☪কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে
🌐

রোগ-ব্যাধিতে মাসনুন দোয়া ও রুকইয়া

রোগ-ব্যাধি আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা এবং গুনাহ মাফের মাধ্যম। চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি নবীজি ﷺ রোগীর জন্য বিভিন্ন দোয়া ও শিরকমুক্ত ঝাড়ফুঁক (রুকইয়া) শিখিয়েছেন। সহিহ সূত্রে বর্ণিত এসব দোয়া আরবি, অর্থ ও রেফারেন্সসহ তুলে ধরা হলো।

📑 সূচিপত্র

  1. প্রতিটি রোগের ওষুধ আছে
  2. রোগীর জন্য নবীজির ﷺ দোয়া
  3. ব্যথার স্থানে হাত রেখে দোয়া
  4. রোগী দেখতে গিয়ে সাতবার দোয়া
  5. সূরা আল-ফাতিহা দিয়ে রুকইয়া
  6. মুআওবিযাত দিয়ে ঝাড়ফুঁক
  7. শিরকমুক্ত রুকইয়ার শর্ত

প্রতিটি রোগের ওষুধ আছে

হাদিস

مَا أَنْزَلَ اللَّهُ دَاءً إِلَّا أَنْزَلَ لَهُ شِفَاءً

“আল্লাহ এমন কোনো রোগ নাজিল করেননি, যার জন্য আরোগ্যের ব্যবস্থা নাজিল করেননি।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৬৭৮ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত

অর্থাৎ চিকিৎসা নেওয়া তাওয়াক্কুলের বিরোধী নয়, বরং সুন্নাতের অংশ। চিকিৎসার পাশাপাশি দোয়া ও রুকইয়া আল্লাহর ওপর ভরসার প্রকাশ।

রোগীর জন্য নবীজির ﷺ দোয়া

দোয়া

اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ، أَذْهِبِ الْبَأْسَ، اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا

“হে আল্লাহ, মানুষের রব, কষ্ট দূর করে দিন। আরোগ্য দান করুন, আপনিই আরোগ্যদাতা। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য দিন, যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৭৪৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১৯১ — আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। নবীজি ﷺ পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে ডান হাত বুলিয়ে এ দোয়া পড়তেন।

ব্যথার স্থানে হাত রেখে দোয়া

দোয়া

উসমান ইবনু আবিল আস (রা.) শরীরে ব্যথার কথা জানালে নবীজি ﷺ বললেন: “তোমার শরীরের যেখানে ব্যথা, সেখানে হাত রাখো এবং তিনবার বলো ‘বিসমিল্লাহ’, তারপর সাতবার বলো:

أَعُوذُ بِاللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ

আমি যে কষ্ট অনুভব করছি এবং যার আশঙ্কা করছি, তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহ ও তাঁর কুদরতের আশ্রয় চাই।”

সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২০২

রোগী দেখতে গিয়ে সাতবার দোয়া

দোয়া

أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ، رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، أَنْ يَشْفِيَكَ

“আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, যিনি মহান আরশের রব, তিনি যেন তোমাকে আরোগ্য দান করেন।” যে ব্যক্তি এমন কোনো রোগীকে দেখতে যায় যার মৃত্যু উপস্থিত হয়নি, এবং তার কাছে সাতবার এ দোয়া পড়ে, আল্লাহ তাকে সেই রোগ থেকে আরোগ্য দান করেন।

সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৩১০৬; জামে তিরমিজি, হাদিস ২০৮৩ (সহিহ) — ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত

সূরা আল-ফাতিহা দিয়ে রুকইয়া

হাদিস

এক সফরে একদল সাহাবি এক গোত্রের পাশে অবস্থান করছিলেন। সে গোত্রের সর্দারকে বিচ্ছু কামড়েছিল। এক সাহাবি সূরা আল-ফাতিহা পড়ে ফুঁ দিলেন, আর সর্দার সুস্থ হয়ে উঠল। পরে নবীজিকে ﷺ জানানো হলে তিনি বললেন: “তুমি কীভাবে জানলে যে এটি (ফাতিহা) রুকইয়া?”

সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৭৩৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২০১ — আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত (সংক্ষেপিত)

মুআওবিযাত দিয়ে ঝাড়ফুঁক

হাদিস

আয়েশা (রা.) বলেন, নবীজি ﷺ অসুস্থ হলে মুআওবিযাত (সূরা আল-ফালাক ও আন-নাস) পড়ে নিজের শরীরে ফুঁ দিতেন। তাঁর অসুস্থতা বেড়ে গেলে আমি এগুলো পড়ে তাঁর হাত দিয়েই তাঁর শরীরে মাসেহ করে দিতাম, এর বরকতের আশায়।

সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০১৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১৯২

শিরকমুক্ত রুকইয়ার শর্ত

হাদিস

সাহাবিরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, জাহেলি যুগে আমরা ঝাড়ফুঁক করতাম, এ বিষয়ে আপনার মত কী? তিনি বললেন: “তোমাদের ঝাড়ফুঁকগুলো আমার সামনে পেশ করো। যে ঝাড়ফুঁকে শিরক নেই, তাতে কোনো সমস্যা নেই।”

সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২০০ — আওফ ইবনু মালিক আল-আশজায়ি (রা.) থেকে বর্ণিত

আলেমগণ বলেছেন, বৈধ রুকইয়ার জন্য তিনটি শর্ত: তা কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম ও গুণাবলি বা মাসনুন দোয়া দিয়ে হতে হবে; বোধগম্য ভাষায় হতে হবে; এবং বিশ্বাস রাখতে হবে যে আরোগ্য দেন একমাত্র আল্লাহ, রুকইয়া নিজে নয়।

পরামর্শ: অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, পাশাপাশি এ দোয়াগুলো পড়ুন। নিজের জন্য নিজেই রুকইয়া করুন, অথবা পরিবারের কেউ করে দিন। অজানা শব্দ, তাবিজ বা কুসংস্কারভিত্তিক “চিকিৎসা” থেকে দূরে থাকুন। আর অসুস্থতায় ধৈর্য ধরুন, কারণ এর মাধ্যমে আল্লাহ গুনাহ মাফ করেন (সহিহ বুখারি ৫৬৪১)।

📚 তথ্যসূত্র

সহিহ বুখারি: ৫০১৬, ৫৬৪১, ৫৬৭৮, ৫৭৩৬, ৫৭৪৩ • সহিহ মুসলিম: ২১৯১, ২১৯২, ২২০০, ২২০১, ২২০২ • আবু দাউদ ৩১০৬ • তিরমিজি ২০৮৩

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *