আল-কুরআন আল্লাহর কালাম। এটি মানবজাতির জন্য হিদায়াত, অন্তরের রোগের আরোগ্য, এবং কিয়ামতের দিন পাঠকারীর জন্য সুপারিশকারী। কুরআন শেখা, তিলাওয়াত করা ও তা নিয়ে চিন্তা করার ফজিলত কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে তুলে ধরা হলো।
- সন্দেহমুক্ত হিদায়াতের কিতাব
- আল্লাহ নিজেই কুরআনের সংরক্ষক
- কুরআন শেখা ও শেখানো
- তিলাওয়াতের সওয়াব
- কিয়ামতের দিন সুপারিশ
- তাদাব্বুর: কুরআন নিয়ে চিন্তা
সন্দেহমুক্ত হিদায়াতের কিতাব
ذَٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ ۛ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ
“এটি সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। এটি মুত্তাকিদের জন্য হিদায়াত।”
সূরা আল-বাকারা ২:২
আল্লাহ বলেছেন, এই কুরআন সেই পথের দিকে হিদায়াত দেয়, যা সবচেয়ে সরল ও সঠিক (সূরা আল-ইসরা ১৭:৯)।
আল্লাহ নিজেই কুরআনের সংরক্ষক
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ
“নিশ্চয়ই আমিই এই যিকির (কুরআন) নাজিল করেছি, আর আমিই এর সংরক্ষক।”
সূরা আল-হিজর ১৫:৯
কুরআন শেখা ও শেখানো
خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ
“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে নিজে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০২৭ — উসমান ইবনু আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ
“আর আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি। অতএব, উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?”
সূরা আল-কামার ৫৪:১৭
তিলাওয়াতের সওয়াব
“যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পাঠ করে, তার জন্য একটি নেকি রয়েছে, আর প্রতিটি নেকি দশগুণ। আমি বলছি না যে ‘আলিফ-লাম-মিম’ একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মিম একটি হরফ।”
জামে তিরমিজি, হাদিস ২৯১০ (ইমাম তিরমিজি: হাসান সহিহ) — আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত
“যে ব্যক্তি দক্ষতার সঙ্গে কুরআন পড়ে, সে সম্মানিত পুণ্যবান লেখক-ফেরেশতাদের সঙ্গে থাকবে। আর যে কষ্ট করে আটকে আটকে কুরআন পড়ে, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৪৯৩৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৭৯৮ — আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত
তাই যাঁরা এখনো ভালোভাবে পড়তে পারেন না, তাঁদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। চেষ্টার জন্য তাঁরা দ্বিগুণ সওয়াব পাচ্ছেন। আল্লাহ ধীরে ধীরে, স্পষ্টভাবে তারতিলের সঙ্গে কুরআন পড়তে বলেছেন (সূরা আল-মুযযাম্মিল ৭৩:৪)।
কিয়ামতের দিন সুপারিশ
اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لِأَصْحَابِهِ
“তোমরা কুরআন পড়ো, কেননা কিয়ামতের দিন কুরআন তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী হয়ে আসবে।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮০৪ — আবু উমামা আল-বাহিলি (রা.) থেকে বর্ণিত
“কেবল দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রেই ঈর্ষা (গিবতা) করা যায়। একজন হলো সেই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ কুরআন দান করেছেন এবং সে দিন-রাত তা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে (তিলাওয়াত ও আমল করে)। আরেকজন হলো সেই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন এবং সে দিন-রাত তা আল্লাহর পথে খরচ করে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০২৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮১৫ — ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত
তাদাব্বুর: কুরআন নিয়ে চিন্তা
كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِّيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ
“এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাজিল করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতগুলো নিয়ে চিন্তা করে এবং বুদ্ধিমানরা উপদেশ গ্রহণ করে।”
সূরা সোয়াদ ৩৮:২৯
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ২:২, ১৫:৯, ১৭:৯, ৩৮:২৯, ৫৪:১৭, ৭৩:৪ • সহিহ বুখারি: ৪৯৩৭, ৫০২৫, ৫০২৭ • সহিহ মুসলিম: ৭৯৮, ৮০৪, ৮১৫ • তিরমিজি ২৯১০
Leave a Reply