আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা (সিলাতুর রাহিম) এমন একটি আমল, যার সঙ্গে আল্লাহ নিজের সম্পর্ককে যুক্ত করেছেন। এটি রিজিক ও আয়ু বৃদ্ধির মাধ্যম। অন্যদিকে সম্পর্ক ছিন্ন করা জান্নাতে প্রবেশের পথে বাধা। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে আত্মীয়তার হক তুলে ধরা হলো।
- আল্লাহকে ও আত্মীয়তাকে ভয় করো
- রাহিমের সঙ্গে আল্লাহর অঙ্গীকার
- রিজিক ও আয়ু বৃদ্ধির মাধ্যম
- প্রকৃত সম্পর্ক রক্ষাকারী কে
- আত্মীয়রা খারাপ আচরণ করলেও
- ভিন্ন ধর্মের আত্মীয়ের প্রতি সদাচরণ
- বৃদ্ধ বাবা-মা: জান্নাতের সুযোগ
- সম্পর্ক ছিন্নকারীর পরিণতি
আল্লাহকে ও আত্মীয়তাকে ভয় করো
وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا
“আর তোমরা সেই আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে নিজেদের হক দাবি করো, এবং আত্মীয়তার সম্পর্কের ব্যাপারেও সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর সর্বদা দৃষ্টি রাখেন।”
সূরা আন-নিসা ৪:১
রাহিমের সঙ্গে আল্লাহর অঙ্গীকার
আল্লাহ সৃষ্টিজগৎ সৃষ্টি শেষ করলে রাহিম (আত্মীয়তার সম্পর্ক) দাঁড়িয়ে বলল: এটি সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনাকারীর স্থান। আল্লাহ বললেন: হ্যাঁ। তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, যে তোমাকে যুক্ত রাখবে, আমি তাকে যুক্ত রাখব, আর যে তোমাকে ছিন্ন করবে, আমি তাকে ছিন্ন করব? সে বলল: অবশ্যই, হে আমার রব। আল্লাহ বললেন: তোমার জন্য তা-ই হলো।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯৮৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৫৪ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
এরপর নবীজি ﷺ তিলাওয়াত করলেন: “ক্ষমতা পেলে কি তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে? এরাই তারা, যাদের আল্লাহ লানত করেছেন…” (সূরা মুহাম্মাদ ৪৭:২২–২৩)।
রিজিক ও আয়ু বৃদ্ধির মাধ্যম
“যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক প্রশস্ত হোক এবং তার আয়ু বৃদ্ধি পাক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯৮৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৫৭ — আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত
প্রকৃত সম্পর্ক রক্ষাকারী কে
لَيْسَ الْوَاصِلُ بِالْمُكَافِئِ، وَلَكِنِ الْوَاصِلُ الَّذِي إِذَا قُطِعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا
“যে ব্যক্তি শুধু বিনিময়ে সম্পর্ক রক্ষা করে, সে প্রকৃত সম্পর্ক রক্ষাকারী নয়। বরং প্রকৃত সম্পর্ক রক্ষাকারী সে, যার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা হলেও সে তা জোড়া লাগায়।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯৯১ — আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত
আত্মীয়রা খারাপ আচরণ করলেও
এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমার কিছু আত্মীয় আছে। আমি তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখি, তারা ছিন্ন করে। আমি তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার করি, তারা আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। আমি সহনশীল থাকি, তারা মূর্খের মতো আচরণ করে। নবীজি ﷺ বললেন: “তুমি যেমন বললে, যদি সত্যিই তেমন হয়, তবে তুমি যেন তাদের মুখে উত্তপ্ত ছাই পুরে দিচ্ছ। আর যতদিন তুমি এ অবস্থায় থাকবে, ততদিন আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন সাহায্যকারী তাদের বিরুদ্ধে তোমার সঙ্গে থাকবেন।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৫৮ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
ভিন্ন ধর্মের আত্মীয়ের প্রতি সদাচরণ
আসমা বিনতে আবি বকর (রা.) বলেন, নবীজির ﷺ যুগে আমার মা মুশরিক অবস্থায় আমার কাছে এলেন। আমি নবীজিকে ﷺ জিজ্ঞেস করলাম, আমার মা আমার কাছে (সাহায্যের আশায়) এসেছেন। আমি কি তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করব? তিনি বললেন: “হ্যাঁ, তোমার মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করো।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ২৬২০; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০০৩
বৃদ্ধ বাবা-মা: জান্নাতের সুযোগ
নবীজি ﷺ তিনবার বললেন: “তার নাক ধুলায় মলিন হোক!” জিজ্ঞেস করা হলো, কার, হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বললেন: “যে ব্যক্তি তার বাবা-মায়ের একজনকে বা উভয়কে বার্ধক্যে পেল, অথচ (তাঁদের সেবা করে) জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৫১ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
সম্পর্ক ছিন্নকারীর পরিণতি
“আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯৮৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৫৬ — জুবাইর ইবনু মুতইম (রা.) থেকে বর্ণিত
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ৪:১, ৪৭:২২–২৩ • সহিহ বুখারি: ২৬২০, ৫৯৮৪, ৫৯৮৬, ৫৯৮৭, ৫৯৯১ • সহিহ মুসলিম: ১০০৩, ২৫৫১, ২৫৫৪, ২৫৫৬, ২৫৫৭, ২৫৫৮
Leave a Reply