বড় অপবিত্রতা (জানাবাত, হায়েজ বা নিফাস) থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল ফরজ। আর পানি না পাওয়া গেলে বা ব্যবহার করতে না পারলে ইসলাম তায়াম্মুমের সহজ বিধান দিয়েছে। সহিহ হাদিসে নবীজির ﷺ গোসল ও তায়াম্মুমের পদ্ধতি যেভাবে এসেছে, তা তুলে ধরা হলো।
- গোসল ফরজ হওয়ার দলিল
- যেসব কারণে গোসল ফরজ হয়
- নবীজির ﷺ গোসলের পদ্ধতি
- তায়াম্মুমের বিধান
- তায়াম্মুমের পদ্ধতি
গোসল ফরজ হওয়ার দলিল
وَإِن كُنتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا
“আর তোমরা যদি জুনুবি (অপবিত্র) অবস্থায় থাকো, তবে ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করো (গোসল করো)।”
সূরা আল-মায়িদা ৫:৬
যেসব কারণে গোসল ফরজ হয়
- জানাবাত: স্বামী-স্ত্রীর মিলন হলে, বীর্যপাত হোক বা না হোক (সহিহ বুখারি ২৯১; সহিহ মুসলিম ৩৪৮)। আর উত্তেজনার সঙ্গে বীর্যপাত হলে, ঘুমে বা জাগরণে (সহিহ মুসলিম ৩৪৩)।
- হায়েজ ও নিফাস শেষ হলে: আল্লাহ বলেছেন, তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের কাছে যেয়ো না, আর তারা পবিত্র হয়ে গেলে… (সূরা আল-বাকারা ২:২২২)।
“যখন পুরুষ স্ত্রীর চার শাখার মাঝে বসে এবং মিলিত হয়, তখন গোসল ফরজ হয়ে যায়।” মুসলিমের বর্ণনায় অতিরিক্ত আছে: “যদিও বীর্যপাত না হয়।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ২৯১; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩৪৮ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
নবীজির ﷺ গোসলের পদ্ধতি
আয়েশা (রা.) বলেন, নবীজি ﷺ যখন জানাবাতের গোসল করতেন, তখন প্রথমে দুই হাত ধুতেন। তারপর নামাজের অজুর মতো অজু করতেন। এরপর আঙুল পানিতে ভিজিয়ে চুলের গোড়ায় খিলাল করতেন। তারপর দুই হাতে তিন আঁজলা পানি মাথায় ঢালতেন। এরপর সারা শরীরে পানি প্রবাহিত করতেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস ২৪৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩১৬
মাইমুনা (রা.)-এর বর্ণনায় আরও এসেছে: নবীজি ﷺ লজ্জাস্থান ধুলেন, তারপর হাত মাটিতে ঘষে ধুয়ে নিলেন। কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, তারপর বাকি অজু করলেন। এরপর সারা শরীরে পানি ঢাললেন। শেষে নিজের জায়গা থেকে একটু সরে গিয়ে দুই পা ধুলেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস ২৪৯, ২৬৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩১৭
সংক্ষেপে সুন্নাহসম্মত গোসল: নিয়ত করা, দুই হাত ধোয়া, লজ্জাস্থান ধোয়া, অজু করা, মাথায় তিনবার পানি ঢালা ও চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানো, তারপর ডান দিক থেকে সারা শরীরে পানি পৌঁছানো, যাতে কোনো অংশ শুকনো না থাকে।
তায়াম্মুমের বিধান
فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُم مِّنْهُ
“…আর যদি তোমরা পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো, অর্থাৎ তা দিয়ে তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করো।”
সূরা আল-মায়িদা ৫:৬; আরও দেখুন সূরা আন-নিসা ৪:৪৩
নবীজি ﷺ বলেছেন, তাঁকে পাঁচটি বিষয় দেওয়া হয়েছে যা আগের কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি। তার একটি হলো: “আমার জন্য পুরো জমিনকে মসজিদ ও পবিত্রতা অর্জনের উপায় বানানো হয়েছে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৩৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৫২১ — জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত
তায়াম্মুমের পদ্ধতি
আম্মার ইবনু ইয়াসির (রা.) জানাবাত অবস্থায় পানি না পেয়ে মাটিতে গড়াগড়ি দিয়েছিলেন। নবীজি ﷺ বললেন: “তোমার জন্য এভাবে করাই যথেষ্ট ছিল।” এরপর তিনি দুই হাত মাটিতে মারলেন, ফুঁ দিলেন, তারপর তা দিয়ে মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত মাসেহ করলেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৩৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩৬৮
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, বড় ও ছোট উভয় অপবিত্রতার ক্ষেত্রে তায়াম্মুমের পদ্ধতি একই। হাতে কতবার মাটি মারতে হবে এবং কতটুকু মাসেহ করতে হবে (কব্জি নাকি কনুই পর্যন্ত), তা নিয়ে মাজহাবগুলোর মধ্যে মতভেদ আছে।
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ২:২২২, ৪:৪৩, ৫:৬ • সহিহ বুখারি: ২৪৮, ২৪৯, ২৬৬, ২৯১, ৩৩৫, ৩৩৮ • সহিহ মুসলিম: ৩১৬, ৩১৭, ৩৪৩, ৩৪৮, ৩৬৮, ৫২১
Leave a Reply