আল্লাহ সব সময় বান্দার ডাক শোনেন। তবে সহিহ হাদিসে কিছু বিশেষ সময় ও অবস্থার কথা এসেছে, যখন দোয়া কবুলের সম্ভাবনা আরও বেশি। আবার কিছু আদব আছে, যা মানলে দোয়া কবুলের নিকটবর্তী হয়, আর কিছু কারণ দোয়া কবুলে বাধা সৃষ্টি করে। দলিলসহ সেগুলো তুলে ধরা হলো।
- দোয়া কবুলের বিশেষ সময়
- যাদের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না
- অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দোয়া
- দোয়ার আদব
- দোয়া কবুলের প্রতিবন্ধক
দোয়া কবুলের বিশেষ সময়
أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ، فَأَكْثِرُوا الدُّعَاءَ
“বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় সিজদার অবস্থায়। অতএব, (সিজদায়) বেশি বেশি দোয়া করো।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৪৮২ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
لَا يُرَدُّ الدُّعَاءُ بَيْنَ الْأَذَانِ وَالْإِقَامَةِ
“আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।”
সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৫২১; জামে তিরমিজি, হাদিস ২১২ (সহিহ) — আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত
প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ বলেন: “কে আছ যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আছ যে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দেব?”
সহিহ বুখারি, হাদিস ১১৪৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৭৫৮
জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস ৯৩৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৫২
যাদের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না
“তিনটি দোয়া নিঃসন্দেহে কবুল হয়: মাজলুমের (নির্যাতিতের) দোয়া, মুসাফিরের দোয়া এবং সন্তানের জন্য বাবা-মায়ের দোয়া।”
সুনান আবু দাউদ, হাদিস ১৫৩৬; জামে তিরমিজি, হাদিস ১৯০৫ (শাইখ আলবানি: হাসান) — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দোয়া
“কোনো মুসলিম বান্দা যখন তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করে, তখন একজন ফেরেশতা বলেন: তোমার জন্যও অনুরূপ হোক।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৭৩২ — আবুদ দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত
দোয়ার আদব
ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً ۚ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ
“তোমরা তোমাদের রবকে ডাকো বিনয়ের সঙ্গে ও গোপনে। নিশ্চয়ই তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।”
সূরা আল-আরাফ ৭:৫৫
নবীজি ﷺ এক ব্যক্তিকে আল্লাহর প্রশংসা ও নবীর ওপর দরুদ পড়া ছাড়াই দোয়া করতে শুনে বললেন, সে তাড়াহুড়া করেছে। এরপর বললেন: “তোমাদের কেউ দোয়া করলে প্রথমে তার রবের প্রশংসা ও গুণগান করবে, তারপর নবীর ওপর দরুদ পড়বে, তারপর যা ইচ্ছা চাইবে।”
জামে তিরমিজি, হাদিস ৩৪৭৭ (হাসান সহিহ); সুনান আবু দাউদ ১৪৮১ — ফাদালা ইবনু উবাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত
“তোমাদের কেউ যেন এভাবে না বলে: হে আল্লাহ, আপনি চাইলে আমাকে ক্ষমা করুন, আপনি চাইলে আমার ওপর রহম করুন। বরং দৃঢ়তার সঙ্গে চাইবে। কেননা আল্লাহকে বাধ্য করার মতো কেউ নেই।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৩৩৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬৭৯ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
“নিশ্চয়ই তোমাদের রব লজ্জাশীল ও দানশীল। বান্দা যখন তাঁর দিকে দুই হাত তোলে, তখন তা খালি ফিরিয়ে দিতে তিনি লজ্জাবোধ করেন।”
সুনান আবু দাউদ, হাদিস ১৪৮৮; জামে তিরমিজি, হাদিস ৩৫৫৬ (সহিহ) — সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত
দোয়া কবুলের প্রতিবন্ধক
“বান্দার দোয়া কবুল হতে থাকে, যতক্ষণ না সে কোনো গুনাহের বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দোয়া করে, এবং যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়া করে।” জিজ্ঞেস করা হলো, তাড়াহুড়া কী? তিনি বললেন: “সে বলে, আমি দোয়া করেছি, আবারও দোয়া করেছি, কিন্তু কবুল হতে দেখিনি। এরপর সে হতাশ হয়ে দোয়া করা ছেড়ে দেয়।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৭৩৫ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
হারাম খাদ্য, হারাম পানীয় ও হারাম পোশাকও দোয়া কবুলের বড় প্রতিবন্ধক (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০১৫)। বিস্তারিত দেখুন হালাল উপার্জন প্রবন্ধে।
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ৭:৫৫ • সহিহ বুখারি: ৯৩৫, ১১৪৫, ৬৩৩৯ • সহিহ মুসলিম: ৪৮২, ৭৫৮, ৮৫২, ১০১৫, ২৬৭৯, ২৭৩২, ২৭৩৫ • আবু দাউদ: ৫২১, ১৪৮১, ১৪৮৮, ১৫৩৬ • তিরমিজি: ২১২, ১৯০৫, ৩৪৭৭, ৩৫৫৬
Leave a Reply