জুলুম, অর্থাৎ অন্যের অধিকার হরণ, এমন গুনাহ যা আল্লাহ নিজের জন্যও হারাম করেছেন। অন্যের জমি দখল, মিথ্যা কসমে সম্পদ আত্মসাৎ, কারও সম্মানহানি, এসবের হিসাব কিয়ামতের দিন নেকি দিয়ে পরিশোধ করতে হবে। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে জুলুমের ভয়াবহতা ও প্রতিকার তুলে ধরা হলো।
- আল্লাহ নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছেন
- আল্লাহ জালিমদের ব্যাপারে উদাসীন নন
- জুলুম কিয়ামতের অন্ধকার
- এক বিঘত জমি দখলের শাস্তি
- মিথ্যা কসমে অধিকার হরণ
- মজলুমের দোয়া
- আজই মিটিয়ে নাও
- জালিমকে সাহায্য করার অর্থ
আল্লাহ নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছেন
يَا عِبَادِي إِنِّي حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَى نَفْسِي، وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا، فَلَا تَظَالَمُوا
“হে আমার বান্দারা, আমি নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছি এবং তোমাদের মধ্যেও তা হারাম করেছি। সুতরাং তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম কোরো না।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৭৭ — আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত
আল্লাহ জালিমদের ব্যাপারে উদাসীন নন
وَلَا تَحْسَبَنَّ اللَّهَ غَافِلًا عَمَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُونَ ۚ إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمْ لِيَوْمٍ تَشْخَصُ فِيهِ الْأَبْصَارُ
“তুমি কখনো মনে কোরো না যে, জালিমরা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন। তিনি তো তাদের শুধু সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দিচ্ছেন, যেদিন চোখগুলো আতঙ্কে স্থির হয়ে যাবে।”
সূরা ইবরাহিম ১৪:৪২
জুলুম কিয়ামতের অন্ধকার
الظُّلْمُ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
“জুলুম কিয়ামতের দিন অনেক অন্ধকাররূপে দেখা দেবে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ২৪৪৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৭৯ — ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত
এক বিঘত জমি দখলের শাস্তি
“যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে এক বিঘত পরিমাণ জমিও দখল করে, (কিয়ামতের দিন) সাত স্তর জমিন তার গলায় বেড়ি হিসেবে পরিয়ে দেওয়া হবে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ২৪৫৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৬১২ — আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত
জমির সীমানা অন্যায়ভাবে সরানো, ভাইবোনের মীরাস থেকে বঞ্চিত করা, অথবা সরকারি বা অন্যের জমি দখল করা, সবই এ হাদিসের অন্তর্ভুক্ত।
মিথ্যা কসমে অধিকার হরণ
“যে ব্যক্তি কসম খেয়ে কোনো মুসলিমের অধিকার আত্মসাৎ করে, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত করেন এবং জান্নাত হারাম করে দেন।” এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল, যদি তা সামান্য কিছু হয়? তিনি বললেন: “যদিও তা আরাক গাছের একটি ডালও হয়।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৩৭ — আবু উমামা আল-হারিসি (রা.) থেকে বর্ণিত
মজলুমের দোয়া
মুআজ (রা.)-কে ইয়েমেনে পাঠানোর সময় নবীজি ﷺ বলেছিলেন: “মজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকো। কেননা তার দোয়া ও আল্লাহর মাঝে কোনো আড়াল থাকে না।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ২৪৪৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৯ — ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত (সংক্ষেপিত)
আজই মিটিয়ে নাও
“যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্মান বা অন্য কোনো বিষয়ে জুলুম করেছে, সে যেন আজই তার কাছ থেকে তা মিটিয়ে (ক্ষমা চেয়ে) নেয়, সেই দিন আসার আগে, যেদিন কোনো দিনার বা দিরহাম থাকবে না। (সেদিন) তার নেক আমল থাকলে জুলুমের পরিমাণ অনুযায়ী তা নিয়ে নেওয়া হবে। আর নেক আমল না থাকলে মজলুমের গুনাহ নিয়ে তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ২৪৪৯ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
জালিমকে সাহায্য করার অর্থ
“তোমার ভাইকে সাহায্য করো, সে জালিম হোক বা মজলুম।” সাহাবিরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, মজলুমকে সাহায্য করা তো বুঝলাম, জালিমকে কীভাবে সাহায্য করব? তিনি বললেন: “তার হাত ধরে তাকে (জুলুম থেকে) বিরত রাখবে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ২৪৪৪ — আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ১৪:৪২ • সহিহ বুখারি: ২৪৪৪, ২৪৪৭, ২৪৪৮, ২৪৪৯, ২৪৫৩ • সহিহ মুসলিম: ১৯, ১৩৭, ১৬১২, ২৫৭৭, ২৫৭৯
Leave a Reply