মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অভাবীকে সুদমুক্ত ঋণ (কর্জে হাসানা) দেওয়া, আর অসচ্ছল ঋণগ্রহীতাকে ছাড় দেওয়া, এগুলো এমন আমল, যার বিনিময় আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে দেন। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ এমনকি অসুস্থ ও ক্ষুধার্ত মানুষের সেবাকে নিজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে বিষয়টি তুলে ধরা হলো।
- আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও
- একের কষ্ট লাঘব, আল্লাহর পক্ষ থেকে কষ্ট লাঘব
- ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ
- কিয়ামতের কষ্ট থেকে মুক্তির উপায়
- অসচ্ছলকে সময় দেওয়া
- “আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি দেখতে আসোনি”
আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও
مَّن ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ أَضْعَافًا كَثِيرَةً ۚ وَاللَّهُ يَقْبِضُ وَيَبْسُطُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
“কে আছে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে? তাহলে তিনি তার জন্য তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন। আর আল্লাহই (রিজিক) সংকুচিত করেন ও প্রশস্ত করেন, এবং তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।”
সূরা আল-বাকারা ২:২৪৫
আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন। তবু তিনি তাঁর পথে খরচ করাকে “ঋণ” বলে উল্লেখ করেছেন, যাতে বান্দা নিশ্চিত হয় যে, এর বিনিময় অবশ্যই বহুগুণে ফিরে আসবে।
একের কষ্ট লাঘব, আল্লাহর পক্ষ থেকে কষ্ট লাঘব
مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُؤْمِنٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ
“যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার কষ্টগুলোর একটি কষ্ট দূর করে, আল্লাহ কিয়ামতের দিনের কষ্টগুলোর একটি কষ্ট তার থেকে দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অসচ্ছল ব্যক্তির জন্য সহজ করে দেয়, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার জন্য সহজ করে দেবেন… আর বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে, আল্লাহ ততক্ষণ তার সাহায্যে থাকেন।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬৯৯ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত (সংক্ষেপিত)
ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ
“এক মুসলিম আরেক মুসলিমের ভাই। সে তার ওপর জুলুম করে না এবং তাকে (শত্রুর হাতে) ছেড়ে দেয় না। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে থাকে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণে থাকেন।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ২৪৪২; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৮০ — ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত (সংক্ষেপিত)
কিয়ামতের কষ্ট থেকে মুক্তির উপায়
“যে ব্যক্তি চায় আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিনের দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি দেবেন, সে যেন অসচ্ছল (ঋণগ্রহীতা)-কে সময় দেয় অথবা তার ঋণ মাফ করে দেয়।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৫৬৩ — আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত
অসচ্ছলকে সময় দেওয়া
وَإِن كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَىٰ مَيْسَرَةٍ ۚ وَأَن تَصَدَّقُوا خَيْرٌ لَّكُمْ
“আর ঋণগ্রহীতা যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তবে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত তাকে অবকাশ দাও। আর যদি মাফ করে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম।”
সূরা আল-বাকারা ২:২৮০
“আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি দেখতে আসোনি”
কিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন: “হে আদম সন্তান, আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি আমাকে দেখতে আসোনি।” বান্দা বলবে: হে আমার রব, আমি কীভাবে আপনাকে দেখতে যাব, অথচ আপনি বিশ্বজগতের রব? আল্লাহ বলবেন: “তুমি কি জানতে না, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল, তুমি তাকে দেখতে যাওনি? তুমি কি জানতে না, যদি তুমি তাকে দেখতে যেতে, তবে আমাকে তার কাছে পেতে?” একইভাবে আল্লাহ বলবেন: “আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম, তুমি আমাকে খাওয়াওনি… আমি তোমার কাছে পানি চেয়েছিলাম, তুমি আমাকে পান করাওনি…”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৬৯ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত (সংক্ষেপিত)
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ২:২৪৫, ২:২৮০ • সহিহ বুখারি: ২৪৪২ • সহিহ মুসলিম: ১৫৬৩, ২৫৬৯, ২৫৮০, ২৬৯৯
Leave a Reply