☪কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে
🌐

সাহরি ও ইফতারের সুন্নাহ

সাহরি ও ইফতার রোজার দুটি বরকতময় মুহূর্ত। সাহরিতে রয়েছে বরকত, আর ইফতারে রয়েছে রোজাদারের আনন্দ। নবীজি ﷺ এ দুই সময়ের জন্য সুন্দর সুন্নাহ রেখে গেছেন। সহিহ সূত্রে সাহরি ও ইফতারের সুন্নাহ এবং রোজাদারকে ইফতার করানোর ফজিলত তুলে ধরা হলো।

📑 সূচিপত্র

  1. রোজার সময়সীমা
  2. সাহরির বরকত
  3. সাহরি দেরিতে খাওয়া
  4. দ্রুত ইফতার করা
  5. কী দিয়ে ইফতার করবেন
  6. ইফতারের দোয়া
  7. রোজাদারকে ইফতার করানো
  8. ভুলে খেয়ে ফেললে

রোজার সময়সীমা

কুরআন

وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ۖ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ

“আর তোমরা খাও ও পান করো, যতক্ষণ না রাতের কালো রেখা থেকে ভোরের সাদা রেখা স্পষ্ট হয়। তারপর রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো।”

সূরা আল-বাকারা ২:১৮৭

হাদিস

“যখন এদিক (পূর্ব দিক) থেকে রাত আসে, ওদিক (পশ্চিম দিক) দিয়ে দিন চলে যায় এবং সূর্য অস্ত যায়, তখন রোজাদারের ইফতারের সময় হয়ে যায়।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯৫৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১০০ — উমর (রা.) থেকে বর্ণিত

সাহরির বরকত

হাদিস

تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً

“তোমরা সাহরি খাও, কেননা সাহরিতে বরকত রয়েছে।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯২৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৯৫ — আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত

হাদিস

“আমাদের রোজা ও আহলে কিতাবের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি খাওয়া।”

সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৯৬ — আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত

সাহরি দেরিতে খাওয়া

হাদিস

যায়েদ ইবনু সাবিত (রা.) বলেন, আমরা নবীজির ﷺ সঙ্গে সাহরি খেলাম, তারপর তিনি নামাজে দাঁড়ালেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আজান ও সাহরির মধ্যে কত সময়ের ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াত পড়া যায় এমন সময়।

সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯২১; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৯৭

অর্থাৎ সুন্নাত হলো ফজরের কাছাকাছি সময়ে সাহরি খাওয়া। তবে সতর্কতার জন্য ফজরের ওয়াক্ত শুরুর আগেই খাওয়া শেষ করতে হবে।

দ্রুত ইফতার করা

হাদিস

لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ

“মানুষ ততদিন কল্যাণের মধ্যে থাকবে, যতদিন তারা দ্রুত ইফতার করবে।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯৫৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৯৮ — সাহল ইবনু সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত

কী দিয়ে ইফতার করবেন

হাদিস

আনাস (রা.) বলেন, নবীজি ﷺ মাগরিবের নামাজের আগে কয়েকটি তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তাজা খেজুর না পেলে শুকনো খেজুর দিয়ে, আর তা-ও না পেলে কয়েক ঢোক পানি পান করতেন।

সুনান আবু দাউদ, হাদিস ২৩৫৬; জামে তিরমিজি, হাদিস ৬৯৬ (হাসান)

ইফতারের দোয়া

দোয়া

ذَهَبَ الظَّمَأُ، وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ، وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ

“পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো, আর আল্লাহ চাইলে প্রতিদান নির্ধারিত হলো।” নবীজি ﷺ ইফতার করার পর এ দোয়া পড়তেন।

সুনান আবু দাউদ, হাদিস ২৩৫৭ (শাইখ আলবানি: হাসান) — ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত

ইফতারের আগে “বিসমিল্লাহ” বলে শুরু করবেন, যেমন যেকোনো খাবারের শুরুতে বলা সুন্নাত (সহিহ বুখারি ৫৩৭৬)।

রোজাদারকে ইফতার করানো

হাদিস

“যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, সে রোজাদারের সমান সওয়াব পায়, অথচ রোজাদারের সওয়াব একটুও কমে না।”

জামে তিরমিজি, হাদিস ৮০৭ (হাসান সহিহ); সুনান ইবনু মাজাহ ১৭৪৬ — যায়েদ ইবনু খালিদ আল-জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত

ভুলে খেয়ে ফেললে

হাদিস

“যে ব্যক্তি রোজা অবস্থায় ভুলে খেয়ে বা পান করে ফেলে, সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে। কেননা আল্লাহই তাকে খাইয়েছেন ও পান করিয়েছেন।”

সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯৩৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৫৫ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত

ইফতারের সময়টুকু কাজে লাগান: ইফতারের আগের মুহূর্তগুলো দোয়া ও যিকিরে কাটান। ইফতারে অতিরিক্ত খাবার ও অপচয় এড়িয়ে চলুন, আর সামর্থ্য অনুযায়ী অন্তত একজন রোজাদারকে ইফতার করান।

📚 তথ্যসূত্র

আল-কুরআন: ২:১৮৭ • সহিহ বুখারি: ১৯২১, ১৯২৩, ১৯৩৩, ১৯৫৪, ১৯৫৭, ৫৩৭৬ • সহিহ মুসলিম: ১০৯৫, ১০৯৬, ১০৯৭, ১০৯৮, ১১০০, ১১৫৫ • আবু দাউদ: ২৩৫৬, ২৩৫৭ • তিরমিজি: ৬৯৬, ৮০৭ • ইবনু মাজাহ ১৭৪৬

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *