ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান ঈমানের ছয় রুকনের দ্বিতীয়টি। ফেরেশতারা আল্লাহর এক বিশেষ সৃষ্টি। তাঁরা কখনো আল্লাহর অবাধ্য হন না, সর্বদা তাঁর আদেশ পালন করেন। আমাদের প্রতিটি কথা ও কাজ তাঁরা লিখে রাখেন। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে ফেরেশতাদের পরিচয় তুলে ধরা হলো।
- ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান ফরজ
- তাঁরা কীসের তৈরি
- সদা অনুগত সৃষ্টি
- জিবরিল (আ.)-এর বিশালতা
- আমলনামা লেখক ফেরেশতা
- ফজর ও আসরে ফেরেশতাদের পালাবদল
- মুমিনের জন্য ফেরেশতাদের দোয়া
ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান ফরজ
آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ
“রাসুল তাঁর রবের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি যা নাজিল হয়েছে তার প্রতি ঈমান এনেছেন, এবং মুমিনরাও। তারা সবাই ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসুলদের প্রতি।”
সূরা আল-বাকারা ২:২৮৫
তাঁরা কীসের তৈরি
خُلِقَتِ الْمَلَائِكَةُ مِنْ نُورٍ، وَخُلِقَ الْجَانُّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ، وَخُلِقَ آدَمُ مِمَّا وُصِفَ لَكُمْ
“ফেরেশতাদের সৃষ্টি করা হয়েছে নূর থেকে, জিনদের সৃষ্টি করা হয়েছে ধোঁয়াবিহীন আগুনের শিখা থেকে, আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই বস্তু থেকে, যার বর্ণনা তোমাদের দেওয়া হয়েছে (মাটি থেকে)।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৯৯৬ — আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত
সদা অনুগত সৃষ্টি
لَّا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ
“আল্লাহ তাদের যা আদেশ করেন, তারা তা অমান্য করে না, এবং তাদের যা আদেশ করা হয়, তারা তা-ই পালন করে।”
সূরা আত-তাহরিম ৬৬:৬
আল্লাহ ফেরেশতাদের দুই, তিন বা চার ডানাবিশিষ্ট করে বার্তাবাহক বানিয়েছেন। আর তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন (সূরা ফাতির ৩৫:১)।
জিবরিল (আ.)-এর বিশালতা
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) বলেন, নবীজি ﷺ জিবরিল (আ.)-কে (তাঁর আসল আকৃতিতে) দেখেছেন। তাঁর ছয়শ ডানা ছিল।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৩২৩২
মিরাজের রাতে নবীজি ﷺ সপ্তম আসমানে “বাইতুল মামুর” দেখেছেন। প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা সেখানে প্রবেশ করেন, আর যাঁরা একবার প্রবেশ করেন তাঁরা আর কখনো ফিরে আসেন না (সহিহ বুখারি ৩২০৭; সহিহ মুসলিম ১৬২)। এ থেকে ফেরেশতাদের সংখ্যার বিশালতা বোঝা যায়।
আমলনামা লেখক ফেরেশতা
وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِينَ كِرَامًا كَاتِبِينَ يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ
“নিশ্চয়ই তোমাদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত আছেন, সম্মানিত লেখকগণ। তোমরা যা করো, তাঁরা তা জানেন।”
সূরা আল-ইনফিতার ৮২:১০–১২
مَّا يَلْفِظُ مِن قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ
“মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তা লিপিবদ্ধ করার জন্য তার কাছে একজন সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছেন।”
সূরা কাফ ৫০:১৮
ফজর ও আসরে ফেরেশতাদের পালাবদল
“রাতের ফেরেশতা ও দিনের ফেরেশতারা পালাক্রমে তোমাদের কাছে আসেন। তাঁরা ফজর ও আসরের নামাজে একত্র হন। এরপর যাঁরা রাতে তোমাদের সঙ্গে ছিলেন, তাঁরা ওপরে চলে যান। তখন আল্লাহ তাঁদের জিজ্ঞেস করেন, অথচ তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন: তোমরা আমার বান্দাদের কোন অবস্থায় রেখে এসেছ? তাঁরা বলেন: আমরা যখন তাদের রেখে এসেছি, তখন তারা নামাজ পড়ছিল। আর যখন তাদের কাছে গিয়েছিলাম, তখনও তারা নামাজ পড়ছিল।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৫৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৬৩২ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
মুমিনের জন্য ফেরেশতাদের দোয়া
“তোমাদের কেউ যতক্ষণ নামাজের স্থানে বসে থাকে এবং তার অজু ভঙ্গ না হয়, ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকেন: হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ, তার ওপর রহম করুন।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৪৪৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৬৪৯ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ২:২৮৫, ৩৫:১, ৫০:১৮, ৬৬:৬, ৮২:১০–১২ • সহিহ বুখারি: ৪৪৫, ৫৫৫, ৩২০৭, ৩২৩২ • সহিহ মুসলিম: ১৬২, ৬৩২, ৬৪৯, ২৯৯৬
Leave a Reply