☪কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে
🌐

কন্যাসন্তান: রহমত ও জান্নাতের পথ

জাহেলি যুগে কন্যাসন্তানের জন্মকে অপমান মনে করা হতো, এমনকি জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। ইসলাম এসে এ নিষ্ঠুরতার মূলোৎপাটন করে এবং কন্যাসন্তানকে আল্লাহর দান, রহমত ও জাহান্নাম থেকে রক্ষার মাধ্যম ঘোষণা করে। নবীজি ﷺ নিজে কন্যা ফাতিমা (রা.)-কে যে স্নেহ ও সম্মান দিয়েছেন, তা চিরকালের আদর্শ। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে বিষয়টি তুলে ধরা হলো।

📑 সূচিপত্র

  1. জাহেলি মানসিকতার নিন্দা
  2. জীবন্ত কবরস্থ কন্যার প্রশ্ন
  3. সন্তান আল্লাহর দান
  4. কন্যারা জাহান্নাম থেকে রক্ষাকবচ
  5. জান্নাতে নবীজির ﷺ সান্নিধ্য
  6. ফাতিমা (রা.)-এর প্রতি নবীজির ﷺ ভালোবাসা

জাহেলি মানসিকতার নিন্দা

কুরআন

وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُم بِالْأُنثَىٰ ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ

“আর যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার চেহারা কালো হয়ে যায় এবং সে ক্ষোভে দুঃখ চেপে রাখে।”

সূরা আন-নাহল ১৬:৫৮ — পরের আয়াতে (১৬:৫৯) আল্লাহ এ মানসিকতাকে “কতই না নিকৃষ্ট সিদ্ধান্ত” বলেছেন।

আজও কোথাও কোথাও কন্যাসন্তান জন্মালে মন খারাপ করা বা মাকে দোষারোপ করার যে প্রবণতা দেখা যায়, তা এই জাহেলি মানসিকতারই অবশেষ।

জীবন্ত কবরস্থ কন্যার প্রশ্ন

কুরআন

وَإِذَا الْمَوْءُودَةُ سُئِلَتْ ۝ بِأَيِّ ذَنبٍ قُتِلَتْ

“আর যখন জীবন্ত কবরস্থ কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে, কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল?”

সূরা আত-তাকভির ৮১:৮–৯

সন্তান আল্লাহর দান

কুরআন

يَهَبُ لِمَن يَشَاءُ إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَن يَشَاءُ الذُّكُورَ

“তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন, আর যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন।”

সূরা আশ-শুরা ৪২:৪৯

লক্ষণীয়, আয়াতে আল্লাহ কন্যাসন্তানের কথা আগে উল্লেখ করেছেন এবং উভয়কেই “দান” (হিবা) বলেছেন। আর সন্তান ছেলে হবে নাকি মেয়ে, তা সম্পূর্ণ আল্লাহর সিদ্ধান্ত, মায়ের নয়।

কন্যারা জাহান্নাম থেকে রক্ষাকবচ

হাদিস

আয়েশা (রা.) বলেন, এক দরিদ্র নারী তার দুই কন্যাকে নিয়ে আমার কাছে এল। আমার কাছে একটি খেজুর ছাড়া আর কিছু ছিল না, আমি সেটিই তাকে দিলাম। সে খেজুরটি দুই ভাগ করে দুই মেয়েকে দিয়ে দিল, নিজে কিছুই খেল না। তারপর চলে গেল। নবীজি ﷺ এলে আমি ঘটনাটি জানালাম। তিনি বললেন: “যাকে এসব কন্যাসন্তান দিয়ে কোনোভাবে পরীক্ষা করা হয়, আর সে তাদের সঙ্গে সদাচরণ করে, তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে আড়াল হবে।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯৯৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬২৯ (সংক্ষেপিত)

জান্নাতে নবীজির ﷺ সান্নিধ্য

হাদিস

“যে ব্যক্তি দুটি কন্যাকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করে, কিয়ামতের দিন সে এবং আমি এভাবে (পাশাপাশি) থাকব।” এ কথা বলে তিনি নিজের আঙুলগুলো মিলিয়ে দেখালেন।

সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬৩১ — আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত

ফাতিমা (রা.)-এর প্রতি নবীজির ﷺ ভালোবাসা

হাদিস

فَاطِمَةُ بَضْعَةٌ مِنِّي، فَمَنْ أَغْضَبَهَا أَغْضَبَنِي

“ফাতিমা আমার দেহের একটি অংশ। যে তাকে রাগান্বিত করে, সে আমাকে রাগান্বিত করে।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৭১৪; অনুরূপ সহিহ মুসলিম ২৪৪৯ — মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রা.) থেকে বর্ণিত

হাদিস

আয়েশা (রা.) বলেন, ফাতিমা (রা.) যখন নবীজির ﷺ কাছে আসতেন, তিনি উঠে তাঁর দিকে এগিয়ে যেতেন, তাঁর হাত ধরতেন, তাঁকে চুমু খেতেন এবং নিজের জায়গায় বসাতেন।

সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৫২১৭ (শাইখ আলবানি: সহিহ) (সংক্ষেপিত)

বাবা-মায়ের জন্য: কন্যাসন্তানের জন্মে আনন্দ প্রকাশ করুন, শুকরিয়া আদায় করুন। ছেলে ও মেয়ের মধ্যে খাবার, পোশাক, শিক্ষা ও ভালোবাসায় ন্যায়বিচার করুন (সহিহ বুখারি ২৫৮৭)। মেয়েকে দ্বীনি শিক্ষা দিন, আর নবীজির ﷺ মতো স্নেহ ও সম্মানের সঙ্গে আচরণ করুন। জান্নাতে নবীজির ﷺ পাশে থাকার এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।

📚 তথ্যসূত্র

আল-কুরআন: ১৬:৫৮–৫৯, ৪২:৪৯, ৮১:৮–৯ • সহিহ বুখারি: ২৫৮৭, ৩৭১৪, ৫৯৯৫ • সহিহ মুসলিম: ২৪৪৯, ২৬২৯, ২৬৩১ • আবু দাউদ ৫২১৭

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *