সদকা শুধু টাকা-পয়সা দানের নাম নয়। হাসিমুখে কথা বলা, রাস্তা থেকে কাঁটা সরানো, কাউকে পথ দেখানো, তৃষ্ণার্ত প্রাণীকে পানি পান করানো, এসবও সদকা। গরিব-ধনী সবাই প্রতিদিন এসব আমলের মাধ্যমে সওয়াব অর্জন করতে পারে। সহিহ হাদিসের আলোকে প্রতিদিনের সহজ সদকাগুলো তুলে ধরা হলো।
- শরীরের প্রতিটি জোড়ার সদকা
- সম্পদ না থাকলেও সদকা
- হাসিমুখও সদকা
- কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছ মনে কোরো না
- রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো
- প্রাণীর প্রতি দয়া
শরীরের প্রতিটি জোড়ার সদকা
“প্রতিদিন সূর্য উদিত হলে মানুষের প্রতিটি জোড়ার জন্য একটি করে সদকা আবশ্যক হয়। দুজন মানুষের মধ্যে ন্যায়সংগত মীমাংসা করে দেওয়া সদকা। কাউকে তার বাহনে উঠতে সাহায্য করা বা তার মালপত্র তুলে দেওয়া সদকা। উত্তম কথা সদকা। নামাজের জন্য প্রতিটি পদক্ষেপ সদকা। আর রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়াও সদকা।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ২৯৮৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০০৯ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
সম্পদ না থাকলেও সদকা
“প্রত্যেক মুসলিমের ওপর সদকা করা কর্তব্য।” সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, যদি কারও কিছু না থাকে? তিনি বললেন: “সে নিজ হাতে কাজ করে নিজের উপকার করবে এবং সদকা করবে।” তাঁরা বললেন, যদি তা-ও না পারে? তিনি বললেন: “তবে বিপদগ্রস্ত অভাবীকে সাহায্য করবে।” তাঁরা বললেন, যদি তা-ও না পারে? তিনি বললেন: “তবে ভালো কাজের আদেশ দেবে।” তাঁরা বললেন, যদি তা-ও না পারে? তিনি বললেন: “তবে অন্যায় থেকে বিরত থাকবে, এটিও তার জন্য সদকা।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৬০২২; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০০৮ — আবু মুসা আল-আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত
হাসিমুখও সদকা
تَبَسُّمُكَ فِي وَجْهِ أَخِيكَ لَكَ صَدَقَةٌ
“তোমার ভাইয়ের সামনে হাসিমুখে থাকা তোমার জন্য সদকা।” একই হাদিসে আছে: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ, পথহারাকে পথ দেখানো, দৃষ্টিহীনকে সাহায্য করা, রাস্তা থেকে পাথর-কাঁটা-হাড় সরানো, এবং নিজের বালতি থেকে ভাইয়ের বালতিতে পানি ঢেলে দেওয়াও সদকা।
জামে তিরমিজি, হাদিস ১৯৫৬ (শাইখ আলবানি: সহিহ) — আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত
কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছ মনে কোরো না
لَا تَحْقِرَنَّ مِنَ الْمَعْرُوفِ شَيْئًا، وَلَوْ أَنْ تَلْقَى أَخَاكَ بِوَجْهٍ طَلْقٍ
“কোনো ভালো কাজকেই তুচ্ছ মনে কোরো না, এমনকি তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করাকেও।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬২৬ — আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত
রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো
“এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে চলার সময় পথে একটি কাঁটাযুক্ত ডাল দেখতে পেল এবং তা সরিয়ে দিল। আল্লাহ তার এ কাজের মূল্যায়ন করলেন এবং তাকে ক্ষমা করে দিলেন।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৫২; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৯১৪ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
এ যুগে রাস্তায় পড়ে থাকা কলার খোসা, কাঁচের টুকরো, পেরেক বা ময়লা সরিয়ে দেওয়াও এ সওয়াবের অন্তর্ভুক্ত। আর রাস্তায় ময়লা ফেলে মানুষকে কষ্ট দেওয়া এর বিপরীত কাজ।
প্রাণীর প্রতি দয়া
এক ব্যক্তি পথ চলার সময় প্রচণ্ড তৃষ্ণার্ত হয়ে একটি কূপে নেমে পানি পান করল। উঠে এসে দেখল, একটি কুকুর তৃষ্ণায় হাঁপাচ্ছে এবং ভেজা মাটি চাটছে। সে কূপে নেমে নিজের মোজা ভরে পানি এনে কুকুরটিকে পান করাল। আল্লাহ তার এ কাজের মূল্যায়ন করলেন এবং তাকে ক্ষমা করে দিলেন। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, প্রাণীর ক্ষেত্রেও কি আমাদের জন্য সওয়াব আছে? নবীজি ﷺ বললেন: “প্রতিটি জীবন্ত প্রাণীর ক্ষেত্রেই সওয়াব রয়েছে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ২৩৬৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২৪৪ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত (সংক্ষেপিত)
📚 তথ্যসূত্র
সহিহ বুখারি: ৬৫২, ২৩৬৩, ২৯৮৯, ৬০২২ • সহিহ মুসলিম: ১০০৮, ১০০৯, ১৯১৪, ২২৪৪, ২৬২৬ • তিরমিজি ১৯৫৬
Leave a Reply