ইসলাম সম্পদ ব্যবহারে ভারসাম্যের শিক্ষা দেয়। অপচয়ও নয়, কৃপণতাও নয়, বরং মধ্যপন্থা। পাশাপাশি অন্যায়ভাবে সম্পদ অর্জনের অন্যতম মাধ্যম ঘুষকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে, আর অল্পে তুষ্ট থাকাকে প্রকৃত ধনী হওয়া বলেছে। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।
- খাও, পান করো, কিন্তু অপচয় কোরো না
- অপচয়কারী শয়তানের ভাই
- মধ্যপন্থা: রহমানের বান্দাদের গুণ
- সম্পদ নষ্ট করা আল্লাহর অপছন্দ
- ঘুষের ভয়াবহতা
- প্রকৃত ধনী কে
- অল্পে তুষ্টির সফলতা
খাও, পান করো, কিন্তু অপচয় কোরো না
وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا ۚ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ
“আর তোমরা খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় কোরো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।”
সূরা আল-আরাফ ৭:৩১
অপচয়কারী শয়তানের ভাই
وَلَا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ ۖ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِرَبِّهِ كَفُورًا
“আর কিছুতেই অপব্যয় কোরো না। নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার রবের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।”
সূরা আল-ইসরা ১৭:২৬–২৭
وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَىٰ عُنُقِكَ وَلَا تَبْسُطْهَا كُلَّ الْبَسْطِ فَتَقْعُدَ مَلُومًا مَّحْسُورًا
“তুমি তোমার হাত গলায় বেঁধে রেখো না (কৃপণ হয়ো না), আবার একেবারে খুলেও দিয়ো না (সব খরচ করে ফেলো না)। তাহলে তুমি নিন্দিত ও নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে।”
সূরা আল-ইসরা ১৭:২৯
মধ্যপন্থা: রহমানের বান্দাদের গুণ
وَالَّذِينَ إِذَا أَنفَقُوا لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا وَكَانَ بَيْنَ ذَٰلِكَ قَوَامًا
“আর (রহমানের বান্দা তারা,) যারা খরচ করার সময় অপচয় করে না, কৃপণতাও করে না, বরং এ দুইয়ের মাঝামাঝি মধ্যপন্থা অবলম্বন করে।”
সূরা আল-ফুরকান ২৫:৬৭
সম্পদ নষ্ট করা আল্লাহর অপছন্দ
মুগিরা ইবনু শুবা (রা.) বলেন, আমি নবীজিকে ﷺ বলতে শুনেছি: “আল্লাহ তোমাদের জন্য তিনটি বিষয় অপছন্দ করেন: অনর্থক কথাবার্তা (শোনা কথা ছড়ানো), সম্পদ নষ্ট করা এবং অতিরিক্ত প্রশ্ন করা।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১৪৭৭
ঘুষের ভয়াবহতা
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল ﷺ ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়কে লানত করেছেন।
সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৩৫৮০; জামে তিরমিজি, হাদিস ১৩৩৭ (সহিহ)
কুরআনে আল্লাহ নিষেধ করেছেন, তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস কোরো না, এবং জেনেশুনে অন্যের সম্পদের কিছু অংশ অন্যায়ভাবে ভোগ করার উদ্দেশ্যে বিচারকদের কাছে তা পেশ কোরো না (সূরা আল-বাকারা ২:১৮৮)।
প্রকৃত ধনী কে
لَيْسَ الْغِنَى عَنْ كَثْرَةِ الْعَرَضِ، وَلَكِنَّ الْغِنَى غِنَى النَّفْسِ
“প্রচুর ধন-সম্পদ থাকা প্রকৃত ধনী হওয়া নয়। বরং প্রকৃত ধনী হলো মনের ধনী হওয়া।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৪৪৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৫১ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
হাকিম ইবনু হিযাম (রা.) নবীজির ﷺ কাছে বারবার চাইলে তিনি দিলেন, তারপর বললেন: “এই সম্পদ সবুজ-শ্যামল ও সুমিষ্ট। যে ব্যক্তি নির্লোভ মনে তা গ্রহণ করে, তাতে তার জন্য বরকত দেওয়া হয়। আর যে লোভী মনে গ্রহণ করে, তাতে বরকত দেওয়া হয় না। সে হয় এমন ব্যক্তির মতো, যে খায় কিন্তু তৃপ্ত হয় না।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১৪৭২; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৩৫
অল্পে তুষ্টির সফলতা
قَدْ أَفْلَحَ مَنْ أَسْلَمَ، وَرُزِقَ كَفَافًا، وَقَنَّعَهُ اللَّهُ بِمَا آتَاهُ
“সে-ই সফল হয়েছে, যে ইসলাম গ্রহণ করেছে, প্রয়োজন পরিমাণ রিজিক পেয়েছে, এবং আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তাতে তাকে তুষ্ট রেখেছেন।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৫৪ — আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ২:১৮৮, ৭:৩১, ১৭:২৬–২৭, ১৭:২৯, ২৫:৬৭ • সহিহ বুখারি: ১৪৭২, ১৪৭৭, ৬৪৪৬ • সহিহ মুসলিম: ১০৩৫, ১০৫১, ১০৫৪ • আবু দাউদ ৩৫৮০, তিরমিজি ১৩৩৭
Leave a Reply