জুমার দিন মুসলিমদের সাপ্তাহিক ঈদ। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, আর এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। এ দিনে রয়েছে দোয়া কবুলের একটি বিশেষ মুহূর্ত। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে জুমার ফজিলত ও আদব তুলে ধরা হলো।
- জুমার নামাজের নির্দেশ
- সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন
- দোয়া কবুলের মুহূর্ত
- জুমার আদব ও সুন্নাহ
- খুতবার সময় নীরবতা
- জুমা ত্যাগের পরিণতি
জুমার নামাজের নির্দেশ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
“হে মুমিনগণ, জুমার দিন যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বন্ধ রাখো। এটিই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।”
সূরা আল-জুমুআ ৬২:৯
সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন
“সূর্য উদিত হয় এমন দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। এ দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে, এবং এ দিনেই তাঁকে সেখান থেকে বের করা হয়েছে। আর কিয়ামতও জুমার দিনেই সংঘটিত হবে।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৫৪ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
“পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে আরেক জুমা এবং এক রমজান থেকে আরেক রমজান, এগুলোর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের জন্য কাফফারা হয়ে যায়, যদি কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩৩ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
দোয়া কবুলের মুহূর্ত
নবীজি ﷺ জুমার দিনের কথা উল্লেখ করে বললেন: “এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, কোনো মুসলিম বান্দা যদি সে মুহূর্তে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে কিছু চায়, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে তা দান করেন।” এ কথা বলে তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে বোঝালেন যে মুহূর্তটি খুবই সংক্ষিপ্ত।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৯৩৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৫২ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
এই মুহূর্তটি ঠিক কখন, তা নিয়ে আলেমদের একাধিক মত আছে। প্রসিদ্ধ দুটি মত হলো: ইমামের মিম্বারে বসা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত (সহিহ মুসলিম ৮৫৩), অথবা আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
জুমার আদব ও সুন্নাহ
غُسْلُ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ
“জুমার দিনের গোসল প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কের ওপর ওয়াজিব (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ)।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৮৭৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৪৬ — আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত
এখানে “ওয়াজিব” শব্দের অর্থ নিয়ে আলেমদের মতভেদ আছে। অধিকাংশ আলেমের মতে, জুমার গোসল সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।
“যে ব্যক্তি জুমার দিন জানাবাতের গোসলের মতো গোসল করে প্রথম সময়ে মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কুরবানি করল। যে দ্বিতীয় সময়ে যায়, সে যেন একটি গরু কুরবানি করল। যে তৃতীয় সময়ে যায়, সে যেন একটি শিংওয়ালা দুম্বা কুরবানি করল। যে চতুর্থ সময়ে যায়, সে যেন একটি মুরগি দান করল। আর যে পঞ্চম সময়ে যায়, সে যেন একটি ডিম দান করল। এরপর ইমাম যখন বের হন, তখন ফেরেশতারা যিকির (খুতবা) শোনার জন্য উপস্থিত হন।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৮৮১; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৫০ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
“তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। অতএব, এ দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো, কেননা তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।”
সুনান আবু দাউদ, হাদিস ১০৪৭ (শাইখ আলবানি: সহিহ) — আওস ইবনু আওস (রা.) থেকে বর্ণিত
খুতবার সময় নীরবতা
“জুমার দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় যদি তুমি তোমার পাশের লোককে বলো ‘চুপ করো’, তবে তুমিও অনর্থক কাজ করলে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৯৩৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৫১ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
জুমা ত্যাগের পরিণতি
“লোকেরা হয় জুমা ত্যাগ করা থেকে বিরত থাকবে, নতুবা আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেবেন। তখন তারা গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৬৫ — ইবনু উমর ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ৬২:৯ • সহিহ বুখারি: ৮৭৯, ৮৮১, ৯৩৪, ৯৩৫ • সহিহ মুসলিম: ২৩৩, ৮৪৬, ৮৫০, ৮৫১, ৮৫২, ৮৫৩, ৮৫৪, ৮৬৫ • আবু দাউদ ১০৪৭
Leave a Reply