ইসলামে আল্লাহর হকের পাশাপাশি বান্দার হক (হুকুকুল ইবাদ) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেশী, এতিম, অসুস্থ ও সাধারণ মুসলিমের প্রতি দায়িত্ব পালন ঈমানের দাবি। আল্লাহ বান্দার হক ততক্ষণ মাফ করেন না, যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজে মাফ করে দেয়। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে প্রতিবেশী ও মানুষের হক তুলে ধরা হলো।
- কুরআনে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ
- প্রতিবেশীর হক
- প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়ার পরিণতি
- প্রকৃত মুসলিম কে
- এক মুসলিমের ওপর আরেক মুসলিমের হক
- এতিমের লালন-পালন
কুরআনে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ
وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا ۖ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنبِ وَابْنِ السَّبِيلِ
“তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক কোরো না। আর সদ্ব্যবহার করো বাবা-মায়ের সঙ্গে, আত্মীয়স্বজন, এতিম ও মিসকিনদের সঙ্গে, নিকটাত্মীয় প্রতিবেশী ও অনাত্মীয় প্রতিবেশীর সঙ্গে, পাশের সঙ্গী ও মুসাফিরের সঙ্গে…”
সূরা আন-নিসা ৪:৩৬
প্রতিবেশীর হক
“জিবরিল (আ.) আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে এত বেশি তাগিদ দিচ্ছিলেন যে, আমার মনে হচ্ছিল তিনি হয়তো প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেবেন।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৬০১৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬২৪ — আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত
“হে আবু যর, তুমি যখন ঝোল (তরকারি) রান্না করবে, তখন তাতে পানি একটু বাড়িয়ে দেবে এবং তোমার প্রতিবেশীদের খোঁজ নেবে।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬২৫ — আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত
“হে মুসলিম নারীরা, কোনো প্রতিবেশিনী যেন তার প্রতিবেশিনীর দেওয়া উপহারকে তুচ্ছ মনে না করে, যদিও তা ছাগলের একটি খুর হয়।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ২৫৬৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৩০ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়ার পরিণতি
নবীজি ﷺ তিনবার বললেন: “আল্লাহর কসম, সে মুমিন নয়!” জিজ্ঞেস করা হলো, কে, হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বললেন: “যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৬০১৬ — আবু শুরাইহ (রা.) থেকে বর্ণিত
“সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৪৬ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
প্রকৃত মুসলিম কে
الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ
“প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১০; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৪০ — আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত
“এক মুসলিম আরেক মুসলিমের ভাই। সে তার ওপর জুলুম করে না, তাকে অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দেয় না এবং তাকে তুচ্ছ মনে করে না।” এরপর তিনি তিনবার বুকের দিকে ইশারা করে বললেন: “তাকওয়া এখানে।” তারপর বললেন: “কোনো মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ মনে করে। প্রত্যেক মুসলিমের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান অন্য মুসলিমের জন্য হারাম।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৬৪ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
এক মুসলিমের ওপর আরেক মুসলিমের হক
“এক মুসলিমের ওপর আরেক মুসলিমের হক ছয়টি: দেখা হলে সালাম দেবে, দাওয়াত দিলে কবুল করবে, পরামর্শ চাইলে কল্যাণকর পরামর্শ দেবে, হাঁচি দিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলবে, অসুস্থ হলে দেখতে যাবে, এবং মারা গেলে জানাজায় শরিক হবে।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১৬২ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত; পাঁচটি হকের বর্ণনা সহিহ বুখারি ১২৪০
এতিমের লালন-পালন
“আমি এবং এতিমের দায়িত্ব গ্রহণকারী জান্নাতে এভাবে থাকব।” এ কথা বলে তিনি শাহাদাত আঙুল ও মধ্যমা আঙুল দিয়ে ইশারা করলেন এবং দুটির মাঝে সামান্য ফাঁক রাখলেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৩০৪ — সাহল ইবনু সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ৪:৩৬ • সহিহ বুখারি: ১০, ১২৪০, ২৫৬৬, ৫৩০৪, ৬০১৪, ৬০১৬ • সহিহ মুসলিম: ৪০, ৪৬, ১০৩০, ২১৬২, ২৫৬৪, ২৬২৪, ২৬২৫
Leave a Reply