।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১১৩১; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৫৯ — আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত
যেসব দিনে রোজা রাখা নিষেধ
নবীজি ﷺ দুই দিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন: ঈদুল ফিতরের দিন এবং ঈদুল আজহার দিন।
সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯৯১; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৩৮ — আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত
“তোমাদের কেউ যেন শুধু জুমার দিন রোজা না রাখে। তবে তার আগের দিন বা পরের দিনও রাখলে (সমস্যা নেই)।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯৮৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৪৪ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
এছাড়া আইয়ামে তাশরিকে (১১, ১২ ও ১৩ যিলহজ) রোজা রাখাও নিষেধ। নবীজি ﷺ এগুলোকে পানাহার ও আল্লাহর যিকিরের দিন বলেছেন (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৪১)।
📚 তথ্যসূত্র
সহিহ বুখারি: ১১৩১, ১৯৮১, ১৯৮৫, ১৯৯১, ২৮৪০, ৫১৯২ • সহিহ মুসলিম: ৭২১, ১০২৬, ১১৩৪, ১১৩৮, ১১৪১, ১১৪৪, ১১৫৩, ১১৫৯, ১১৬২, ১১৬৪
Leave a Reply