উম্মুল মুমিনিন আয়েশা বিনতে আবি বকর (রা.) ছিলেন নবীজির ﷺ প্রিয়তম স্ত্রী, আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর কন্যা, এবং উম্মতের সবচেয়ে বড় নারী আলেম। দ্বীনের বহু বিধান ও নবীজির ﷺ পারিবারিক জীবনের অসংখ্য সুন্নাহ আমরা তাঁর মাধ্যমেই জেনেছি। সহিহ হাদিসের আলোকে তাঁর মর্যাদা তুলে ধরা হলো।
- নবীজির ﷺ সবচেয়ে প্রিয় মানুষ
- নারীদের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব
- জিবরিলের সালাম
- আসমান থেকে নির্দোষিতার ঘোষণা
- তাঁর কারণে উম্মতের জন্য সহজতা
- সাহাবিদের শিক্ষক
- নবীজির ﷺ শেষ মুহূর্ত
নবীজির ﷺ সবচেয়ে প্রিয় মানুষ
আমর ইবনুল আস (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, মানুষের মধ্যে আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয় কে? তিনি বললেন: “আয়েশা।” জিজ্ঞেস করলেন, পুরুষদের মধ্যে? তিনি বললেন: “তার বাবা।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬৬২; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩৮৪
নারীদের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব
“নারীদের ওপর আয়েশার শ্রেষ্ঠত্ব হলো সব খাবারের ওপর সারিদের (সে যুগের সেরা খাবার) শ্রেষ্ঠত্বের মতো।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৭৭০; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৪৪৬ — আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত
জিবরিলের সালাম
নবীজি ﷺ একদিন বললেন: “হে আয়েশা, ইনি জিবরিল, তোমাকে সালাম দিচ্ছেন।” আয়েশা (রা.) বললেন: “ওয়া আলাইহিস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আপনি এমন কিছু দেখেন, যা আমি দেখি না।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৭৬৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৪৪৭
আসমান থেকে নির্দোষিতার ঘোষণা
মুনাফিকরা আয়েশা (রা.)-এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ রটিয়েছিল। প্রায় এক মাস তিনি গভীর কষ্টে কাটিয়েছেন। অবশেষে আল্লাহ সূরা আন-নূরে দশটি আয়াত (২৪:১১–২০) নাজিল করে তাঁর নির্দোষিতা ঘোষণা করেন, যা কিয়ামত পর্যন্ত তিলাওয়াত করা হবে (সহিহ বুখারি, হাদিস ৪৭৫০)।
إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالْإِفْكِ عُصْبَةٌ مِّنكُمْ ۚ لَا تَحْسَبُوهُ شَرًّا لَّكُم ۖ بَلْ هُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ
“নিশ্চয়ই যারা এই অপবাদ রটিয়েছে, তারা তোমাদেরই একটি দল। তোমরা একে নিজেদের জন্য অকল্যাণকর মনে কোরো না, বরং এটি তোমাদের জন্য কল্যাণকর।”
সূরা আন-নূর ২৪:১১
এ ঘটনা থেকে উম্মত শিখেছে, যাচাই ছাড়া কারও বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়ানো কত বড় গুনাহ, আর মুমিনদের ব্যাপারে সুধারণা রাখা কত জরুরি (২৪:১২)।
তাঁর কারণে উম্মতের জন্য সহজতা
এক সফরে আয়েশা (রা.)-এর একটি হার হারিয়ে গেল। তা খুঁজতে গিয়ে কাফেলা এমন জায়গায় থেমে গেল, যেখানে পানি ছিল না। তখন তায়াম্মুমের আয়াত নাজিল হলো। উসাইদ ইবনু হুদাইর (রা.) বললেন: “হে আবু বকরের পরিবার, এটি তোমাদের প্রথম বরকত নয়।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৩৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩৬৭ (সংক্ষেপিত)
সাহাবিদের শিক্ষক
আবু মুসা আল-আশআরি (রা.) বলেন: “আমাদের, অর্থাৎ নবীজির ﷺ সাহাবিদের, কাছে যখনই কোনো হাদিসের বিষয়ে জটিলতা দেখা দিত, আমরা আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করতাম এবং তাঁর কাছে সে বিষয়ে জ্ঞান পেতাম।”
জামে তিরমিজি, হাদিস ৩৮৮৩ (শাইখ আলবানি: সহিহ)
তিনি দুই হাজারেরও বেশি হাদিস বর্ণনা করেছেন বলে হাদিসবিশারদগণ উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে নবীজির ﷺ ঘরোয়া জীবন, নারীদের বিধান এবং রাতের ইবাদত সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের বড় অংশ তাঁর মাধ্যমে এসেছে।
নবীজির ﷺ শেষ মুহূর্ত
নবীজি ﷺ জীবনের শেষ দিনগুলো আয়েশা (রা.)-এর ঘরে কাটানোর অনুমতি চেয়েছিলেন, আর অন্য স্ত্রীগণ সম্মতি দিয়েছিলেন। আয়েশা (রা.) বলেন, তিনি আমার ঘরে, আমার পালার দিনে, আমার বুক ও গলার মাঝে মাথা রেখে ইন্তেকাল করেছেন (সহিহ বুখারি, হাদিস ৪৪৫০)।
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ২৪:১১–২০ • সহিহ বুখারি: ৩৩৪, ৩৬৬২, ৩৭৬৮, ৩৭৭০, ৪৪৫০, ৪৭৫০ • সহিহ মুসলিম: ৩৬৭, ২৩৮৪, ২৪৪৬, ২৪৪৭ • তিরমিজি ৩৮৮৩
Leave a Reply