রমজান শেষে ঈদের নামাজের আগে আদায় করতে হয় সদকাতুল ফিতর (যাকাতুল ফিতর)। এটি রোজাদারের ভুলত্রুটির কাফফারা এবং ঈদের দিন দরিদ্রদের খাবারের ব্যবস্থা। সহিহ হাদিসের আলোকে এর বিধান তুলে ধরা হলো।
- সদকাতুল ফিতর কার ওপর ফরজ
- সদকাতুল ফিতরের উদ্দেশ্য
- কী দিয়ে ও কতটুকু দিতে হবে
- আদায়ের সময়
- টাকায় আদায় করা: মতভেদ
সদকাতুল ফিতর কার ওপর ফরজ
ইবনু উমর (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল ﷺ যাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন, এক সা খেজুর অথবা এক সা যব। এটি প্রত্যেক মুসলিমের ওপর: দাস ও স্বাধীন, পুরুষ ও নারী, ছোট ও বড়। আর তিনি আদেশ দিয়েছেন, মানুষ ঈদের নামাজে বের হওয়ার আগেই যেন তা আদায় করা হয়।
সহিহ বুখারি, হাদিস ১৫০৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৮৪
শিশু ও যাদের ভরণপোষণ পরিবারপ্রধানের দায়িত্বে, তাদের পক্ষ থেকে অভিভাবক আদায় করবেন।
সদকাতুল ফিতরের উদ্দেশ্য
ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল ﷺ যাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন রোজাদারকে অনর্থক ও অশ্লীল কথাবার্তা থেকে পবিত্র করার জন্য এবং মিসকিনদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য। যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের আগে তা আদায় করে, সেটি কবুলযোগ্য যাকাত। আর যে নামাজের পরে আদায় করে, সেটি সাধারণ সদকাগুলোর একটি সদকা হিসেবে গণ্য হবে।
সুনান আবু দাউদ, হাদিস ১৬০৯; সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস ১৮২৭ (শাইখ আলবানি: হাসান)
কী দিয়ে ও কতটুকু দিতে হবে
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, আমরা যাকাতুল ফিতর আদায় করতাম এক সা খাদ্য, অথবা এক সা যব, অথবা এক সা খেজুর, অথবা এক সা পনির, অথবা এক সা কিশমিশ দিয়ে।
সহিহ বুখারি, হাদিস ১৫০৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৮৫
“সা” হলো নবীযুগের একটি পরিমাপের পাত্র। আধুনিক ওজনে এর পরিমাণ নিয়ে আলেমদের হিসাব ভিন্ন, সাধারণত প্রায় ২.৫ থেকে ৩ কেজি বলা হয়। হানাফি মাজহাবে গমের ক্ষেত্রে অর্ধ সা (প্রায় ১.৬৫ কেজি) গ্রহণযোগ্য, যার ভিত্তি সাহাবিদের একটি আমল (সহিহ মুসলিম ৯৮৫-এ মুআবিয়া (রা.)-এর ঘটনা দ্রষ্টব্য)।
আদায়ের সময়
উত্তম সময় হলো ঈদের দিন সকালে, ঈদের নামাজের আগে (বুখারি ১৫০৩)। সাহাবিরা ঈদের এক বা দুই দিন আগেও আদায় করতেন (সহিহ বুখারি, হাদিস ১৫১১)। ঈদের নামাজের পর পর্যন্ত বিলম্ব করা উচিত নয়।
টাকায় আদায় করা: মতভেদ
হাদিসে খাদ্যদ্রব্যের কথা এসেছে। তাই ইমাম মালিক, শাফেয়ি ও আহমাদ (রহ.)-এর মতে খাদ্য দিয়েই আদায় করতে হবে। অন্যদিকে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, খাদ্যের মূল্য অর্থাৎ টাকা দিয়েও আদায় করা জায়েজ, যদি তা গরিবের জন্য বেশি উপকারী হয়। উভয় মতের পক্ষে নির্ভরযোগ্য আলেমগণ রয়েছেন।
📚 তথ্যসূত্র
সহিহ বুখারি: ১৫০৩, ১৫০৬, ১৫১১ • সহিহ মুসলিম: ৯৮৪, ৯৮৫ • আবু দাউদ ১৬০৯, ইবনু মাজাহ ১৮২৭
Leave a Reply