পরিবার হলো ইসলামি সমাজের প্রথম ভিত্তি। বাবা-মায়ের সঙ্গে সদ্ব্যবহার, দাম্পত্যে ভালোবাসা ও দয়া, সন্তানের সঠিক প্রতিপালন এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা — এগুলো সবই কুরআন ও সুন্নাহর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।
- বাবা-মায়ের হক
- মায়ের বিশেষ মর্যাদা
- দাম্পত্য জীবন
- সন্তান প্রতিপালন
- আত্মীয়তার বন্ধন
বাবা-মায়ের হক
وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا
“তোমার রব আদেশ করেছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া আর কারও ইবাদত করবে না এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে।” তাঁদের একজন বা উভয়ে বার্ধক্যে পৌঁছালে তাঁদের “উফ” পর্যন্ত বলবে না, ধমক দেবে না, বরং সম্মানের সঙ্গে কথা বলবে। দয়ায় তাঁদের সামনে বিনয়ের ডানা নত করবে এবং বলবে:
رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
“হে আমার রব, তাঁদের প্রতি দয়া করুন, যেভাবে তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।”
সূরা আল-ইসরা (বনি ইসরাঈল) ১৭:২৩–২৪
মায়ের বিশেষ মর্যাদা
এক ব্যক্তি নবীজিকে ﷺ জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল, আমার সদ্ব্যবহার পাওয়ার সবচেয়ে বেশি হকদার কে? তিনি বললেন: “তোমার মা।” সে বলল, এরপর কে? তিনি বললেন: “তোমার মা।” সে বলল, এরপর কে? তিনি বললেন: “তোমার মা।” সে বলল, এরপর কে? তিনি বললেন: “তোমার বাবা।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯৭১; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৪৮ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
কুরআনেও মায়ের কষ্টের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা লুকমান ৩১:১৪-এ বলা হয়েছে, মা কষ্টের পর কষ্ট সয়ে সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেছেন। সেখানে আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন: আমার প্রতি এবং তোমার বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞ হও।
দাম্পত্য জীবন
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
“আর তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে একটি হলো, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই জীবনসঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।”
সূরা আর-রুম ৩০:২১
আল্লাহ স্বামীদের নির্দেশ দিয়েছেন: “তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো” (সূরা আন-নিসা ৪:১৯)।
خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي
“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে নিজের পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের সবার চেয়ে উত্তম।”
জামে তিরমিজি, হাদিস ৩৮৯৫ (শাইখ আলবানি: সহিহ) — আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত
“নারীকে চারটি কারণে বিয়ে করা হয়: তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য এবং তার দ্বীনদারির জন্য। তুমি দ্বীনদার নারীকে বিয়ে করে সফল হও।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০৯০; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৪৬৬ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
সন্তান প্রতিপালন
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا
“হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা করো।”
সূরা আত-তাহরিম ৬৬:৬
“তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, আর প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল এবং তাকে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। নারী তার স্বামীর ঘর ও সন্তানদের দায়িত্বশীল এবং তাকে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৮৯৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৮২৯ — ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত
“যে ব্যক্তি দুটি মেয়েকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করে, কিয়ামতের দিন সে এবং আমি এভাবে (পাশাপাশি) থাকব।” এ কথা বলে তিনি নিজের আঙুলগুলো মিলিয়ে দেখালেন।
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬৩১ — আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত
আত্মীয়তার বন্ধন
“যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক প্রশস্ত হোক এবং তার আয়ু বৃদ্ধি পাক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯৮৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৫৭ — আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত
“আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯৮৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৫৬ — জুবাইর ইবনু মুতইম (রা.) থেকে বর্ণিত
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ৪:১৯, ১৭:২৩–২৪, ৩০:২১, ৩১:১৪, ৬৬:৬ • সহিহ বুখারি: ৮৯৩, ৫০৯০, ৫৯৭১, ৫৯৮৪, ৫৯৮৬ • সহিহ মুসলিম: ১৪৬৬, ১৮২৯, ২৫৪৮, ২৫৫৬, ২৫৫৭, ২৬৩১ • তিরমিজি ৩৮৯৫
Leave a Reply