“আসসালামু আলাইকুম” শুধু একটি অভিবাদন নয়, এটি পরস্পরের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার দোয়া। নবীজি ﷺ সালামের প্রসারকে পারস্পরিক ভালোবাসা ও জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম বলেছেন। কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে সালামের ফজিলত ও আদব তুলে ধরা হলো।
- সালামের উত্তর আরও সুন্দরভাবে
- সালাম: ভালোবাসার চাবি
- পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম
- সালামের সওয়াব
- কে কাকে আগে সালাম দেবে
- আগে সালামদাতার মর্যাদা
- ঘরে প্রবেশের অনুমতি
সালামের উত্তর আরও সুন্দরভাবে
وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا
“আর যখন তোমাদের অভিবাদন জানানো হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তমভাবে অভিবাদন জানাও, অথবা অন্তত সেভাবেই উত্তর দাও।”
সূরা আন-নিসা ৪:৮৬
সালাম: ভালোবাসার চাবি
أَفْشُوا السَّلَامَ بَيْنَكُمْ
“তোমরা ঈমান না আনা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আর পরস্পরকে ভালো না বাসা পর্যন্ত (পূর্ণ) মুমিন হতে পারবে না। আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলব না, যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালোবাসবে? তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৫৪ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম
এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, ইসলামের কোন কাজটি সর্বোত্তম? নবীজি ﷺ বললেন: “মানুষকে খাবার খাওয়ানো, এবং পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেওয়া।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১২; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩৯ — আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত
সালামের সওয়াব
এক ব্যক্তি এসে বলল, “আসসালামু আলাইকুম।” নবীজি ﷺ উত্তর দিয়ে বললেন: “দশ।” আরেকজন এসে বলল, “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।” তিনি বললেন: “বিশ।” তৃতীয়জন এসে বলল, “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।” তিনি বললেন: “ত্রিশ।” অর্থাৎ যথাক্রমে দশ, বিশ ও ত্রিশ নেকি।
সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৫১৯৫; জামে তিরমিজি, হাদিস ২৬৮৯ (হাসান) — ইমরান ইবনু হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত
কে কাকে আগে সালাম দেবে
“আরোহী ব্যক্তি পায়ে হাঁটা ব্যক্তিকে সালাম দেবে, পায়ে হাঁটা ব্যক্তি বসে থাকা ব্যক্তিকে সালাম দেবে, আর কমসংখ্যক লোক বেশিসংখ্যক লোককে সালাম দেবে।” বুখারির আরেক বর্ণনায় আছে: “ছোট বড়কে সালাম দেবে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৬২৩১, ৬২৩৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১৬০ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
আনাস (রা.) একদল শিশুর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সালাম দিলেন এবং বললেন, নবীজি ﷺ এমনটি করতেন (সহিহ বুখারি ৬২৪৭; সহিহ মুসলিম ২১৬৮)। এটি শিশুদের প্রতি স্নেহ ও তাদের সুন্নাহ শেখানোর সুন্দর উপায়।
আগে সালামদাতার মর্যাদা
“মানুষের মধ্যে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী সেই ব্যক্তি, যে আগে সালাম দেয়।”
সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৫১৯৭ (শাইখ আলবানি: সহিহ) — আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত
“কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সঙ্গে তিন রাতের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা বৈধ নয়, যেখানে দেখা হলে একজন এদিকে মুখ ফিরিয়ে নেয় আর অন্যজন ওদিকে। তাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে আগে সালাম দেয়।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৬০৭৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৬০ — আবু আইয়ুব আল-আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত
ঘরে প্রবেশের অনুমতি
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّىٰ تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَىٰ أَهْلِهَا
“হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্যের ঘরে প্রবেশ কোরো না, যতক্ষণ না অনুমতি নাও এবং ঘরের লোকদের সালাম দাও।”
সূরা আন-নূর ২৪:২৭
“অনুমতি চাইতে হবে তিনবার। এরপরও অনুমতি দেওয়া না হলে ফিরে যাবে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৬২৪৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১৫৩ — আবু মুসা আল-আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ৪:৮৬, ২৪:২৭ • সহিহ বুখারি: ১২, ৬০৭৭, ৬২৩১, ৬২৩৪, ৬২৪৫, ৬২৪৭ • সহিহ মুসলিম: ৩৯, ৫৪, ২১৫৩, ২১৬০, ২১৬৮, ২৫৬০ • আবু দাউদ: ৫১৯৫, ৫১৯৭ • তিরমিজি ২৬৮৯
Leave a Reply