আল্লাহ সূরা ইউসুফকে বলেছেন “সর্বোত্তম কাহিনি”। ভাইদের ঈর্ষা, কূপে নিক্ষেপ, দাস হিসেবে বিক্রি, প্রলোভন, কারাবাস, তারপর মিসরের ক্ষমতা লাভ এবং শেষে পরিবারের সঙ্গে মিলন। একটি মাত্র সূরায় জীবনের প্রায় সব পরীক্ষা ও তার সমাধান ফুটে উঠেছে। কুরআনের আয়াতের আলোকে ইউসুফ (আ.)-এর জীবনের শিক্ষা তুলে ধরা হলো।
- সর্বোত্তম কাহিনি
- ইয়াকুব (আ.)-এর সুন্দর ধৈর্য
- প্রলোভনের মুখে চারিত্রিক দৃঢ়তা
- কারাগারেও দাওয়াত
- দুঃখের অভিযোগ শুধু আল্লাহর কাছে
- আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না
- তাকওয়া ও সবরের পুরস্কার
- ক্ষমার মহত্ত্ব
সর্বোত্তম কাহিনি
نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ
“আমি আপনার কাছে সর্বোত্তম কাহিনি বর্ণনা করছি।”
সূরা ইউসুফ ১২:৩
নবীজি ﷺ বলেছেন: “সম্মানিতের সন্তান সম্মানিত, তাঁর সন্তান সম্মানিত, তাঁর সন্তান সম্মানিত: ইউসুফ ইবনু ইয়াকুব ইবনু ইসহাক ইবনু ইবরাহিম (আ.)।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৩৯০ — ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত
ইয়াকুব (আ.)-এর সুন্দর ধৈর্য
فَصَبْرٌ جَمِيلٌ ۖ وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَىٰ مَا تَصِفُونَ
ভাইয়েরা মিথ্যা রক্তমাখা জামা এনে বলল, ইউসুফকে নেকড়ে খেয়ে ফেলেছে। তখন ইয়াকুব (আ.) বললেন: “সুতরাং পূর্ণ ধৈর্যই উত্তম। আর তোমরা যা বর্ণনা করছ, সে বিষয়ে আল্লাহই আমার সাহায্যস্থল।”
সূরা ইউসুফ ১২:১৮
“সাবরুন জামিল” বা সুন্দর ধৈর্য মানে এমন ধৈর্য, যাতে মানুষের কাছে অভিযোগ নেই, হতাশা নেই, আল্লাহর প্রতি অসন্তোষ নেই।
প্রলোভনের মুখে চারিত্রিক দৃঢ়তা
قَالَ مَعَاذَ اللَّهِ ۖ إِنَّهُ رَبِّي أَحْسَنَ مَثْوَايَ ۖ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الظَّالِمُونَ
মন্ত্রীর স্ত্রী দরজা বন্ধ করে তাঁকে অসৎ কাজে আহ্বান করলে ইউসুফ (আ.) বললেন: “আমি আল্লাহর আশ্রয় চাই! তিনি (আমার মনিব) আমার রব, তিনি আমাকে সম্মানের সঙ্গে থাকতে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই জালিমরা সফল হয় না।”
সূরা ইউসুফ ১২:২৩
قَالَ رَبِّ السِّجْنُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا يَدْعُونَنِي إِلَيْهِ
“তিনি বললেন: হে আমার রব, তারা আমাকে যে কাজের দিকে ডাকছে, তার চেয়ে কারাগারই আমার কাছে বেশি প্রিয়।”
সূরা ইউসুফ ১২:৩৩
এ ঘটনার সঙ্গে মিল রয়েছে সেই হাদিসের, যাতে বলা হয়েছে: কিয়ামতের দিন আল্লাহর ছায়াপ্রাপ্ত সাত শ্রেণির একজন হলো সেই ব্যক্তি, যাকে সম্ভ্রান্ত ও সুন্দরী নারী আহ্বান করে, আর সে বলে: আমি আল্লাহকে ভয় করি (সহিহ বুখারি ৬৬০; সহিহ মুসলিম ১০৩১)।
কারাগারেও দাওয়াত
কারাগারে দুই সঙ্গী স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে ইউসুফ (আ.) প্রথমে তাদের তাওহিদের দাওয়াত দিলেন: “হে আমার কারাসঙ্গীরা, ভিন্ন ভিন্ন বহু রব উত্তম, নাকি এক ও পরাক্রমশালী আল্লাহ?” (সূরা ইউসুফ ১২:৩৯)। কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি দ্বীনের বার্তা পৌঁছানোর সুযোগ হাতছাড়া করেননি।
দুঃখের অভিযোগ শুধু আল্লাহর কাছে
إِنَّمَا أَشْكُو بَثِّي وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ
ইয়াকুব (আ.) বললেন: “আমি আমার দুঃখ ও বেদনার অভিযোগ কেবল আল্লাহর কাছেই করি।”
সূরা ইউসুফ ১২:৮৬
আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না
وَلَا تَيْأَسُوا مِن رَّوْحِ اللَّهِ ۖ إِنَّهُ لَا يَيْأَسُ مِن رَّوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ
“আর তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই কাফির সম্প্রদায় ছাড়া আর কেউ আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না।”
সূরা ইউসুফ ১২:৮৭
তাকওয়া ও সবরের পুরস্কার
إِنَّهُ مَن يَتَّقِ وَيَصْبِرْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ
ভাইয়েরা চিনতে পারার পর ইউসুফ (আ.) বললেন: “নিশ্চয়ই যে তাকওয়া অবলম্বন করে এবং ধৈর্য ধরে, আল্লাহ এমন সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।”
সূরা ইউসুফ ১২:৯০
ক্ষমার মহত্ত্ব
لَا تَثْرِيبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ ۖ يَغْفِرُ اللَّهُ لَكُمْ ۖ وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
যে ভাইয়েরা তাঁকে কূপে ফেলেছিল, ক্ষমতা পেয়েও তিনি তাদের বললেন: “আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন। তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।”
সূরা ইউসুফ ১২:৯২
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ১২:৩, ১২:১৮, ১২:২৩, ১২:৩৩, ১২:৩৯, ১২:৮৬–৮৭, ১২:৯০, ১২:৯২, ১২:১১১ • সহিহ বুখারি: ৬৬০, ৩৩৯০ • সহিহ মুসলিম: ১০৩১
Leave a Reply