পুরো কুরআনই বরকতময়। তবে সহিহ হাদিসে কিছু সূরা ও আয়াতের বিশেষ ফজিলতের কথা এসেছে, যেমন সূরা আল-ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত, সূরা আল-কাহফ, আল-মুলক ও আল-ইখলাস। নির্ভরযোগ্য সূত্রসহ এগুলোর ফজিলত তুলে ধরা হলো।
- সূরা আল-ফাতিহা: কুরআনের শ্রেষ্ঠ সূরা
- আয়াতুল কুরসি: শ্রেষ্ঠ আয়াত
- সূরা আল-বাকারা ও এর শেষ দুই আয়াত
- সূরা আল-কাহফ
- সূরা আল-মুলক
- সূরা আল-ইখলাস ও মুআওবিযাতাইন
সূরা আল-ফাতিহা: কুরআনের শ্রেষ্ঠ সূরা
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ
“পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সৃষ্টিকুলের রব। যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। যিনি বিচার দিবসের মালিক। আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই কাছে সাহায্য চাই। আমাদের সরল পথ দেখান, তাদের পথ যাদের আপনি নিয়ামত দিয়েছেন, তাদের পথ নয় যারা ক্রোধের শিকার এবং যারা পথভ্রষ্ট।”
সূরা আল-ফাতিহা ১:১–৭
নবীজি ﷺ আবু সাঈদ ইবনুল মুআল্লা (রা.)-কে বললেন, আমি তোমাকে কুরআনের সবচেয়ে মহান সূরাটি শিখিয়ে দেব। তারপর বললেন: “তা হলো ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’। এটিই ‘আস-সাবউল মাসানি’ (বারবার পঠিত সাত আয়াত) এবং মহান কুরআন, যা আমাকে দেওয়া হয়েছে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৪৪৭৪
لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ
“যে ব্যক্তি সূরা আল-ফাতিহা পড়ে না, তার নামাজ হয় না।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৭৫৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩৯৪ — উবাদা ইবনুস সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত
হাদিসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহ বলেন: “আমি নামাজকে (সূরা আল-ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দার মাঝে দুই ভাগে ভাগ করেছি। আর আমার বান্দা যা চায়, তা সে পাবে।” বান্দা প্রতিটি আয়াত পড়লে আল্লাহ তার জবাব দেন (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩৯৫)।
আয়াতুল কুরসি: শ্রেষ্ঠ আয়াত
নবীজি ﷺ উবাই ইবনু কাব (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে থাকা আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি সবচেয়ে মহান? তিনি বললেন: “আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম” (আয়াতুল কুরসি)। নবীজি ﷺ তাঁর বুকে হাত দিয়ে বললেন: “হে আবুল মুনযির, এই জ্ঞান তোমার জন্য আনন্দদায়ক হোক।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮১০ — আয়াতটি: সূরা আল-বাকারা ২:২৫৫
সূরা আল-বাকারা ও এর শেষ দুই আয়াত
“তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবরে পরিণত কোরো না। যে ঘরে সূরা আল-বাকারা পড়া হয়, শয়তান সেখান থেকে পালিয়ে যায়।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৭৮০ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
“যে ব্যক্তি রাতে সূরা আল-বাকারার শেষ দুটি আয়াত পড়বে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০০৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮০৭ — আবু মাসউদ আল-বাদরি (রা.) থেকে বর্ণিত — আয়াত দুটি: ২:২৮৫–২৮৬
সূরা আল-কাহফ
“যে ব্যক্তি সূরা আল-কাহফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, তাকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা করা হবে।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮০৯ — আবুদ দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত
সূরা আল-মুলক
“কুরআনে ত্রিশ আয়াতের একটি সূরা আছে, যা এক ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেছিল, ফলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। সেটি হলো ‘তাবারাকাল্লাযি বিয়াদিহিল মুলক’।”
জামে তিরমিজি, হাদিস ২৮৯১ (ইমাম তিরমিজি: হাসান); সুনান আবু দাউদ, হাদিস ১৪০০ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
সূরা আল-ইখলাস ও মুআওবিযাতাইন
“যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ (সূরা আল-ইখলাস) কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।”
সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০১৩ — আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে; অনুরূপ সহিহ মুসলিম ৮১১ — আবুদ দারদা (রা.) থেকে
“তুমি কি দেখোনি, আজ রাতে এমন কিছু আয়াত নাজিল হয়েছে যার মতো আর কখনো দেখা যায়নি? সেগুলো হলো ‘কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক’ এবং ‘কুল আউযু বিরাব্বিন নাস’।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮১৪ — উকবা ইবনু আমির (রা.) থেকে বর্ণিত
📚 তথ্যসূত্র
আল-কুরআন: ১:১–৭, ২:২৫৫, ২:২৮৫–২৮৬ • সহিহ বুখারি: ৭৫৬, ৪৪৭৪, ৫০০৯, ৫০১৩ • সহিহ মুসলিম: ৩৯৪, ৩৯৫, ৭৮০, ৮০৭, ৮০৯, ৮১০, ৮১১, ৮১৪ • তিরমিজি ২৮৯১, আবু দাউদ ১৪০০
Leave a Reply